তিন সন্তান বড় করেও শেষ বয়সে আশ্রয়হীন বৃদ্ধা জোছনা
- আপডেট সময় : ০৮:৫৬:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

সত্তরোর্ধ্ব জোছনা সরকার জীবনের শেষ প্রান্তে এসে এক চরম অনিশ্চিত ও মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এই বৃদ্ধা তিন সন্তানকে মানুষ করলেও বর্তমানে তার নিজের নামে কোনো জমি বা থাকার মতো জায়গা নেই। ফলে বয়সের ভারে ন্যুব্জ জোছনা সরকার অন্যের আশ্রয়ে কিংবা অনিশ্চিত পরিবেশে দিন কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন।
স্থানীয়দের মতে, জোছনা সরকারের আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। নিয়মিত আয়ের কোনো উৎস না থাকায় অনেক দিনই তার ভাগ্যে ঠিকমতো খাবার জোটে না। অনেক সময় প্রতিবেশী বা পরিচিতদের সহায়তায় কিংবা বিভিন্ন মন্দিরে প্রসাদ খেয়ে তাকে ক্ষুধা নিবারণ করতে হয়। অসুস্থতার জন্য চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ওষুধের খরচ বহন করাও তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
নিজের কষ্টের কথা তুলে ধরে জোছনা সরকার বলেন, ৫১ বছর আগে বিধবা হওয়ার পর রাজমিস্ত্রীর বাড়িতে কাজ করে এবং পরের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে তিন সন্তানকে বড় করেছেন। এখন সন্তানরা সংসার পেতেছে ঠিকই, কিন্তু তাদের আর্থিক অবস্থাও ভালো নয়। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, মাথা গোঁজার ঠাঁই বা খাবারের নিশ্চয়তা না থাকায় তাকে অন্যের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হয়। শেষ দিনগুলো শান্তিতে কাটানোর জন্য তিনি কিছুটা সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন।
স্থানীয় স্বর্ণকার ব্যবসায়ী মদন দাসসহ এলাকাবাসী এই বৃদ্ধার জন্য দ্রুত একটি নিরাপদ ঘর, সামান্য জমি এবং নিয়মিত খাবারের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় তাকে সহায়তা প্রদানের জন্য প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তারা।
এ বিষয়ে বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস. এম. রকিবুল হাসান জানান, জোছনা সরকারের অসহায়ত্বের বিষয়টি তিনি আগে জানতেন না। এখন বিষয়টি জানার পর দ্রুত সরকারি সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন।





























