ঢাকা ১১:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এএসআই (নিরস্ত্র) পদে নিয়োগ-২০২৬ এর লক্ষ্যে প্রার্থীদের শারীরিক মাপ ও কাগজপত্র যাচাইকরণ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত ব্রাহ্মণপাড়ায় গোয়াল ঘর থেকে গাঁজা উদ্বার গ্রেফতার-২ আমজাদ হাটে ডাকাতের হাতে গৃহবধূ হত্যা এলাকায় চাঞ্চল্য আন্তর্জাতিক মাদক বিরোধী দিবস উপলক্ষ্যে বেগমগঞ্জে মাদক বিরোধী র‍্যালি অনুষ্ঠিত আরপিএমপি তাজহাট থানার অভিযানে চোরাই মালামাল সহ চোর গ্রেফতার পানি বেড়েছে তিস্তায়, খুলে দেওয়া হয়েছে জলকপাট কক্সবাজার বিপুল ইয়াবা সহ আটক স্বামী-স্ত্রী ফেনীতে ডাকাতির প্রস্তুতি কালে ডাকাত গ্রেফতার-৭ গাইবান্ধায় সাইফুল্লাহ বারী হত্যার প্রতিবাদে রংপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত মালেশিয়া প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে একান্ত বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের

সাংবাদিক লাঞ্ছনা : শেরপুর হাইওয়ে পুলিশের দুই সদস্য ক্লোজড

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১২:৩৪:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুলাই ২০২৪ ২৮০ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

সাংবাদিক লাঞ্ছনা : শেরপুর হাইওয়ে পুলিশের দুই সদস্য ক্লোজড

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি:
বগুড়ার শেরপুরে সাংবাদিক লাঞ্ছিতের ঘটনায় শেরপুর হাইওয়ে পুলিশের দুই সদস্যকে ক্লোজড করা হয়েছে। অভিযুক্তরা হলেন শেরপুর হাইওয়ে পুলিশের এসআই চন্দন ও সেন্ট্রি হাবিবা।
৯ জুলাই (মঙ্গলবার) সকালে শেরপুর হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ (ওসি) হাসেম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তথ্যমতে, সোমবার (০৮ জুলাই) দুপুরে শেরপুর হাইওয়ে থানা চত্ত্বরে ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক ডেল্টা টাইমস্ পত্রিকার শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি শহিদুল ইসলাম শাওন ব্যক্তিগত কাজে গেলে এস আই চন্দনের হাতে মারধরের শিকার হন।  জানা যায়, ঐদিন সকাল ১১টার দিকে ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি সাংবাদিক জাহাঙ্গীর ইসলাম তার ব্যক্তিগত কাজে শেরপুর হাইওয়ে থানায় যান।

মোটরসাইকেল নিয়ে থানার গেটে যাওয়ার সময় দায়িত্বরত সেন্ট্রি হাবিবা তাকে থামার জন্য ইশারা করেন। তিনি বুঝতে না পেরে মোটরসাইকেল থেকে নেমে সরাসরি থানা ভবনে ঢুকতে গেলে সেন্ট্রি হাবিবা বলেন, ‘আপনি পাগল নাকি? ইশারা বোঝেন না?’। একথা শুনে তিনি এগিয়ে এসে বলেন, ‘এভাবে বলছেন কেন? আমি যে পাগল এটা প্রমাণ করতে পারবেন?’ একথা বলায় সেন্ট্রি হাবিবা রেগে গিয়ে বাক-বিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন। তার উচ্চবাচ্যে লোকজন এগিয়ে আসেন। এসময় দৈনিক ডেল্টা টাইমস্ পত্রিকার শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি শহিদুল ইসলাম শাওন কাছে গিয়ে দুজনকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন। তার মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। এরপর সাংবাদিক জাহাঙ্গীর ইসলাম তার কাজ সেরে চলে যান। সাংবাদিক শাওন তার কাজের জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন।

এর কিছুক্ষণ পর সেন্ট্রি হাবিবা থানা ভবনের ভেতরে যান এবং মিনিট পাঁচেক পর বের হয়ে আসেন। এর একটু পরই এস আই চন্দন এসে সাংবাদিক শাওনের পোলো শার্টের কলার ধরে টানাহেঁচড়া করে কিল ঘুষি দিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। ঘটনাটি সাংবাদিকদের মধ্যে জানাজানি হলে ২০-২৫ জন সাংবাদিক শেরপুর হাইওয়ে থানায় গিয়ে অবস্থান নিয়ে হাইওয়ে ইনচার্জ (ওসি) হাসেমের কাছে বিচার দাবী করেন। পরে, হাইওয়ে পুলিশ বগুড়া রিজিয়নের সহকারী পুলিশ সুপার আলী আহমেদ হাশমী এসে ঘটনার বর্ণনা শুনে তাদের  ব্যাপারে সঠিক বিচারের  আশ্বাস দেন।Messenger creation bee85cc4 0e32 47ba 82ec 093ad0d63549

এর আগে গত জুন মাসে আনন্দ টেলিভিশনের বগুড়া জেলা প্রতিনিধি বাঁধন কর্মকার কৃষ্ণ এসআই চন্দনের হাতে লাঞ্ছিত হন। বাঁধন কর্মকার কৃষ্ণ বলেন, গত মাসে এক আত্মীয়র চেকআপ শেষে বগুড়া থেকে শেরপুরে ফিরছিলাম। অপারেশনের রোগী হওয়ায় তাকে পাবলিক বাসে না নিয়ে সিএনজিতে আনা হচ্ছিল। সিএনজি শেরপুর হাইওয়ে থানার কাছে আসলে কনস্টেবল মেহেদী সিনএজিকে থামানোর সিগন্যাল দেয়। সিএনজি থামলে কনস্টেবল মেহেদী ড্রাইভারকে গাড়ি থানার ভেতর নিতে বলে। এ সময় আমি আমার পরিচয় দিয়ে বলি, গাড়ী থানায় নিয়েননা। গাড়ীতে অসুস্থ  রেগী আছে। রোগী নিয়ে দ্রƒত বাড়িতে যেতে হবে। তখন কনস্টেবল মেহেদী আমাকে বলেন, ‘ঐ মিয়া সাংবাদিক বলে দেশ কিনে নিয়েছেন নাকি?  আপনি যা বলবেন তাই শুনতে হবে? চলেন, আমার অফিসারের সাথে কথা বলেন!’ এরপর গাড়ি নিয়ে আমাকে থানার ভেতর যেতে বাধ্য করে। পরে, এসআই চন্দন তার সামনে থাকা চেয়ার পা দিয়ে ঠেলে আমার দিকে এগিয়ে দিয়ে বলতে থাকে কিরে, মেহেদী! এসব ভূয়া সাংবাদিক ধরার জন্যই তো ডিজিটাল আইন তাই না? এ সময় কনস্টেবল মেহেদী  চন্দনের ইশারায় বলেন, আপনার আইডি কার্ড দেখান। এসআই চন্দন বলেন, আইডি কার্ড আছে তো? নাকি, ভূয়া সাংবাদিক? পরে, হাইওয়ে ইনচার্জের সহায়তায় গাড়ি ছেড়ে দেওয়া হয়।

ঊল্লেখ্য, ৮ জুলাই সাংবাদিক লাঞ্ছিতের ঘটনায় শেরপুর প্রেসক্লাবসহ শেরপুরে সাংবাদিকদের অন্যান্য সংগঠনের নেতৃবৃন্দ শেরপুর হাইওয়ে থানায় গিয়ে অবস্থান নিয়ে হাইওয়ে ইনচার্জ (ওসি) হাসেমের কাছে বিচার দাবী করেন। পরে, হাইওয়ে পুলিশ বগুড়া রিজিয়নের সহকারী পুলিশ সুপার আলী আহমেদ হাশমী এসে ঘটনার বর্ণনা শুনে তাদের  ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন। তড়িৎগতিতে অভিযুক্ত দুইজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ায় শেরপুর প্রেসক্লাবসহ শেরপুরে সাংবাদিকদের অন্যান্য সংগঠনের নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকে শেরপুর হাইওয়ে ইনচার্জ (ওসি) হাসেম ও হাইওয়ে পুলিশ বগুড়া রিজিয়নের সহকারী পুলিশ সুপার আলী আহমেদ হাশমীকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

 

সাংবাদিক লাঞ্ছনা : শেরপুর হাইওয়ে পুলিশের দুই সদস্য ক্লোজড

আপডেট সময় : ১২:৩৪:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুলাই ২০২৪
print news

সাংবাদিক লাঞ্ছনা : শেরপুর হাইওয়ে পুলিশের দুই সদস্য ক্লোজড

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি:
বগুড়ার শেরপুরে সাংবাদিক লাঞ্ছিতের ঘটনায় শেরপুর হাইওয়ে পুলিশের দুই সদস্যকে ক্লোজড করা হয়েছে। অভিযুক্তরা হলেন শেরপুর হাইওয়ে পুলিশের এসআই চন্দন ও সেন্ট্রি হাবিবা।
৯ জুলাই (মঙ্গলবার) সকালে শেরপুর হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ (ওসি) হাসেম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তথ্যমতে, সোমবার (০৮ জুলাই) দুপুরে শেরপুর হাইওয়ে থানা চত্ত্বরে ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক ডেল্টা টাইমস্ পত্রিকার শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি শহিদুল ইসলাম শাওন ব্যক্তিগত কাজে গেলে এস আই চন্দনের হাতে মারধরের শিকার হন।  জানা যায়, ঐদিন সকাল ১১টার দিকে ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি সাংবাদিক জাহাঙ্গীর ইসলাম তার ব্যক্তিগত কাজে শেরপুর হাইওয়ে থানায় যান।

মোটরসাইকেল নিয়ে থানার গেটে যাওয়ার সময় দায়িত্বরত সেন্ট্রি হাবিবা তাকে থামার জন্য ইশারা করেন। তিনি বুঝতে না পেরে মোটরসাইকেল থেকে নেমে সরাসরি থানা ভবনে ঢুকতে গেলে সেন্ট্রি হাবিবা বলেন, ‘আপনি পাগল নাকি? ইশারা বোঝেন না?’। একথা শুনে তিনি এগিয়ে এসে বলেন, ‘এভাবে বলছেন কেন? আমি যে পাগল এটা প্রমাণ করতে পারবেন?’ একথা বলায় সেন্ট্রি হাবিবা রেগে গিয়ে বাক-বিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন। তার উচ্চবাচ্যে লোকজন এগিয়ে আসেন। এসময় দৈনিক ডেল্টা টাইমস্ পত্রিকার শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি শহিদুল ইসলাম শাওন কাছে গিয়ে দুজনকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন। তার মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। এরপর সাংবাদিক জাহাঙ্গীর ইসলাম তার কাজ সেরে চলে যান। সাংবাদিক শাওন তার কাজের জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন।

এর কিছুক্ষণ পর সেন্ট্রি হাবিবা থানা ভবনের ভেতরে যান এবং মিনিট পাঁচেক পর বের হয়ে আসেন। এর একটু পরই এস আই চন্দন এসে সাংবাদিক শাওনের পোলো শার্টের কলার ধরে টানাহেঁচড়া করে কিল ঘুষি দিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। ঘটনাটি সাংবাদিকদের মধ্যে জানাজানি হলে ২০-২৫ জন সাংবাদিক শেরপুর হাইওয়ে থানায় গিয়ে অবস্থান নিয়ে হাইওয়ে ইনচার্জ (ওসি) হাসেমের কাছে বিচার দাবী করেন। পরে, হাইওয়ে পুলিশ বগুড়া রিজিয়নের সহকারী পুলিশ সুপার আলী আহমেদ হাশমী এসে ঘটনার বর্ণনা শুনে তাদের  ব্যাপারে সঠিক বিচারের  আশ্বাস দেন।Messenger creation bee85cc4 0e32 47ba 82ec 093ad0d63549

এর আগে গত জুন মাসে আনন্দ টেলিভিশনের বগুড়া জেলা প্রতিনিধি বাঁধন কর্মকার কৃষ্ণ এসআই চন্দনের হাতে লাঞ্ছিত হন। বাঁধন কর্মকার কৃষ্ণ বলেন, গত মাসে এক আত্মীয়র চেকআপ শেষে বগুড়া থেকে শেরপুরে ফিরছিলাম। অপারেশনের রোগী হওয়ায় তাকে পাবলিক বাসে না নিয়ে সিএনজিতে আনা হচ্ছিল। সিএনজি শেরপুর হাইওয়ে থানার কাছে আসলে কনস্টেবল মেহেদী সিনএজিকে থামানোর সিগন্যাল দেয়। সিএনজি থামলে কনস্টেবল মেহেদী ড্রাইভারকে গাড়ি থানার ভেতর নিতে বলে। এ সময় আমি আমার পরিচয় দিয়ে বলি, গাড়ী থানায় নিয়েননা। গাড়ীতে অসুস্থ  রেগী আছে। রোগী নিয়ে দ্রƒত বাড়িতে যেতে হবে। তখন কনস্টেবল মেহেদী আমাকে বলেন, ‘ঐ মিয়া সাংবাদিক বলে দেশ কিনে নিয়েছেন নাকি?  আপনি যা বলবেন তাই শুনতে হবে? চলেন, আমার অফিসারের সাথে কথা বলেন!’ এরপর গাড়ি নিয়ে আমাকে থানার ভেতর যেতে বাধ্য করে। পরে, এসআই চন্দন তার সামনে থাকা চেয়ার পা দিয়ে ঠেলে আমার দিকে এগিয়ে দিয়ে বলতে থাকে কিরে, মেহেদী! এসব ভূয়া সাংবাদিক ধরার জন্যই তো ডিজিটাল আইন তাই না? এ সময় কনস্টেবল মেহেদী  চন্দনের ইশারায় বলেন, আপনার আইডি কার্ড দেখান। এসআই চন্দন বলেন, আইডি কার্ড আছে তো? নাকি, ভূয়া সাংবাদিক? পরে, হাইওয়ে ইনচার্জের সহায়তায় গাড়ি ছেড়ে দেওয়া হয়।

ঊল্লেখ্য, ৮ জুলাই সাংবাদিক লাঞ্ছিতের ঘটনায় শেরপুর প্রেসক্লাবসহ শেরপুরে সাংবাদিকদের অন্যান্য সংগঠনের নেতৃবৃন্দ শেরপুর হাইওয়ে থানায় গিয়ে অবস্থান নিয়ে হাইওয়ে ইনচার্জ (ওসি) হাসেমের কাছে বিচার দাবী করেন। পরে, হাইওয়ে পুলিশ বগুড়া রিজিয়নের সহকারী পুলিশ সুপার আলী আহমেদ হাশমী এসে ঘটনার বর্ণনা শুনে তাদের  ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন। তড়িৎগতিতে অভিযুক্ত দুইজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ায় শেরপুর প্রেসক্লাবসহ শেরপুরে সাংবাদিকদের অন্যান্য সংগঠনের নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকে শেরপুর হাইওয়ে ইনচার্জ (ওসি) হাসেম ও হাইওয়ে পুলিশ বগুড়া রিজিয়নের সহকারী পুলিশ সুপার আলী আহমেদ হাশমীকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।