ঢাকা ০৭:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন পাস হলে বুমেরাং হতে পারে: টিআইবি বন্ধ কারখানা চালুর ঋণ বিতরণে মন্দা, বিতরণ মাত্র ৫৬১ কোটি টাকা আজকের খেলার সূচি: আফগানিস্তান-জিম্বাবুয়ে ওয়ানডে ও ইউরোপীয় ফুটবলের লড়াই প্রেসিডেন্টস ট্রফিতে ফিরছেন মোহাম্মদ রিজওয়ান বাংলাদেশ নারী টি-টোয়েন্টি দলের নতুন অধিনায়ক নাহিদা আক্তার মহাষ্টমী ও কুমারী পূজার আয়োজনে মুখরিত দেশজুড়ে মণ্ডপগুলো মুন্সীগঞ্জ ডিসি অফিসে ৮০ কিলোওয়াটের সোলার প্যানেল স্থাপন কানাডার সামরিক ঘাঁটিতে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ড, নিহত অন্তত ৭ বিচ্ছেদের পর প্রকৃতির সান্নিধ্যে শেহতাজ, ভাইরাল নতুন ছবি বগুড়ায় সৌরবিদ্যুৎ চালিত সেচ পাম্পে সাশ্রয়ের মুখ দেখছেন কৃষকরা

নেতানিয়াহুকে হটাতে ইসরায়েলের পাঁচ বিরোধী নেতার অনাক্রমণ চুক্তি

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৩:২৮:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোর লক্ষ্য নিয়ে দেশটির পাঁচ বিরোধী নেতা একটি অনাক্রমণ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন। আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনকে সামনে রেখে গত ২৬ সেপ্টেম্বর তেল আবিবে ইয়ার লাপিদের বাসভবনে আয়োজিত এক বৈঠকে তারা এই সমঝোতায় পৌঁছান। জোটবদ্ধ হওয়ার এই প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া নেতাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট, সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট, ডেমোক্র্যাটস পার্টির নেতা ইয়ার গোলান এবং ইসরায়েল বেইতেনু পার্টির প্রধান আভিগদর লিবারম্যান।

নেতানিয়াহু-বিরোধী এই জোট গঠনের মূল লক্ষ্য হিসেবে একটি ইহুদিবাদী ও দায়িত্বশীল সরকার গঠন এবং দেশ পুনর্গঠনের কথা বলা হয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহুকে সরানোর বিষয়ে ঐকমত্য থাকলেও ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা, গাজা যুদ্ধ এবং আঞ্চলিক সামরিক অভিযানের মতো মৌলিক ইস্যুতে তাদের মধ্যে বড় ধরনের আদর্শগত মতপার্থক্য রয়ে গেছে। ইয়ার গোলান ছাড়া জোটের অন্য নেতারা মূলত ডানপন্থী রাজনীতির প্রতিনিধিত্ব করেন। কোনো নেতাই ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাকে সুস্পষ্ট রাজনৈতিক লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেননি, কেবল গোলানের দল বিষয়টিকে দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হিসেবে দেখে। এছাড়া গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানকে গণহত্যা বা যুদ্ধাপরাধ হিসেবেও তাদের কেউই স্বীকার করেননি।

জোটের নেতাদের মধ্যে ৬৬ বছর বয়সী গাদি আইজেনকোট ২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ইসরায়েলের সেনাপ্রধান ছিলেন। ২০২২ সালে রাজনীতিতে প্রবেশের পর তিনি নেতানিয়াহুর যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভায় যোগ দেন। তবে যুদ্ধের অবসানে সুস্পষ্ট কৌশল না থাকার অভিযোগ তুলে ২০২৪ সালের জুনে বেনি গান্তজের সঙ্গে মন্ত্রিসভা ছাড়েন তিনি। পরে ‘ইয়াশার’ নামে নতুন দল গঠন করেন। তিনি সর্বজনীন সামরিক নিয়োগ, পেশাদার সরকার এবং ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার আগে নিরাপত্তাব্যবস্থার ব্যর্থতা তদন্তে কমিশন গঠনের পক্ষে।

অন্যদিকে ৫৪ বছর বয়সী নাফতালি বেনেট অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণের দীর্ঘদিনের সমর্থক। ৬২ বছর বয়সী ইয়ার লাপিদের সঙ্গে তার নেতৃত্বে ‘বেইয়াখাদ’ জোট গঠিত হয়েছে। দুজনই ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাকে অগ্রাধিকার দেন না। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ এবং প্রতিবেশী দেশগুলোতে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের বিষয়ে বেনেটের অবস্থানও কঠোর। ৬৮ বছর বয়সী আভিগদর লিবারম্যান বিরোধী জোটের সবচেয়ে কট্টর ডানপন্থী নেতা হিসেবে পরিচিত। নেতানিয়াহুর অধীনে সরকারে যোগ দেওয়া কিংবা আরব দলগুলোর সমর্থনে সরকার গঠনের বিরোধিতা করেছেন তিনি। গাজায় বেসামরিক মানুষের সুরক্ষা নিয়েও অতীতে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন এই নেতা।

অন্যদিকে ৬৪ বছর বয়সী ইয়ার গোলান ইসরায়েলের রাজনৈতিক বামপন্থার প্রতিনিধি। সাবেক সেনা কর্মকর্তা গোলান গাজা যুদ্ধে সরকারের কৌশলের সমালোচনা করেছেন। তার মতে, সুস্পষ্ট রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পরিকল্পনা ছাড়া সামরিক সাফল্য ধরে রাখা সম্ভব নয়। ফিলিস্তিনি দলগুলোর সঙ্গে কাজ করার ব্যাপারেও অন্য বিরোধী নেতাদের তুলনায় তিনি বেশি আগ্রহী। তবে আরব দল বালাদের নেতা সামি আবু শেহাদেহকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার পক্ষে অবস্থান নিয়ে সমালোচনার মুখেও পড়েছেন তিনি।

ইসরায়েলি বিশ্লেষক আহরন ব্রেগম্যানের মতে, বিরোধী নেতারা নেতানিয়াহুর দুর্নীতির অভিযোগ ও কট্টর ডানপন্থীদের ওপর নির্ভরশীলতা থেকে দূরে থাকতে চান; কিন্তু ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষার মতো মৌলিক প্রশ্নে তাদের অবস্থান খুব একটা আলাদা নয়। বিশ্লেষকদের ধারণা, লিবারম্যান ও গোলানের মতপার্থক্য থাকলেও নেতানিয়াহুবিরোধী জোট গঠনে দুজনই গুরুত্বপূর্ণ। তবে নির্বাচনের পর কে সরকারপ্রধান হবেন এবং জোট কতটা ঐক্যবদ্ধ থাকবে, তা এখনো অনিশ্চিত।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

নিউজটি শেয়ার করুন

নেতানিয়াহুকে হটাতে ইসরায়েলের পাঁচ বিরোধী নেতার অনাক্রমণ চুক্তি

আপডেট সময় : ০৩:২৮:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোর লক্ষ্য নিয়ে দেশটির পাঁচ বিরোধী নেতা একটি অনাক্রমণ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন। আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনকে সামনে রেখে গত ২৬ সেপ্টেম্বর তেল আবিবে ইয়ার লাপিদের বাসভবনে আয়োজিত এক বৈঠকে তারা এই সমঝোতায় পৌঁছান। জোটবদ্ধ হওয়ার এই প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া নেতাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট, সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট, ডেমোক্র্যাটস পার্টির নেতা ইয়ার গোলান এবং ইসরায়েল বেইতেনু পার্টির প্রধান আভিগদর লিবারম্যান।

নেতানিয়াহু-বিরোধী এই জোট গঠনের মূল লক্ষ্য হিসেবে একটি ইহুদিবাদী ও দায়িত্বশীল সরকার গঠন এবং দেশ পুনর্গঠনের কথা বলা হয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহুকে সরানোর বিষয়ে ঐকমত্য থাকলেও ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা, গাজা যুদ্ধ এবং আঞ্চলিক সামরিক অভিযানের মতো মৌলিক ইস্যুতে তাদের মধ্যে বড় ধরনের আদর্শগত মতপার্থক্য রয়ে গেছে। ইয়ার গোলান ছাড়া জোটের অন্য নেতারা মূলত ডানপন্থী রাজনীতির প্রতিনিধিত্ব করেন। কোনো নেতাই ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাকে সুস্পষ্ট রাজনৈতিক লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেননি, কেবল গোলানের দল বিষয়টিকে দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হিসেবে দেখে। এছাড়া গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানকে গণহত্যা বা যুদ্ধাপরাধ হিসেবেও তাদের কেউই স্বীকার করেননি।

জোটের নেতাদের মধ্যে ৬৬ বছর বয়সী গাদি আইজেনকোট ২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ইসরায়েলের সেনাপ্রধান ছিলেন। ২০২২ সালে রাজনীতিতে প্রবেশের পর তিনি নেতানিয়াহুর যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভায় যোগ দেন। তবে যুদ্ধের অবসানে সুস্পষ্ট কৌশল না থাকার অভিযোগ তুলে ২০২৪ সালের জুনে বেনি গান্তজের সঙ্গে মন্ত্রিসভা ছাড়েন তিনি। পরে ‘ইয়াশার’ নামে নতুন দল গঠন করেন। তিনি সর্বজনীন সামরিক নিয়োগ, পেশাদার সরকার এবং ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার আগে নিরাপত্তাব্যবস্থার ব্যর্থতা তদন্তে কমিশন গঠনের পক্ষে।

অন্যদিকে ৫৪ বছর বয়সী নাফতালি বেনেট অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণের দীর্ঘদিনের সমর্থক। ৬২ বছর বয়সী ইয়ার লাপিদের সঙ্গে তার নেতৃত্বে ‘বেইয়াখাদ’ জোট গঠিত হয়েছে। দুজনই ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাকে অগ্রাধিকার দেন না। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ এবং প্রতিবেশী দেশগুলোতে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের বিষয়ে বেনেটের অবস্থানও কঠোর। ৬৮ বছর বয়সী আভিগদর লিবারম্যান বিরোধী জোটের সবচেয়ে কট্টর ডানপন্থী নেতা হিসেবে পরিচিত। নেতানিয়াহুর অধীনে সরকারে যোগ দেওয়া কিংবা আরব দলগুলোর সমর্থনে সরকার গঠনের বিরোধিতা করেছেন তিনি। গাজায় বেসামরিক মানুষের সুরক্ষা নিয়েও অতীতে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন এই নেতা।

অন্যদিকে ৬৪ বছর বয়সী ইয়ার গোলান ইসরায়েলের রাজনৈতিক বামপন্থার প্রতিনিধি। সাবেক সেনা কর্মকর্তা গোলান গাজা যুদ্ধে সরকারের কৌশলের সমালোচনা করেছেন। তার মতে, সুস্পষ্ট রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পরিকল্পনা ছাড়া সামরিক সাফল্য ধরে রাখা সম্ভব নয়। ফিলিস্তিনি দলগুলোর সঙ্গে কাজ করার ব্যাপারেও অন্য বিরোধী নেতাদের তুলনায় তিনি বেশি আগ্রহী। তবে আরব দল বালাদের নেতা সামি আবু শেহাদেহকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার পক্ষে অবস্থান নিয়ে সমালোচনার মুখেও পড়েছেন তিনি।

ইসরায়েলি বিশ্লেষক আহরন ব্রেগম্যানের মতে, বিরোধী নেতারা নেতানিয়াহুর দুর্নীতির অভিযোগ ও কট্টর ডানপন্থীদের ওপর নির্ভরশীলতা থেকে দূরে থাকতে চান; কিন্তু ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষার মতো মৌলিক প্রশ্নে তাদের অবস্থান খুব একটা আলাদা নয়। বিশ্লেষকদের ধারণা, লিবারম্যান ও গোলানের মতপার্থক্য থাকলেও নেতানিয়াহুবিরোধী জোট গঠনে দুজনই গুরুত্বপূর্ণ। তবে নির্বাচনের পর কে সরকারপ্রধান হবেন এবং জোট কতটা ঐক্যবদ্ধ থাকবে, তা এখনো অনিশ্চিত।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin