যশোরে জামায়াত এমপির বাড়ি ঘেরাও, পাল্টাপাল্টি অভিযোগে উত্তপ্ত নীলগঞ্জ

- আপডেট সময় : ০৪:২৮:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক গোলাম রসুলের বাড়ি ঘেরাওকে কেন্দ্র করে যশোর শহরের নীলগঞ্জ এলাকার প্রফেসরপাড়া উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে স্থানীয়দের বিক্ষোভের পর সন্ধ্যায় জেলা জামায়াত প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। জেলা পুলিশ জানিয়েছে, স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে বুধবার সব পক্ষকে নিয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জেলা জামায়াতের উদ্যোগে শহরের ঈদগাহ ময়দান থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়, যা দড়াটানা ভৈরব চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। সংক্ষিপ্ত সমাবেশে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আবু জাফর সিদ্দিকী অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে সংসদ সদস্যের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে এবং তাকে ও তার পরিবারকে সারাদিন অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, প্রশাসন আগে কার্যকর পদক্ষেপ নিলে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না। পাশাপাশি, জেলা পুলিশ সুপার ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং বুধবার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ ও অভিভাবকদের নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।
এর আগে সকালে সংসদ সদস্যের বাড়ির বিপরীতে অবস্থিত আল-মাদ্রাসাতুল শারইয়্যাহকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, সংসদ সদস্যের মেয়ে মেহেজাবিন জান্নাত অনন্যা কয়েকজন শিশুকে মারধর করেছেন। পরবর্তীতে শিশুদের অভিভাবকদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে রেকসোনা বেগম নামে এক নারী অভিভাবকের মাথায় তালা দিয়ে আঘাত করার অভিযোগ ওঠে। এর প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা সংসদ সদস্যের বাড়ি ঘেরাও করেন এবং রাস্তায় অবস্থান নেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দুপুরে যশোরের পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থলে যান। তিনি জানান, মাদ্রাসায় শিশুদের যাতায়াত এবং সংকীর্ণ রাস্তা ব্যবহার নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি থেকেই এই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বুধবার মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ, অভিভাবক ও এলাকার বাড়ির মালিকদের নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি স্থায়ীভাবে সমাধান করা যাবে। এটি বড় কোনো ইস্যু নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
ঘটনার পর দুপুরে নিজের ফেসবুক পেজে লাইভে এসে সংসদ সদস্য গোলাম রসুল দাবি করেন, তিনি মাদ্রাসার সামনে রাস্তা খোলা রাখার বিষয়ে কথা বলতে গেলে অভিভাবকরা তাকে ঘিরে ধরেন। তার অভিযোগ, পরে তার স্ত্রী ও মেয়েকে মারধর করা হয় এবং তাদের বাসায় নিয়ে আসার পর বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। তিনি আরও জানান, তার মেয়ে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ও অগ্ন্যাশয়ের জটিল রোগে আক্রান্ত এবং চিকিৎসাধীন। তিনি বাড়ির গ্যারেজে দাহ্য পদার্থ ছিটিয়ে আগুন দেওয়ার আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করেন। সবশেষে তিনি শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো ভুল হয়ে থাকলে তিনি ক্ষমা প্রার্থী এবং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান চান। মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি।




























