জ্বালানী সংকট ভয়াবহ তেল নেই বন্ধের পথে পাম্প
- আপডেট সময় : ১১:৫৬:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬ ৬৫ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার
রংপুর:
রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জ্বালানি তেলের সংকট দিন দিন তীব্র আকার ধারণ করছে। সরবরাহের ঘাটতির কারণে যে কোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে পেট্রোল পাম্প এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংশ্লিষ্টরা। এতে করে সাধারণ মানুষের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ, আর জনজীবনে দেখা দিচ্ছে অনিশ্চয়তা।
তেল সরবরাহ মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ায় পাম্পগুলো চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি দিতে পারছে না। প্রতিদিনই দেখা যাচ্ছে, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনের দীর্ঘ লাইন। অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তেল পাচ্ছেন না। এতে ক্ষোভ, হতাশা আর বিরক্তি বাড়ছে গ্রাহকদের মধ্যে। কেউ কেউ কাজ ফেলে শুধু তেলের লাইনে দাঁড়িয়ে সময় পার করছেন, আবার অনেকে বাধ্য হয়ে খালি হাতেই ফিরে যাচ্ছেন।
এই সংকটের প্রভাব পড়েছে পাম্পের কর্মীদের ওপরও। সীমিত তেল দিয়ে বিপুল সংখ্যক গ্রাহককে সামাল দিতে গিয়ে তাদের পড়তে হচ্ছে চরম চাপের মধ্যে। প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও তৈরি হচ্ছে কথা কাটাকাটি, এমনকি ছোটখাটো উত্তেজনাকর পরিস্থিতিও। কর্মীদের দাবি, এভাবে টানা চাপের মধ্যে কাজ করা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ছে।
অভিযোগ উঠেছে, অয়েল কোম্পানিগুলো থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে না। ফলে চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বড় ধরনের ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে। দেশে বিপুল সংখ্যক মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহন থাকায় এই সংকট আরও প্রকট হয়ে উঠছে।
বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, রংপুর জেলা শাখা জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতি দ্রুত সমাধান না হলে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়তে পারে। একই সঙ্গে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে যে কোনো সময় রংপুরসহ সারাদেশের পেট্রোল পাম্প বন্ধ করে দিতে বাধ্য হতে পারেন মালিকরা।
জ্বালানি সংকটের এই পরিস্থিতিতে ইতোমধ্যে জনজীবনে প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। ব্যাহত হচ্ছে পরিবহন চলাচল, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ দৈনন্দিন নানা কার্যক্রম। সাধারণ মানুষ বলছেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যেতে পারে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করতে জরুরি ভিত্তিতে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় এই সংকট রূপ নিতে পারে বড় ধরনের জনদুর্ভোগে, যার প্রভাব পড়বে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ও মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার ওপর।


























