ইয়েমেনে সরকারি শিবিরে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ৫৩
- আপডেট সময় : ১২:৩০:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে

ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শাবওয়া প্রদেশে সরকারি বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ শিবিরের ওপর ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। সোমবারের (১৯ অক্টোবর) এই প্রাণঘাতী হামলায় অন্তত ৫৩ জন সেনাসদস্য প্রাণ হারিয়েছেন এবং দুই শতাধিক নতুন নিয়োগপ্রত্যাশী গুরুতর আহত হয়েছেন। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)-কে হতাহতের এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন ইয়েমেনের সামরিক কর্মকর্তারা। ঘটনার পরপরই হামলার দায় স্বীকার করেছে হুতি বিদ্রোহীরা।
প্রাদেশিক সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীতে যোগ দেওয়ার প্রক্রিয়ায় সামরিক শিবিরে প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন নতুন সেনাসদস্যরা। নিহতের প্রাথমিক সংখ্যা ৫৩ হলেও এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এক বিবৃতিতে শাবওয়া প্রশাসন এই হামলাকে প্রদেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ওপর এক গুরুতর সামরিক উত্তেজনা এবং প্রকাশ্য আগ্রাসন হিসেবে বর্ণনা করেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইয়েমেনের এক সামরিক কর্মকর্তা জানান, সেনাসদস্যরা যখন প্রশিক্ষণের জন্য সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে ছিলেন, ঠিক তখনই শিবিরটিতে আঘাত হানে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো।
ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের প্রধান রাশাদ আল-আলিমি এই রক্তক্ষয়ী হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে হুতিদের বিরুদ্ধে কঠোর জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, ইরান-সমর্থিত বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি রাজনৈতিক বা সামরিক চাপে পড়লে কিংবা তাদের পরিকল্পনা ভেস্তে গেলে এ জাতীয় বর্বর হামলা পরিচালনা করে। অন্যদিকে হুতিদের সামরিক মুখপাত্র দাবি করেছেন, তারা সৌদি কর্মকর্তাদের পরিচালিত একটি সামরিক শিবির লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছেন এবং এতে বেশ কয়েকজন সৌদি কর্মকর্তাও নিহত হয়েছেন। তবে হুতিদের এই দাবির স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং সৌদি সরকারের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি নিয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী এবং সৌদি আরব-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর মধ্যে লড়াই নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত গ্রীষ্মে সংঘাত পুনরায় বৃদ্ধির পর এটিকেই অন্যতম ধ্বংসাত্মক হামলা হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রভাবে ইয়েমেনি সংঘাতের এই নতুন রূপ ২০২২ সালে সাধিত যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে কার্যত পণ্ড করে দিয়েছে, যার ফলে গৃহযুদ্ধের লড়াই আবার ব্যাপক রূপ নিয়েছে।
জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানসহ লেবানন ও ইরাকে তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলো হুতিদের সামরিক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং উন্নত প্রযুক্তির অস্ত্র সরবরাহ করে থাকে। যদিও জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে ইরান বরাবরই হুতিদের অস্ত্র সরবরাহের এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।



























