ঢাকা ১০:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পাকিস্তানে জঙ্গিবাদবিরোধী সমাবেশে আত্মঘাতী বোমা হামলা, নিহত ১৪ রাঙ্গুনিয়ায় থামছে না পাহাড় কাটা, সক্রিয় নতুন সিন্ডিকেট মিশরের শারম আল-শেখে ৫.৬ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে ইবিতে সিসিআরটিবি’র বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, রোপণ করা হলো শতাধিক চারা ১২১ বছরের ইতিহাসে দক্ষিণ কোরিয়ায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড সেপ্টেম্বর-অক্টোবর বিরতিতে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল ও ইউরোপের বড় দলগুলোর সূচি আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি জুলাই আন্দোলনে জড়িত ৩৫ শতাংশ পুলিশ কর্মকর্তা এখনো বহাল হরমুজ ইস্যুতে সোমবার থেকে নতুন আলোচনার ঘোষণা ট্রাম্পের আফ্রিকার বিশাল বাজারে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কূটনীতির নতুন দিগন্ত

নীলফামারীতে স্লুইসগেট ধসে কৃষিজমি ও বসতবাড়ি হুমকির মুখে

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৫১:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

নীলফামারীর ডোমার উপজেলার হরিডারা নদীর ওপর নির্মিত একটি স্লুইসগেট পানির প্রবল চাপে ধসে পড়েছে। রবিবার দুপুরে উপজেলার জোড়াবাড়ী ইউনিয়নের পূর্ব হলহলিয়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। পানির নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় স্থানীয় প্রায় ৩০০ পরিবার চরম ভোগান্তিতে পড়েছে এবং শত শত বিঘা কৃষিজমি অনাবাদি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্যমতে, স্লুইসগেটটি দিয়ে নদীর পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা হতো। রবিবার সকাল থেকে গেটটি ধীরে ধীরে নিচের দিকে বসে যেতে থাকে। একপর্যায়ে পানি চলাচল বন্ধ হয়ে পানির চাপ বেড়ে যায়। এরপর সেতুর পাশের বাঁধ দিয়ে ইঁদুরের গর্তের মাধ্যমে পানি প্রবেশ শুরু করলে সেখানে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দেয়। অল্প সময়ের ব্যবধানেই ভাঙনটি বড় আকার ধারণ করে এবং স্লুইসগেটের পাশে অবস্থিত মৃত আবু সাঈদের স্ত্রী হালিমা বেগমের বসতবাড়ির অর্ধেক অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত হালিমা বেগম জানান, গেটের সঙ্গে পাটের ঝাঁক দেওয়া ছিল যা পানি আটকে রেখেছিল। তিনি গেটটি খুলে দেওয়ার জন্য চিৎকার করলেও কেউ সাড়া দেয়নি, যার ফলে ১০ মিনিটের মধ্যেই তার বাড়িটি ভেঙে নদীতে চলে যায়। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মালেক ও রহিমা বেগম জানান, এই স্লুইসগেটটি এলাকার পানি নিয়ন্ত্রণের প্রধান মাধ্যম ছিল। এটি ভেঙে যাওয়ায় বর্ষা ও শুষ্ক—উভয় মৌসুমেই কৃষকরা বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হবেন। কৃষক আহিনুর ইসলাম উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, স্লুইসগেট না থাকলে এর সামনের শত শত বিঘা জমিতে ধানসহ বিভিন্ন ফসল চাষ করা সম্ভব হবে না, যা কৃষকদের জন্য বড় আর্থিক ক্ষতির কারণ হবে।

জোড়াবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাখাওয়াত হাবীব বাবু ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করেছেন। তিনি জানান, দ্রুত জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ ও স্থায়ী সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। ডোমার উপজেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী ফিরোজ আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ইঁদুরের গর্ত দিয়ে পানি প্রবেশের কারণেই ভাঙনের সূত্রপাত হয়েছে। বর্তমানে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং যত দ্রুত সম্ভব নতুন সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

নীলফামারীতে স্লুইসগেট ধসে কৃষিজমি ও বসতবাড়ি হুমকির মুখে

আপডেট সময় : ০৯:৫১:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬
print news

নীলফামারীর ডোমার উপজেলার হরিডারা নদীর ওপর নির্মিত একটি স্লুইসগেট পানির প্রবল চাপে ধসে পড়েছে। রবিবার দুপুরে উপজেলার জোড়াবাড়ী ইউনিয়নের পূর্ব হলহলিয়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। পানির নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় স্থানীয় প্রায় ৩০০ পরিবার চরম ভোগান্তিতে পড়েছে এবং শত শত বিঘা কৃষিজমি অনাবাদি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্যমতে, স্লুইসগেটটি দিয়ে নদীর পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা হতো। রবিবার সকাল থেকে গেটটি ধীরে ধীরে নিচের দিকে বসে যেতে থাকে। একপর্যায়ে পানি চলাচল বন্ধ হয়ে পানির চাপ বেড়ে যায়। এরপর সেতুর পাশের বাঁধ দিয়ে ইঁদুরের গর্তের মাধ্যমে পানি প্রবেশ শুরু করলে সেখানে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দেয়। অল্প সময়ের ব্যবধানেই ভাঙনটি বড় আকার ধারণ করে এবং স্লুইসগেটের পাশে অবস্থিত মৃত আবু সাঈদের স্ত্রী হালিমা বেগমের বসতবাড়ির অর্ধেক অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত হালিমা বেগম জানান, গেটের সঙ্গে পাটের ঝাঁক দেওয়া ছিল যা পানি আটকে রেখেছিল। তিনি গেটটি খুলে দেওয়ার জন্য চিৎকার করলেও কেউ সাড়া দেয়নি, যার ফলে ১০ মিনিটের মধ্যেই তার বাড়িটি ভেঙে নদীতে চলে যায়। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মালেক ও রহিমা বেগম জানান, এই স্লুইসগেটটি এলাকার পানি নিয়ন্ত্রণের প্রধান মাধ্যম ছিল। এটি ভেঙে যাওয়ায় বর্ষা ও শুষ্ক—উভয় মৌসুমেই কৃষকরা বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হবেন। কৃষক আহিনুর ইসলাম উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, স্লুইসগেট না থাকলে এর সামনের শত শত বিঘা জমিতে ধানসহ বিভিন্ন ফসল চাষ করা সম্ভব হবে না, যা কৃষকদের জন্য বড় আর্থিক ক্ষতির কারণ হবে।

জোড়াবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাখাওয়াত হাবীব বাবু ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করেছেন। তিনি জানান, দ্রুত জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ ও স্থায়ী সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। ডোমার উপজেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী ফিরোজ আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ইঁদুরের গর্ত দিয়ে পানি প্রবেশের কারণেই ভাঙনের সূত্রপাত হয়েছে। বর্তমানে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং যত দ্রুত সম্ভব নতুন সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh