ঢাকা ০৯:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ২৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ফুলগাজীর আমজাদহাটে জাল টাকার নোট সহ আটক-১ কুমিল্লায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১ যুবক নিহত চাঁদপুর কালিবাড়ি মোড়ে কাশ্মীরি সুইটস এন্ড লাইফ বেকারিতে মোবাইল কোর্ট, জরিমানা রূপগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবকদলের দুই গ্রুপের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, গোলাগুলি-ভাঙচুর-লুটপাটে আহত ১৫ কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কাজ করছে সরকার: ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু দিনাজপুরে ভুল সেটে পরীক্ষা, সচিব ও ট্যাগ অফিসারকে অব্যাহতি পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ কল্যাণ সভায় ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে রংপুর জেলা পুলিশ কর্তৃক অংশগ্রহণ ও প্রীতিভোজ অনুষ্ঠিত ১,৬৯,০০০ টাকা সমমূল্যের মাদকদ্রব্য ও চোরাচালানী মালামাল জব্দ অসহায়-দুঃস্থ্য শ্রমিক ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে ৬৮ লক্ষ টাকার চেক হস্থান্তর সাভার মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচলের দাবিতে চালকদের বিক্ষোভ

দিনাজপুরে ভুল সেটে পরীক্ষা, সচিব ও ট্যাগ অফিসারকে অব্যাহতি

মোঃ রাব্বি হাসান, দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৪:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬ ৩২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

মোঃ রাব্বি হাসান,
দিনাজপুর প্রতিনিধি:

দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের একটি কেন্দ্রে চলমান এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় নির্ধারিত সেটের পরিবর্তে ভুল সেট কোডে পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে।

রোববার (১০ মে) দিনাজপুর শহরের ইকবাল উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দায়িত্ব অবহেলার দায়ে কেন্দ্র সচিব ও সংশ্লিষ্ট ট্যাগ অফিসারকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

অব্যাহতিপ্রাপ্তরা হলেন:- ইকবাল উচ্চবিদ্যালয়ের কেন্দ্র সচিব সেলিমা সুলতানা এবং ট্যাগ অফিসার ও দিনাজপুর সদর উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম। দিনাজপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এ এস এম হাসিবুর রহমান অব্যাহতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, রোববার সারা দেশে বিজ্ঞান বিভাগের পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী লটারির মাধ্যমে নির্ধারিত সেটে পরীক্ষা নেওয়ার কথা।

এদিন সকাল ৯টায় শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান অধ্যাপক তহিদুল ইসলাম লটারির মাধ্যমে “১ নম্বর সেট” প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার নির্দেশনা দেন। নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি কেন্দ্রে নির্ধারিত সেটের প্রশ্ন সরবরাহের দায়িত্ব ছিল ট্যাগ অফিসারদের। তবে অভিযোগ উঠেছে, ইকবাল উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে ট্যাগ অফিসার ও কেন্দ্র সচিব বিষয়টি যথাযথভাবে যাচাই না করেই ‘৩ নম্বর সেট’ প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা গ্রহণ করেন। পরীক্ষার্থীরা ওই প্রশ্নপত্রেই পরীক্ষা শেষ করে হল ত্যাগ করে। পরে অন্য কেন্দ্রের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রশ্ন মিলিয়ে দেখার সময় বিষয়টি জানাজানি হয়। এতে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।

ভুক্তভোগী এক পরীক্ষার্থীর অভিভাবক শামসুল হুদা জানান, শুধু একটি কেন্দ্রে আলাদা সেট কোডে পরীক্ষা হওয়ায় তারা সন্তানদের ফলাফল নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান না হলে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বোরহান উদ্দিন জানান, বিষয়টি জানার পর শিক্ষা বোর্ড জরুরি বৈঠক করেছে। তিনি পরীক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে বলেন, ওই কেন্দ্রের পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার খাতাগুলো বিশেষ ব্যবস্থায় মূল্যায়ন করা হবে। ফলে শিক্ষার্থীদের ফলাফলে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। তাদের দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

রিয়েল এস্টেট পরামর্শ প্রশাসন জানিয়েছে, দায়িত্বে অবহেলার কারণে অব্যাহতি দেওয়া কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করা হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ভুল এড়াতে জেলার সব পরীক্ষা কেন্দ্রকে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে ওই কেন্দ্রের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং বোর্ড কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

 

দিনাজপুরে ভুল সেটে পরীক্ষা, সচিব ও ট্যাগ অফিসারকে অব্যাহতি

আপডেট সময় : ০৯:৪৪:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬
print news

মোঃ রাব্বি হাসান,
দিনাজপুর প্রতিনিধি:

দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের একটি কেন্দ্রে চলমান এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় নির্ধারিত সেটের পরিবর্তে ভুল সেট কোডে পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে।

রোববার (১০ মে) দিনাজপুর শহরের ইকবাল উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দায়িত্ব অবহেলার দায়ে কেন্দ্র সচিব ও সংশ্লিষ্ট ট্যাগ অফিসারকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

অব্যাহতিপ্রাপ্তরা হলেন:- ইকবাল উচ্চবিদ্যালয়ের কেন্দ্র সচিব সেলিমা সুলতানা এবং ট্যাগ অফিসার ও দিনাজপুর সদর উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম। দিনাজপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এ এস এম হাসিবুর রহমান অব্যাহতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, রোববার সারা দেশে বিজ্ঞান বিভাগের পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী লটারির মাধ্যমে নির্ধারিত সেটে পরীক্ষা নেওয়ার কথা।

এদিন সকাল ৯টায় শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান অধ্যাপক তহিদুল ইসলাম লটারির মাধ্যমে “১ নম্বর সেট” প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার নির্দেশনা দেন। নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি কেন্দ্রে নির্ধারিত সেটের প্রশ্ন সরবরাহের দায়িত্ব ছিল ট্যাগ অফিসারদের। তবে অভিযোগ উঠেছে, ইকবাল উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে ট্যাগ অফিসার ও কেন্দ্র সচিব বিষয়টি যথাযথভাবে যাচাই না করেই ‘৩ নম্বর সেট’ প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা গ্রহণ করেন। পরীক্ষার্থীরা ওই প্রশ্নপত্রেই পরীক্ষা শেষ করে হল ত্যাগ করে। পরে অন্য কেন্দ্রের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রশ্ন মিলিয়ে দেখার সময় বিষয়টি জানাজানি হয়। এতে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।

ভুক্তভোগী এক পরীক্ষার্থীর অভিভাবক শামসুল হুদা জানান, শুধু একটি কেন্দ্রে আলাদা সেট কোডে পরীক্ষা হওয়ায় তারা সন্তানদের ফলাফল নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান না হলে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বোরহান উদ্দিন জানান, বিষয়টি জানার পর শিক্ষা বোর্ড জরুরি বৈঠক করেছে। তিনি পরীক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে বলেন, ওই কেন্দ্রের পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার খাতাগুলো বিশেষ ব্যবস্থায় মূল্যায়ন করা হবে। ফলে শিক্ষার্থীদের ফলাফলে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। তাদের দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

রিয়েল এস্টেট পরামর্শ প্রশাসন জানিয়েছে, দায়িত্বে অবহেলার কারণে অব্যাহতি দেওয়া কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করা হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ভুল এড়াতে জেলার সব পরীক্ষা কেন্দ্রকে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে ওই কেন্দ্রের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং বোর্ড কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে।