সালিশি বৈঠককে কেন্দ্র করে রূপগঞ্জে সশস্ত্র হামলা, গুলি ও লুটপাটের ঘটনায় মামলা
- আপডেট সময় : ০৮:৩৭:১৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬ ২২ বার পড়া হয়েছে

মোঃ ইসমাইল হোসেন
স্টাফ রিপোর্টার:
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলা উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের বরুনা এলাকায় সালিশি বৈঠককে কেন্দ্র করে সশস্ত্র হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় রূপগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে আহত রিপন মিয়া বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় শরিফ, সজিব ও রাজিবসহ ২১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এএইচএম সালাউদ্দিন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২ মে বরুনা পশ্চিমপাড়া এলাকায় অটোরিকশা থামিয়ে বাদী রিপন মিয়ার চাচাতো ভাই আলাল খাঁকে মারধর করে প্রতিপক্ষ শরিফ ও তার সহযোগীরা। এ বিরোধ মীমাংসার লক্ষ্যে গত সোমবার (১১ মে) সকাল ১১টার দিকে বরুনা মধ্যপাড়া জামে মসজিদে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একটি সালিশি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
অভিযোগে বলা হয়, বৈঠক চলাকালে শরিফ (৩২), সজিব (২৪), বিপন (৪২) ও রাজিবের (২৮) নেতৃত্বে ২০-২১ জন নামধারী এবং আরও ১৫-২০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি পিস্তল, রামদা, ছেনি ও লোহার রড নিয়ে হামলা চালায়। হামলাকারীরা উপস্থিত লোকজনকে মারধর করে এবং এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করতে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে।
এসময় হামলাকারীরা কায়েতপাড়া ইউনিয়নের বিএনপির একটি ক্লাব ভাঙচুর করে প্রায় ১ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করে বলে অভিযোগ করা হয়। পরে তারা বরুনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের জয়নাল আবেদীন ও নবীর হোসেনের বাড়িতে প্রবেশ করে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। অভিযোগে বলা হয়েছে, সন্ত্রাসীরা ঘরের আলমারি ভেঙে নগদ ১ লাখ টাকা এবং প্রায় ১ ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যায়, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ২ লাখ টাকা।
হামলায় বাদীর ছোট ভাই মোমেন (২৮) গুরুতর আহত হন। তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় কোপ দেওয়া হলে তিনি হাত দিয়ে ঠেকানোর চেষ্টা করেন। এতে তার বাম হাতের কনুইয়ের নিচে এবং ডান পায়ের উরুতে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়। এছাড়া আমানত খাঁ ও বেলাল হোসেনসহ আরও কয়েকজন আহত হন। আহতদের প্রথমে রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ নেওয়া হলে পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ পাঠানো হয়।
বাদী রিপন খান বলেন, “সন্ত্রাসীরা এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। তারা প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি করেছে। আমরা বর্তমানে জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। ঘটনার সময় স্থানীয়রা মোবাইলে ভিডিও ধারণ করেছেন, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।”
উল্লেখ্য, গত সোমবার দুপুরে বিচার-সালিশকে কেন্দ্র করে স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হন।


























