ঢাকা ০৮:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
যুদ্ধ জিতলে লুটের মালে বিজয়ীরই অধিকার, জাতিসংঘে ঘোষণা ট্রাম্পের বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের দুই প্রশাসনিক পদে সেনা কর্মকর্তাদের নিয়োগ জাতিসংঘের বিকল্প কেবলই কল্পনাতীত: ড. খলিলুর রহমান পুলিশের দাবি উন্নতি, বাস্তবে জনমনে নিরাপত্তাহীনতা ও উৎকণ্ঠা পাকিস্তানে অনলাইনে যৌন নিপীড়নের ফাঁদে ১৫ লাখ শিশু গাজায় বিশ্ববাসীর নিষ্ক্রিয়তা লজ্জাজনক: জাতিসংঘে ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ গাইবান্ধা সরকারি কলেজে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন বরণ অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগ নৈরাজ্য সৃষ্টি করলে স্থানীয়ভাবে প্রতিহত করার আহ্বান প্রিন্সের স্ত্রীর মৃত্যুর তদন্তে ঘুষ: অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশি নাগরিক গ্রেপ্তার দেবিদ্বারে মাকে কুপিয়ে ও আট মাসের ভাতিজিকে আছড়ে হত্যা

নীলফামারীতে স্লুইসগেট ধসে কৃষিজমি ও বসতবাড়ি হুমকির মুখে

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৯:৫১:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬ ১৯ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



নীলফামারীর ডোমার উপজেলার হরিডারা নদীর ওপর নির্মিত একটি স্লুইসগেট পানির প্রবল চাপে ধসে পড়েছে। রবিবার দুপুরে উপজেলার জোড়াবাড়ী ইউনিয়নের পূর্ব হলহলিয়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। পানির নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় স্থানীয় প্রায় ৩০০ পরিবার চরম ভোগান্তিতে পড়েছে এবং শত শত বিঘা কৃষিজমি অনাবাদি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্যমতে, স্লুইসগেটটি দিয়ে নদীর পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা হতো। রবিবার সকাল থেকে গেটটি ধীরে ধীরে নিচের দিকে বসে যেতে থাকে। একপর্যায়ে পানি চলাচল বন্ধ হয়ে পানির চাপ বেড়ে যায়। এরপর সেতুর পাশের বাঁধ দিয়ে ইঁদুরের গর্তের মাধ্যমে পানি প্রবেশ শুরু করলে সেখানে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দেয়। অল্প সময়ের ব্যবধানেই ভাঙনটি বড় আকার ধারণ করে এবং স্লুইসগেটের পাশে অবস্থিত মৃত আবু সাঈদের স্ত্রী হালিমা বেগমের বসতবাড়ির অর্ধেক অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত হালিমা বেগম জানান, গেটের সঙ্গে পাটের ঝাঁক দেওয়া ছিল যা পানি আটকে রেখেছিল। তিনি গেটটি খুলে দেওয়ার জন্য চিৎকার করলেও কেউ সাড়া দেয়নি, যার ফলে ১০ মিনিটের মধ্যেই তার বাড়িটি ভেঙে নদীতে চলে যায়। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মালেক ও রহিমা বেগম জানান, এই স্লুইসগেটটি এলাকার পানি নিয়ন্ত্রণের প্রধান মাধ্যম ছিল। এটি ভেঙে যাওয়ায় বর্ষা ও শুষ্ক—উভয় মৌসুমেই কৃষকরা বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হবেন। কৃষক আহিনুর ইসলাম উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, স্লুইসগেট না থাকলে এর সামনের শত শত বিঘা জমিতে ধানসহ বিভিন্ন ফসল চাষ করা সম্ভব হবে না, যা কৃষকদের জন্য বড় আর্থিক ক্ষতির কারণ হবে।

জোড়াবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাখাওয়াত হাবীব বাবু ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করেছেন। তিনি জানান, দ্রুত জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ ও স্থায়ী সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। ডোমার উপজেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী ফিরোজ আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ইঁদুরের গর্ত দিয়ে পানি প্রবেশের কারণেই ভাঙনের সূত্রপাত হয়েছে। বর্তমানে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং যত দ্রুত সম্ভব নতুন সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

নীলফামারীতে স্লুইসগেট ধসে কৃষিজমি ও বসতবাড়ি হুমকির মুখে

আপডেট সময় : ০৯:৫১:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

নীলফামারীর ডোমার উপজেলার হরিডারা নদীর ওপর নির্মিত একটি স্লুইসগেট পানির প্রবল চাপে ধসে পড়েছে। রবিবার দুপুরে উপজেলার জোড়াবাড়ী ইউনিয়নের পূর্ব হলহলিয়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। পানির নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় স্থানীয় প্রায় ৩০০ পরিবার চরম ভোগান্তিতে পড়েছে এবং শত শত বিঘা কৃষিজমি অনাবাদি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্যমতে, স্লুইসগেটটি দিয়ে নদীর পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা হতো। রবিবার সকাল থেকে গেটটি ধীরে ধীরে নিচের দিকে বসে যেতে থাকে। একপর্যায়ে পানি চলাচল বন্ধ হয়ে পানির চাপ বেড়ে যায়। এরপর সেতুর পাশের বাঁধ দিয়ে ইঁদুরের গর্তের মাধ্যমে পানি প্রবেশ শুরু করলে সেখানে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দেয়। অল্প সময়ের ব্যবধানেই ভাঙনটি বড় আকার ধারণ করে এবং স্লুইসগেটের পাশে অবস্থিত মৃত আবু সাঈদের স্ত্রী হালিমা বেগমের বসতবাড়ির অর্ধেক অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত হালিমা বেগম জানান, গেটের সঙ্গে পাটের ঝাঁক দেওয়া ছিল যা পানি আটকে রেখেছিল। তিনি গেটটি খুলে দেওয়ার জন্য চিৎকার করলেও কেউ সাড়া দেয়নি, যার ফলে ১০ মিনিটের মধ্যেই তার বাড়িটি ভেঙে নদীতে চলে যায়। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মালেক ও রহিমা বেগম জানান, এই স্লুইসগেটটি এলাকার পানি নিয়ন্ত্রণের প্রধান মাধ্যম ছিল। এটি ভেঙে যাওয়ায় বর্ষা ও শুষ্ক—উভয় মৌসুমেই কৃষকরা বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হবেন। কৃষক আহিনুর ইসলাম উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, স্লুইসগেট না থাকলে এর সামনের শত শত বিঘা জমিতে ধানসহ বিভিন্ন ফসল চাষ করা সম্ভব হবে না, যা কৃষকদের জন্য বড় আর্থিক ক্ষতির কারণ হবে।

জোড়াবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাখাওয়াত হাবীব বাবু ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করেছেন। তিনি জানান, দ্রুত জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ ও স্থায়ী সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। ডোমার উপজেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী ফিরোজ আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ইঁদুরের গর্ত দিয়ে পানি প্রবেশের কারণেই ভাঙনের সূত্রপাত হয়েছে। বর্তমানে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং যত দ্রুত সম্ভব নতুন সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh