জরুরি পরিস্থিতিতে ৩ দিনের খাবার ও পানি মজুতের পরামর্শ বৃটিশ সরকারের
- আপডেট সময় : ০৫:৫২:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সাইবার হামলা কিংবা গুরুতর কোনো জরুরি অবস্থা সামাল দিতে নাগরিকদের ঘরে পর্যাপ্ত বোতলজাত পানি এবং অন্তত তিন দিন চলার মতো খাবার মজুত রাখার পরামর্শ দিয়েছে বৃটিশ সরকার। নতুন নির্দেশনায় প্রত্যেক নাগরিককে ৯ লিটার বোতলজাত পানি ও প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী সবসময় প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে। যেকোনো দুর্যোগে যেন নাগরিকরা প্রাথমিক ৭২ ঘণ্টা নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পার করতে পারেন, সেই লক্ষ্যে ‘বি রেডি’ (প্রস্তুত থাকুন) শীর্ষক একটি বিশেষ প্রচারাভিযান শুরু করেছে দেশটি।
প্রযুক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সংকট এবং শত্রুভাবাপন্ন বিভিন্ন দেশের সম্ভাব্য হুমকির কারণে দেশটির নীতিনির্ধারকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে জাতীয় সুরক্ষা ও সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়াতেই নাগরিকদের ব্যক্তিগত পর্যায়ে আগেভাগে প্রস্তুত থাকার তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। যুক্তরাজ্যের নিরাপত্তাবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ড্যান জারভিস এই পরামর্শ সম্পর্কে জানান, যাদের পক্ষে নির্দেশনাসমূহ মেনে চলা সম্ভব, তাদের অবশ্যই তা অনুসরণ করা উচিত। এটি জাতীয় প্রতিরক্ষা জোরদারের সম্মিলিত প্রয়াসেরই একটি অংশ।
যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং জানিয়েছেন, রাশিয়া বা অন্য কোনো শত্রুভাবাপন্ন শক্তির মদতে পরিচালিত সন্ত্রাসী তৎপরতার ঝুঁকিও এড়িয়ে যাওয়ার উপায় নেই। দৈনন্দিন জীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলো এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, ‘হাইব্রিড যুদ্ধ’ কিংবা ‘গ্রে জোনের হুমকি’র মতো জটিল শব্দ ব্যবহারের চেয়ে বিষয়টিকে সরাসরি ‘রাষ্ট্রীয় মদতে পরিচালিত সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে দেখাই যুক্তিযুক্ত। এসব হুমকি কেবল কল্পনায় সীমাবদ্ধ নেই, বরং যুক্তরাজ্যের কাছাকাছি চলে আসছে। ফলে জাতীয় প্রতিরক্ষার পাশাপাশি জরুরি অবস্থা মোকাবিলার অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতি বাড়ানো সমান জরুরি।
জরুরি মুহূর্তে ব্যবহারের জন্য বোতলজাত পানি ও শুকনা খাবারের পাশাপাশি কম্বল, নগদ অর্থ, প্রাথমিক চিকিৎসার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, ব্যাটারিচালিত টর্চলাইট এবং হাত দিয়ে ঘোরানো যায় এমন এফএম রেডিও সংগ্রহে রাখার তাগিদ দেওয়া হয়েছে নির্দেশনায়। সুপেয় পানি হিসেবে জনপ্রতি দিনে তিন লিটার করে হিসাব করে মোট ৯ লিটার পানি রাখতে বলা হয়েছে। তবে রান্না ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার প্রয়োজনে অতিরিক্ত পানির ব্যবস্থা রাখতে হতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়। ফরাসি, আইরিশ ও ডাচ সরকারের দুর্যোগকালীন নির্দেশনার সঙ্গেই সামঞ্জস্য রেখে তিন দিনের এই খাদ্য মজুতের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সামনে শীতকালীন ঝড়ের মৌসুম শুরু হতে যাওয়ার প্রেক্ষাপটেই এই প্রচারাভিযান চালু করা হলো। সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকটি শক্তিশালী ঝড় যুক্তরাজ্যের ওপর দিয়ে বয়ে গেছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতেই ‘ঝড় গোরেটি’র প্রভাবে ওয়েলস, মিডল্যান্ডস ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় কয়েক হাজার পরিবার দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎহীন অবস্থায় কাটাতে বাধ্য হয়। একই সঙ্গে ‘সুপার এল নিনো’ জলবায়ু পরিস্থিতির প্রভাবে আগামী ২০২৭ সাল ইতিহাসের উষ্ণতম বছর হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি ও খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় চরম অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।
অন্য দিকে সাইবার নিরাপত্তার ঝুঁকিও নতুন করে দেখা দিয়েছে। অতি সম্প্রতি পিএইচপি প্রোগ্রামিং ভাষায় জটিল নিরাপত্তা ত্রুটি ধরা পড়ার পর সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে বৃটিশ সরকারের ৩২টি ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিতে হয়। এ নিয়ে সরকারের জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা কেন্দ্র থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকা প্রায় ৫০ হাজার প্রতিষ্ঠানে বিশেষ সতর্কতা বার্তা পাঠানো হয়েছে। ইউরোপের অন্যান্য দেশও বিভিন্ন নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগে রয়েছে, যার অনেকগুলোর পেছনে রাশিয়া জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে।
বৃটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যে এ ধরনের সরাসরি সচেতনতামূলক প্রচারাভিযান খুব একটা দেখা যায় না। এর আগে ১৯৮০ সালে পারমাণবিক যুদ্ধের ঝুঁকি সামাল দিতে ‘প্রোটেক্ট অ্যান্ড সার্ভাইভ’ নামে একটি প্রচার চালানো হয়েছিল। সেখানে নাগরিকদের বাড়িতে বোমা প্রতিরোধী আশ্রয়স্থল তৈরি এবং ১৪ দিনের প্রয়োজনীয় খাবার মজুত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।



























