ঢাকা ০৪:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মিষ্টির শূন্য আসনের উপ-নির্বাচনে জামানত ২০ হাজার টাকা ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গে ৩ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ৮৫ সাংবাদিক লুৎফুর জামান ফকির হত্যায় ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম ফেসবুকে মৃত্যুর পর প্রোফাইল: স্মারক না ডিলিট, সিদ্ধান্ত আপনার ভারত ও চীনের ওপর ১০০% শুল্ক সাময়িকভাবে স্থগিত করলেন ট্রাম্প নতুন লুকে নুসরাত ফারিয়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া শিশু হাসপাতালে ধূমপান, চিকিৎসককে বরখাস্তের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর বাবার পাশে ঘুমন্ত অবস্থায় নিখোঁজ শিশুর লাশ ৫৩ ঘণ্টা পর উদ্ধার উত্তরায় পোশাকশ্রমিক ও পুলিশের ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া, আহত ২ কক্সবাজারে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ৯ পর্যটকের মৃত্যু, শনাক্ত ৬

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তৃণমূল পর্যায়ে শক্তি বাড়াতে চায় এনসিপি

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০১:০৫:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তৃণমূল পর্যায়ে নিজেদের সাংগঠনিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। সিটি করপোরেশন, পৌরসভা এবং উপজেলা পরিষদের ধারাবাহিকতায় এবার ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনেও প্রার্থী দেওয়ার পূর্ণ প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি। নির্বাচনের এই লক্ষ্য সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা তৈরির পাশাপাশি নেতাকর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও নির্বাচনি প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও সেমিনারের আয়োজন করা হচ্ছে।

এনসিপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যত বেশি সম্ভব প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। এরই মধ্যে পাঁচটি সিটি করপোরেশন এবং ১০০টি পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদের মেয়র ও চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ চলমান রয়েছে। তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর অতি দ্রুতই প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

দলটির নেতারা মনে করছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুধু জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের লড়াই নয়, বরং তৃণমূল পর্যায়ে দলের সাংগঠনিক বিস্তার ঘটানোর এটি একটি বড় সুযোগ। এই কারণে জনপ্রিয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ব্যক্তিদের দলে টানার পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীদের নির্বাচনে অংশ নিতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে জনপ্রিয়তা, স্থানীয় গ্রহণযোগ্যতা এবং সাংগঠনিক সক্ষমতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে এনসিপি। দলের বাইরের জনপ্রিয় ব্যক্তিদেরও প্রার্থী হওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে, তবে ফৌজদারি অপরাধ, দখল কিংবা চাঁদাবাজির অভিযোগ থাকলে তাদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ নেই বলে নেতারা স্পষ্ট জানিয়েছেন। অতীতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও যদি কারো বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সংশ্লিষ্টতা না থাকে, তবে তারাও এনসিপির প্রার্থী হতে পারবেন।

গত ১০ মে রাজধানীর বাংলামোটরে দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রথম ধাপের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হয়। এতে ৬৭ জন উপজেলা চেয়ারম্যান ও ৩৩ জন পৌর মেয়র প্রার্থীর নাম প্রকাশ করা হয়েছে। পাঁচটি সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম, রাজশাহী সিটি করপোরেশনে মো. মোবাশ্বের আলী এবং সিলেট সিটি করপোরেশনে অ্যাডভোকেট মো. আবদুর রহমান আফজাল।

নির্বাচনি পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, সরকার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শুরুর চেষ্টা করছে। তারা বিএনপির এমপিদের বিশেষ বরাদ্দ দিচ্ছে যাতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীদের মাধ্যমে কাজ করিয়ে জয়ী হতে পারে। নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত হচ্ছে না এবং সরকারি সুবিধার অপব্যবহার হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। দলের যুগ্ম সদস্য সচিব আলাউদ্দিন মোহাম্মদ বলেন, দীর্ঘ সময় সুষ্ঠু নির্বাচন না হওয়ার অভিজ্ঞতার কারণে নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় নির্বাচনি প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষ ভূমিকা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। এই চ্যালেঞ্জগুলো মাথায় রেখেই তারা নেতাকর্মীদের সমন্বয় ও প্রশিক্ষণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তৃণমূল পর্যায়ে শক্তি বাড়াতে চায় এনসিপি

আপডেট সময় : ০১:০৫:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তৃণমূল পর্যায়ে নিজেদের সাংগঠনিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। সিটি করপোরেশন, পৌরসভা এবং উপজেলা পরিষদের ধারাবাহিকতায় এবার ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনেও প্রার্থী দেওয়ার পূর্ণ প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি। নির্বাচনের এই লক্ষ্য সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা তৈরির পাশাপাশি নেতাকর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও নির্বাচনি প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও সেমিনারের আয়োজন করা হচ্ছে।

এনসিপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যত বেশি সম্ভব প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। এরই মধ্যে পাঁচটি সিটি করপোরেশন এবং ১০০টি পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদের মেয়র ও চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ চলমান রয়েছে। তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর অতি দ্রুতই প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

দলটির নেতারা মনে করছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুধু জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের লড়াই নয়, বরং তৃণমূল পর্যায়ে দলের সাংগঠনিক বিস্তার ঘটানোর এটি একটি বড় সুযোগ। এই কারণে জনপ্রিয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ব্যক্তিদের দলে টানার পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীদের নির্বাচনে অংশ নিতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে জনপ্রিয়তা, স্থানীয় গ্রহণযোগ্যতা এবং সাংগঠনিক সক্ষমতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে এনসিপি। দলের বাইরের জনপ্রিয় ব্যক্তিদেরও প্রার্থী হওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে, তবে ফৌজদারি অপরাধ, দখল কিংবা চাঁদাবাজির অভিযোগ থাকলে তাদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ নেই বলে নেতারা স্পষ্ট জানিয়েছেন। অতীতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও যদি কারো বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সংশ্লিষ্টতা না থাকে, তবে তারাও এনসিপির প্রার্থী হতে পারবেন।

গত ১০ মে রাজধানীর বাংলামোটরে দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রথম ধাপের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হয়। এতে ৬৭ জন উপজেলা চেয়ারম্যান ও ৩৩ জন পৌর মেয়র প্রার্থীর নাম প্রকাশ করা হয়েছে। পাঁচটি সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম, রাজশাহী সিটি করপোরেশনে মো. মোবাশ্বের আলী এবং সিলেট সিটি করপোরেশনে অ্যাডভোকেট মো. আবদুর রহমান আফজাল।

নির্বাচনি পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, সরকার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শুরুর চেষ্টা করছে। তারা বিএনপির এমপিদের বিশেষ বরাদ্দ দিচ্ছে যাতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীদের মাধ্যমে কাজ করিয়ে জয়ী হতে পারে। নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত হচ্ছে না এবং সরকারি সুবিধার অপব্যবহার হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। দলের যুগ্ম সদস্য সচিব আলাউদ্দিন মোহাম্মদ বলেন, দীর্ঘ সময় সুষ্ঠু নির্বাচন না হওয়ার অভিজ্ঞতার কারণে নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় নির্বাচনি প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষ ভূমিকা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। এই চ্যালেঞ্জগুলো মাথায় রেখেই তারা নেতাকর্মীদের সমন্বয় ও প্রশিক্ষণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh