ঢাকা ০৫:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সূত্রাপুরে ডিবি পরিচয়ে সাড়ে ১১ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ গ্রেফতার ১ গাজীপুরে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাত, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় দাপট, আতঙ্কে পরিবার শীতলক্ষ্যা নদীতে জাহাজ থেকে পড়ে শ্রমিক নিখোঁজ, উদ্ধার অভিযান চলছে সদ্যপুস্করনীতে ইয়াবা ও চোলাইমদ সহ একজন গ্রেফতার চন্দ্রগঞ্জ নিউমার্কেটে তরমুজ ব্যবসায়ী ও মোবাইল দোকানদারদের মধ্যে সংঘর্ষে মানববন্ধন শেরপুরে জমি রেজিস্ট্রিতে চরম ভোগান্তি। মুগদা বিশ্বরোড় সিঙ্গার গলিতে ভাঙ্গা সড়ক, চরম দুর্ভোগে এলাকাবাসী ফেনীতে জ্বালানি তেলের সংকট ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ রাজধানীতে একই পরিবারের ৪ জনকে কুপিয়ে জখম, নিহত ১ রংপুর সাংস্কৃতিক ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে রসিক প্রশাসককে গণসংবর্ধনা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর ওপর পুলিশে হামলার প্রতিবাদে শাহবাগ থানা ঘেরাও

ফখরুল আলম সাজু
  • আপডেট সময় : ১১:৩৮:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৯২ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

ফখরুল আলম সাজু

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাঈম উদ্দীনসহ দুই দর্শনার্থীর ওপর পুলিশি হামলার প্রতিবাদে শাহবাগ থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার দুপুর ১টায় রাজধানীর শাহবাগ থানার সামনে জড়ো হয়ে তারা ৩টি দাবি তুলে ধরেন।

বিক্ষোভকারীরা হারুন গেছে যে পথে, মাসুদ যাবে সে পথে, আমার ভাইকে মারলো কেন, প্রশাসন চাই, শাহবাগ থানা জবাব চাই, আমার ভাইকে মারলো কেন, মাসুদের গদিতে, আগুন জ্বালো একসাথে সহ নানা স্লোগান দেন।

সোমবার রাতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে ২ সাংবাদিক, শিক্ষার্থী নাঈম উদ্দীন সহ কয়েকজন দর্শনার্থী পুলিশের মারধরের শিকার হয়।

ভুক্তভোগী দুই সাংবাদিক হলেন, বাংলানিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের তোফায়েল আহমেদ (২৫) এবং আজকের পত্রিকার কাউসার আহমেদ রিপন (২৭)।

সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, একদল পুলিশ সদস্য তোফায়েলকে লাঠি দিয়ে নির্বিচারে পেটাচ্ছেন, পরে অন্য পুলিশ সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যান।

অভিযান চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়, তাদের মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী এবং বিপ্লবী ছাত্র যুব আন্দোলনের ঢাকা মহানগর ইউনিটের আহ্বায়ক নাঈম উদ্দীনকে পুলিশের মারধরের একটি ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়েছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, ডিসি মাসুদ আলমের সঙ্গে কথা বলার সময় নাঈমকে পেছন থেকে টেনে-হিঁচড়ে মাটিতে ফেলে লাঠি দিয়ে পেটাচ্ছেন এক পুলিশ সদস্য।

বিক্ষোভে নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী কাফিরা জাহান বলেন, পুলিশ সহ যেকোনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রশ্ন করতে পারা নাগরিক অধিকার, অনেক লম্বা সময় ধরে আমাদের এই নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে, গতকাল নাঈমের উপর হামলা পুলিশের সবসময় করা ইগো ভিত্তিক ভায়োলেন্সের অংশ।

গতকাল নাঈম উদ্যানে হাঁটছিল, ওরে প্রশ্ন করা হয়ছে, নাঈম দেখায়ছে, ওর কাছে কিছু নাই, নাইম কেন প্রশ্ন করছে পুলিশের কাছে, এজন্য ওরে মারা হয়ছে, এটা কোনো জায়গার ন্যায়, এর জবাবদিহিতা কে দিবে, আমরা কোনো জবাবদিহিতা চাই না, আমরা ডিসি মাসুদ ও তার বাহিনীর বিচার চাই।

সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, সরকারকে আঙ্গুল চোষার জন্য ক্ষমতায় আনিনি, আপনারা ক্ষমতায় এসে এখন রাষ্ট্র সংস্কারে নামেন, আমাদের মারার জন্য পুলিশ নামালে তার ফল কী হতে পারে, তা আপনাদের জানার কথা।

থিয়েটার বিভাগের শিক্ষার্থী আশরাফুল আলম বলেন, বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে বিভাজন করার জন্য রাষ্ট্রীয় বাহিনীগুলো উঠে পড়ে লেগেছে, পুলিশ যখন এ ধরনের নিপীড়ন মূলক কর্মকাণ্ড করে, বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ফেইসবুকে ঠিক-বেঠিক লিখছে।

কিন্তু আপনাদের মনে রাখতে হবে, আজকে এটা আমার সাথে ঘটছে, কালকে এটা আপনাদের সাথে হবে।

তিনি বলেন, আজ আপনি মনে করছেন, একজন মাদকসেবী এই সন্দেহে তাকে হ্যারাজ করা যায়, কালকে আপনাকে ছাত্রদল সন্দেহে, ছাত্রশিবির সন্দেহে, ছাত্রলীগ সন্দেহে, যেকোনো সন্দেহে পুলিশ হ্যারাজ করতে পারে।

পুলিশের এই হ্যারাজমেন্টের বিরুদ্ধে আমাদের কথা বলতে হবে, পুলিশের এ ধরনের হ্যারাজমেন্টে চলতে থাকলে আমি-আপনি কেউ নিরাপদ না।

বিক্ষোভ শেষে তিন দফা দাবি তুলে ধরেন বিজ্ঞান বিভাগের আবদুল্লাহ হেল বুবুন, দাবির মধ্যে রয়েছে—

১, ডিসি মাসুদ সহ হামলায় অংশ নেওয়া প্রত্যেক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে শাস্তির ব্যবস্হা নেওয়া।

২, ক্যাম্পাস এলাকার ভেতরে ও বাইরে সব ধরনের পুলিশিং বন্ধ করা।

৩, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও মানবাধিকার নিশ্চিত করা।

পুলিশ হামলার প্রতিবাদে এদিন বেলা ১২টায় রাজু ভাষ্কর্যের পাদদেশ বিক্ষোভ করে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন।

সোহরাওয়ার্দীর ঘটনার বিষয়ে নাঈম উদ্দীন বলেন, আমরা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বহু ভাষার সন্ধ্যা শীর্ষক একটি অনুষ্ঠান নিয়ে আলোচনা করছিলাম এবং ফেরার পথে পুলিশ আমাদের মুখোমুখি হয়।

পরে তারা আমাদের কাছে অবৈধ কিছু না পেয়ে অভিযোগ তোলেন যে আমরা নাকি তাদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়েছি। আমার মাথা, হাত ও পায়ে চোট লেগেছে, আমার সঙ্গ থাকা আরও এক বন্ধুকেও তারা মেরেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর ওপর পুলিশে হামলার প্রতিবাদে শাহবাগ থানা ঘেরাও

আপডেট সময় : ১১:৩৮:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
print news

ফখরুল আলম সাজু

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাঈম উদ্দীনসহ দুই দর্শনার্থীর ওপর পুলিশি হামলার প্রতিবাদে শাহবাগ থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার দুপুর ১টায় রাজধানীর শাহবাগ থানার সামনে জড়ো হয়ে তারা ৩টি দাবি তুলে ধরেন।

বিক্ষোভকারীরা হারুন গেছে যে পথে, মাসুদ যাবে সে পথে, আমার ভাইকে মারলো কেন, প্রশাসন চাই, শাহবাগ থানা জবাব চাই, আমার ভাইকে মারলো কেন, মাসুদের গদিতে, আগুন জ্বালো একসাথে সহ নানা স্লোগান দেন।

সোমবার রাতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে ২ সাংবাদিক, শিক্ষার্থী নাঈম উদ্দীন সহ কয়েকজন দর্শনার্থী পুলিশের মারধরের শিকার হয়।

ভুক্তভোগী দুই সাংবাদিক হলেন, বাংলানিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের তোফায়েল আহমেদ (২৫) এবং আজকের পত্রিকার কাউসার আহমেদ রিপন (২৭)।

সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, একদল পুলিশ সদস্য তোফায়েলকে লাঠি দিয়ে নির্বিচারে পেটাচ্ছেন, পরে অন্য পুলিশ সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যান।

অভিযান চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়, তাদের মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী এবং বিপ্লবী ছাত্র যুব আন্দোলনের ঢাকা মহানগর ইউনিটের আহ্বায়ক নাঈম উদ্দীনকে পুলিশের মারধরের একটি ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়েছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, ডিসি মাসুদ আলমের সঙ্গে কথা বলার সময় নাঈমকে পেছন থেকে টেনে-হিঁচড়ে মাটিতে ফেলে লাঠি দিয়ে পেটাচ্ছেন এক পুলিশ সদস্য।

বিক্ষোভে নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী কাফিরা জাহান বলেন, পুলিশ সহ যেকোনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রশ্ন করতে পারা নাগরিক অধিকার, অনেক লম্বা সময় ধরে আমাদের এই নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে, গতকাল নাঈমের উপর হামলা পুলিশের সবসময় করা ইগো ভিত্তিক ভায়োলেন্সের অংশ।

গতকাল নাঈম উদ্যানে হাঁটছিল, ওরে প্রশ্ন করা হয়ছে, নাঈম দেখায়ছে, ওর কাছে কিছু নাই, নাইম কেন প্রশ্ন করছে পুলিশের কাছে, এজন্য ওরে মারা হয়ছে, এটা কোনো জায়গার ন্যায়, এর জবাবদিহিতা কে দিবে, আমরা কোনো জবাবদিহিতা চাই না, আমরা ডিসি মাসুদ ও তার বাহিনীর বিচার চাই।

সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, সরকারকে আঙ্গুল চোষার জন্য ক্ষমতায় আনিনি, আপনারা ক্ষমতায় এসে এখন রাষ্ট্র সংস্কারে নামেন, আমাদের মারার জন্য পুলিশ নামালে তার ফল কী হতে পারে, তা আপনাদের জানার কথা।

থিয়েটার বিভাগের শিক্ষার্থী আশরাফুল আলম বলেন, বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে বিভাজন করার জন্য রাষ্ট্রীয় বাহিনীগুলো উঠে পড়ে লেগেছে, পুলিশ যখন এ ধরনের নিপীড়ন মূলক কর্মকাণ্ড করে, বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ফেইসবুকে ঠিক-বেঠিক লিখছে।

কিন্তু আপনাদের মনে রাখতে হবে, আজকে এটা আমার সাথে ঘটছে, কালকে এটা আপনাদের সাথে হবে।

তিনি বলেন, আজ আপনি মনে করছেন, একজন মাদকসেবী এই সন্দেহে তাকে হ্যারাজ করা যায়, কালকে আপনাকে ছাত্রদল সন্দেহে, ছাত্রশিবির সন্দেহে, ছাত্রলীগ সন্দেহে, যেকোনো সন্দেহে পুলিশ হ্যারাজ করতে পারে।

পুলিশের এই হ্যারাজমেন্টের বিরুদ্ধে আমাদের কথা বলতে হবে, পুলিশের এ ধরনের হ্যারাজমেন্টে চলতে থাকলে আমি-আপনি কেউ নিরাপদ না।

বিক্ষোভ শেষে তিন দফা দাবি তুলে ধরেন বিজ্ঞান বিভাগের আবদুল্লাহ হেল বুবুন, দাবির মধ্যে রয়েছে—

১, ডিসি মাসুদ সহ হামলায় অংশ নেওয়া প্রত্যেক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে শাস্তির ব্যবস্হা নেওয়া।

২, ক্যাম্পাস এলাকার ভেতরে ও বাইরে সব ধরনের পুলিশিং বন্ধ করা।

৩, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও মানবাধিকার নিশ্চিত করা।

পুলিশ হামলার প্রতিবাদে এদিন বেলা ১২টায় রাজু ভাষ্কর্যের পাদদেশ বিক্ষোভ করে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন।

সোহরাওয়ার্দীর ঘটনার বিষয়ে নাঈম উদ্দীন বলেন, আমরা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বহু ভাষার সন্ধ্যা শীর্ষক একটি অনুষ্ঠান নিয়ে আলোচনা করছিলাম এবং ফেরার পথে পুলিশ আমাদের মুখোমুখি হয়।

পরে তারা আমাদের কাছে অবৈধ কিছু না পেয়ে অভিযোগ তোলেন যে আমরা নাকি তাদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়েছি। আমার মাথা, হাত ও পায়ে চোট লেগেছে, আমার সঙ্গ থাকা আরও এক বন্ধুকেও তারা মেরেছে।