ঢাকা ০৩:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
তীব্র আপত্তিতে ভেস্তে গেল সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ির খরচ কমানোর উদ্যোগ ম্যানিলায় তীব্র বিক্ষোভের মুখে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সমালোচকদের কড়া জবাব দিয়ে সমর্থকদের ধন্যবাদ জানালেন ম্যাক অ্যালিস্টার নিট প্রশ্নফাঁস: আলোচনার উদ্যোগ সরকারকেই নিতে হবে বলছে সিজেপি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের গ্রাফিতি সংরক্ষণে পুনর্লিখনের উদ্যোগ ঢাবি প্রশাসনের মাদক ও অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্সের বার্তা সাগর-রুনি হত্যা মামলা: তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নতুন তারিখ ২৭ আগস্ট ভৈরবে জানাজায় উসকানিমূলক স্লোগান: স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেপ্তার নতুন প্রকল্পে পুরোনো কর্মীরা ৭ মাস বেতনহীন, নিয়োগ পেয়েছেন লাখ টাকার পরামর্শক ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর উন্নয়নে সরকার কাজ করছে: ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল

দেড় মাসেই ভাঙল পদ্মার স্থায়ী বাঁধ, লৌহজংয়ে চরম উৎকণ্ঠায় বাসিন্দারা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:২২:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় পদ্মার ভাঙন রোধে নির্মিত একটি স্থায়ী নদী রক্ষা বাঁধ উদ্বোধনের মাত্র দেড় মাসের মাথায় ধসে পড়েছে। উপজেলার গাঁওদিয়া ইউনিয়নে নির্মিত এই বাঁধের একটি অংশ পদ্মার তীব্র স্রোতে বিলীন হওয়ায় নদীপাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে তীব্র ভাঙন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সিসি ব্লকগুলো একে একে নদীতে তলিয়ে যাওয়ায় আশপাশের বহু পরিবার এখন নিজেদের ঘরবাড়ি ও শেষ সম্বল হারানোর শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবার বিকেলে গাঁওদিয়া ইউনিয়ন বাজারের পশ্চিম পাশে নদী তীর রক্ষা বাঁধে হঠাৎ এই ধস দেখা দেয়। কোনো ধরনের পূর্ব সতর্কবার্তা বা বড় শব্দ ছাড়াই বাঁধের সিসি ব্লকগুলো পদ্মার প্রবল স্রোতে ভেসে যেতে শুরু করে। নদীপাড়ের বাসিন্দা মহিদুল জানান, প্রথমে কয়েকটি ব্লক সরে গেলেও মুহূর্তের মধ্যে বড় একটি অংশ নদীগর্ভে তলিয়ে যায়। এই দৃশ্য দেখে আতঙ্কিত হয়ে নদীপাড়ের কাছাকাছি বসবাসকারী বহু পরিবার রাতেই ঘরের মূল্যবান জিনিসপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে শুরু করে।

নদীপাড়ের বাসিন্দাদের অভিযোগ, যে বাঁধকে ভাঙন সমস্যার ‘স্থায়ী সমাধান’ হিসেবে প্রচার করা হয়েছিল, তা এত অল্প সময়ের মধ্যে ধসে পড়ার পেছনে নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার এবং নিয়ম না মানার মতো অনিয়ম জড়িত থাকতে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা তাহের মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রায় ৩০ বছর আগে পদ্মার ভাঙনে তিনি দুইবার নিজের সবকিছু হারিয়েছেন। বাঁধ নির্মাণের পর ভেবেছিলেন এবার হয়তো শান্তিতে ঘুমাতে পারবেন, কিন্তু মাত্র দেড় মাসেই বাঁধের এই বেহাল দশা তাদের আবার অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।

বাঁধ ধসে পড়ার খবর পাওয়ার পর গত সোমবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা ববি মিতু। তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তারা ফাটল ধরা স্থানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

মুন্সীগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী শেখ এনামুল হক অবশ্য দাবি করেছেন, বর্তমানে ভয়ের কোনো কারণ নেই। খবর পাওয়ার পর থেকেই পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। তিনি জানান, পদ্মায় পানি ও স্রোতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীর তীরের মাটি সরে গিয়ে এই ধস দেখা দিয়েছে। বর্তমানে সেখানে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা চলছে। তবে বাঁধ নির্মাণের মান বা নিয়ম মানা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এদিকে শুধু গাঁওদিয়া নয়, মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার বাংলাবাজার ও শিলই ইউনিয়ন এবং টঙ্গীবাড়ী উপজেলার দিঘীরপাড় ইউনিয়নের নদী তীরবর্তী বিভিন্ন গ্রামেও নতুন করে পদ্মার ভাঙন দেখা দিয়েছে। সেখানকার বাসিন্দারাও এখন নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, পদ্মা বহুমুখী সেতুর ভাটিতে মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং ও টঙ্গীবাড়ী উপজেলাধীন বিভিন্ন স্থানে পদ্মা নদীর বাম তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০২১ সালের অক্টোবরে। ৫২৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৯ দশমিক ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ এলাকায় এই স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের মেয়াদকাল ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত থাকলেও পরবর্তীতে তা আরও বাড়ানো হয়েছে। তবে এই বিশাল বাজেটের প্রকল্পের কাজের ধীরগতি এবং বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy

নিউজটি শেয়ার করুন

দেড় মাসেই ভাঙল পদ্মার স্থায়ী বাঁধ, লৌহজংয়ে চরম উৎকণ্ঠায় বাসিন্দারা

আপডেট সময় : ০২:২২:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
print news

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় পদ্মার ভাঙন রোধে নির্মিত একটি স্থায়ী নদী রক্ষা বাঁধ উদ্বোধনের মাত্র দেড় মাসের মাথায় ধসে পড়েছে। উপজেলার গাঁওদিয়া ইউনিয়নে নির্মিত এই বাঁধের একটি অংশ পদ্মার তীব্র স্রোতে বিলীন হওয়ায় নদীপাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে তীব্র ভাঙন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সিসি ব্লকগুলো একে একে নদীতে তলিয়ে যাওয়ায় আশপাশের বহু পরিবার এখন নিজেদের ঘরবাড়ি ও শেষ সম্বল হারানোর শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবার বিকেলে গাঁওদিয়া ইউনিয়ন বাজারের পশ্চিম পাশে নদী তীর রক্ষা বাঁধে হঠাৎ এই ধস দেখা দেয়। কোনো ধরনের পূর্ব সতর্কবার্তা বা বড় শব্দ ছাড়াই বাঁধের সিসি ব্লকগুলো পদ্মার প্রবল স্রোতে ভেসে যেতে শুরু করে। নদীপাড়ের বাসিন্দা মহিদুল জানান, প্রথমে কয়েকটি ব্লক সরে গেলেও মুহূর্তের মধ্যে বড় একটি অংশ নদীগর্ভে তলিয়ে যায়। এই দৃশ্য দেখে আতঙ্কিত হয়ে নদীপাড়ের কাছাকাছি বসবাসকারী বহু পরিবার রাতেই ঘরের মূল্যবান জিনিসপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে শুরু করে।

নদীপাড়ের বাসিন্দাদের অভিযোগ, যে বাঁধকে ভাঙন সমস্যার ‘স্থায়ী সমাধান’ হিসেবে প্রচার করা হয়েছিল, তা এত অল্প সময়ের মধ্যে ধসে পড়ার পেছনে নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার এবং নিয়ম না মানার মতো অনিয়ম জড়িত থাকতে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা তাহের মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রায় ৩০ বছর আগে পদ্মার ভাঙনে তিনি দুইবার নিজের সবকিছু হারিয়েছেন। বাঁধ নির্মাণের পর ভেবেছিলেন এবার হয়তো শান্তিতে ঘুমাতে পারবেন, কিন্তু মাত্র দেড় মাসেই বাঁধের এই বেহাল দশা তাদের আবার অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।

বাঁধ ধসে পড়ার খবর পাওয়ার পর গত সোমবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা ববি মিতু। তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তারা ফাটল ধরা স্থানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

মুন্সীগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী শেখ এনামুল হক অবশ্য দাবি করেছেন, বর্তমানে ভয়ের কোনো কারণ নেই। খবর পাওয়ার পর থেকেই পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। তিনি জানান, পদ্মায় পানি ও স্রোতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীর তীরের মাটি সরে গিয়ে এই ধস দেখা দিয়েছে। বর্তমানে সেখানে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা চলছে। তবে বাঁধ নির্মাণের মান বা নিয়ম মানা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এদিকে শুধু গাঁওদিয়া নয়, মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার বাংলাবাজার ও শিলই ইউনিয়ন এবং টঙ্গীবাড়ী উপজেলার দিঘীরপাড় ইউনিয়নের নদী তীরবর্তী বিভিন্ন গ্রামেও নতুন করে পদ্মার ভাঙন দেখা দিয়েছে। সেখানকার বাসিন্দারাও এখন নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, পদ্মা বহুমুখী সেতুর ভাটিতে মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং ও টঙ্গীবাড়ী উপজেলাধীন বিভিন্ন স্থানে পদ্মা নদীর বাম তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০২১ সালের অক্টোবরে। ৫২৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৯ দশমিক ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ এলাকায় এই স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের মেয়াদকাল ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত থাকলেও পরবর্তীতে তা আরও বাড়ানো হয়েছে। তবে এই বিশাল বাজেটের প্রকল্পের কাজের ধীরগতি এবং বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy