ঢাকা ০৬:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মরিনহোর আস্থায় রিয়াল মাদ্রিদে জ্বলে উঠছেন দিয়োমান্দে নরসিংদীতে পূজার ছুটিতে বাসায় চুরি: ৫০ লাখ টাকা ও ৮ ভরি সোনা গায়েব মগবাজারে আসিফ আকবরের গাড়িতে গুলি, তদন্তে নেমেছে পুলিশ জরুরি পরিস্থিতিতে ৩ দিনের খাবার ও পানি মজুতের পরামর্শ বৃটিশ সরকারের খামারিদের লোকসান: ডিম ও মুরগির উৎপাদন খরচ ও বাজারে বিস্তর ফারাক সিংড়ায় প্রধানমন্ত্রীর এপিএস পরিচয় দিয়ে প্রতারণায় গ্রেপ্তার ১ দিল্লির জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র-নিরাপত্তারক্ষী সংঘর্ষ আলিয়া বা দীপিকার মতো তারকা নই যে ভালো ব্যবসা হবে: রাধিকা আপ্তে জাপান সফরে রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলীকে না রাখার সিদ্ধান্ত পিএইচপির নিরাপত্তা ত্রুটি: বিশ্বজুড়ে সাইবার হামলার ঝুঁকি ও সতর্কতা

দিল্লির জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র-নিরাপত্তারক্ষী সংঘর্ষ

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৫:০৫:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ও নিরাপত্তারক্ষীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাসের সব ক্লাস অনলাইনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্র সংসদ পুনর্বহাল ও নির্বাচন আয়োজনের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিরাপত্তারক্ষীদের উত্তেজনা তৈরি হয়। বিক্ষোভকারীরা যেখানে অবস্থান করছিলেন, সেখানে স্থাপন করা তাঁবু সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ওই তাঁবুর নিচে কয়েকজন শিক্ষার্থী অনশন কর্মসূচি পালন করছিলেন।

শিক্ষার্থীদের মূল দাবি হলো, জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (জেএমআইএসইউ) পুনর্বহাল করা এবং ছাত্র সংসদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা। ২০০৬ সালে ক্যাম্পাসে সহিংসতা ও শিক্ষাকার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার ঘটনার পর ছাত্র সংসদ বিলুপ্ত করা হয়েছিল। এরপর থেকে ছাত্র সংসদ পুনরায় চালুর দাবিতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ রয়েছে। গত ১২ অক্টোবর থেকে ক্যাম্পাসে এ দাবিতে বিক্ষোভ ও অনশন কর্মসূচি চলছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বিরোধ ক্রমশ তীব্র হচ্ছে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তারক্ষীরা তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন এবং জোর করে বিক্ষোভস্থল থেকে সরিয়ে দিয়েছেন। এছাড়া কমিউনিস্ট ছাত্র সংগঠন আইসা অভিযোগ করেছে, জামিয়া প্রশাসন বিনা উস্কানিতে অনশনরত শিক্ষার্থীদের ওপর দমন-পীড়ন চালিয়েছে।

অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মাহতাব আলম রিজভি অভিযোগ করেছেন যে, গত শুক্রবার কংগ্রেসের দুই সংসদ সদস্য ইমরান প্রতাপগড়ি ও ইমরান মাসুদ দেয়াল টপকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। তিনি দাবি করেন, এই দুই নেতার কর্মকাণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিঘ্নিত করেছে এবং তাদের উপস্থিতির কারণেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ ঘটনায় দিল্লি পুলিশের কাছে অভিযোগও জমা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

এর আগে শিক্ষার্থীদের দাবি ও অসন্তোষ পর্যালোচনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সাত সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছিল। এই কমিটির দায়িত্ব ছিল শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করা, তাদের অভিযোগগুলো পর্যালোচনা করা এবং ক্যাম্পাসে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের সুপারিশ করা। তবে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, ছাত্র সংসদ পুনর্বহাল এবং নির্বাচনের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

দিল্লির জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র-নিরাপত্তারক্ষী সংঘর্ষ

আপডেট সময় : ০৫:০৫:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ও নিরাপত্তারক্ষীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাসের সব ক্লাস অনলাইনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্র সংসদ পুনর্বহাল ও নির্বাচন আয়োজনের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিরাপত্তারক্ষীদের উত্তেজনা তৈরি হয়। বিক্ষোভকারীরা যেখানে অবস্থান করছিলেন, সেখানে স্থাপন করা তাঁবু সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ওই তাঁবুর নিচে কয়েকজন শিক্ষার্থী অনশন কর্মসূচি পালন করছিলেন।

শিক্ষার্থীদের মূল দাবি হলো, জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (জেএমআইএসইউ) পুনর্বহাল করা এবং ছাত্র সংসদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা। ২০০৬ সালে ক্যাম্পাসে সহিংসতা ও শিক্ষাকার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার ঘটনার পর ছাত্র সংসদ বিলুপ্ত করা হয়েছিল। এরপর থেকে ছাত্র সংসদ পুনরায় চালুর দাবিতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ রয়েছে। গত ১২ অক্টোবর থেকে ক্যাম্পাসে এ দাবিতে বিক্ষোভ ও অনশন কর্মসূচি চলছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বিরোধ ক্রমশ তীব্র হচ্ছে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তারক্ষীরা তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন এবং জোর করে বিক্ষোভস্থল থেকে সরিয়ে দিয়েছেন। এছাড়া কমিউনিস্ট ছাত্র সংগঠন আইসা অভিযোগ করেছে, জামিয়া প্রশাসন বিনা উস্কানিতে অনশনরত শিক্ষার্থীদের ওপর দমন-পীড়ন চালিয়েছে।

অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মাহতাব আলম রিজভি অভিযোগ করেছেন যে, গত শুক্রবার কংগ্রেসের দুই সংসদ সদস্য ইমরান প্রতাপগড়ি ও ইমরান মাসুদ দেয়াল টপকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। তিনি দাবি করেন, এই দুই নেতার কর্মকাণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিঘ্নিত করেছে এবং তাদের উপস্থিতির কারণেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ ঘটনায় দিল্লি পুলিশের কাছে অভিযোগও জমা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

এর আগে শিক্ষার্থীদের দাবি ও অসন্তোষ পর্যালোচনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সাত সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছিল। এই কমিটির দায়িত্ব ছিল শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করা, তাদের অভিযোগগুলো পর্যালোচনা করা এবং ক্যাম্পাসে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের সুপারিশ করা। তবে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, ছাত্র সংসদ পুনর্বহাল এবং নির্বাচনের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh