প্রথম ভারতীয় সুপারস্টার অশোক কুমারের জীবন ও ক্যারিয়ারের অজানা কথা
- আপডেট সময় : ০৭:৫৯:২৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

ভারতীয় চলচ্চিত্রের প্রথম সুপারস্টার হিসেবে পরিচিত অশোক কুমার। রুপালি পর্দার সেই সাদাকালো যুগে তিনি ছিলেন সবার প্রিয় ‘দাদামণি’। তৎকালীন বোম্বের রাস্তায় বের হলে তাঁর ভক্তদের ভিড়ে যানজট লেগে যেত, প্রিয় তারকাকে একঝলক দেখার জন্য শত শত নারী ভক্তরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতেন। আজ এই কিংবদন্তি অভিনেতার জন্মবার্ষিকী।
১৯১১ সালের ১৩ অক্টোবর বিহারের ভাগলপুরে জন্মগ্রহণ করেন কুমুদলাল গঙ্গোপাধ্যায়। তাঁর বাবা ছিলেন পেশায় আইনজীবী। চার ভাইবোনের মধ্যে অশোক কুমার ছিলেন সবার বড়। তাঁর ভাইবোনের তালিকায় ছিলেন অনুপ কুমার এবং বিখ্যাত গায়ক ও অভিনেতা কিশোর কুমার। পারিবারিক আদর থেকেই তিনি ‘দাদামণি’ নামে পরিচিত হন। ছোট ভাই কিশোর কুমারের মৃত্যুর পর থেকে তিনি আর কোনো জন্মদিন পালন করেননি।
প্রথমে চলচ্চিত্র জগতে আসা মোটেও পছন্দ ছিল না তাঁর বাবার। তিনি চেয়েছিলেন বড় ছেলে তাঁর মতোই আইনজীবী হোক। এজন্য তাঁকে কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে ভর্তি করানো হয়, কিন্তু পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি অশোক কুমার। বাবার ভয়ে বাড়ি না ফিরে তিনি মুম্বাইয়ে বোন সতীদেবীর বাড়িতে আশ্রয় নেন। সেই সময় হাতখরচের টাকা জোগাতে ভগ্নিপতি শশধর মুখোপাধ্যায়ের ‘বোম্বে টকিজ’-এ ল্যাব সহকারীর কাজ নেন তিনি।
অভিনয়ে আসার গল্পটি বেশ নাটকীয়। ‘জীবন নাইয়া’ চলচ্চিত্রের শুটিংয়ের সময় নায়ক নাজম-উল-হাসান অভিনেত্রী দেবিকা রানীকে নিয়ে পালিয়ে যান। অন্য একটি সূত্র অনুযায়ী, নায়ক দেবিকা রানীর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করায় তাঁকে বাদ দেওয়া হয়। এই পরিস্থিতিতে পরিচালকের আপত্তি থাকা সত্ত্বেও হিমাংশু রায় অশোক কুমারকে নায়ক হিসেবে বেছে নেন।
হিন্দি চলচ্চিত্রে গ্ল্যামারের সংযুক্তি এবং নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে অশোক কুমারের অবদান অনস্বীকার্য। তাঁর অভিনীত ‘কিসমত’ ছিল বলিউডের প্রথম ব্লকবাস্টার চলচ্চিত্র, যা এক কোটি টাকার ওপরে ব্যবসা করেছিল। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি ২৭৫টির বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। ‘অচ্ছুত কন্যা’, ‘মহল’, ‘সংগ্রাম’-এর মতো বহু জনপ্রিয় ছবি তিনি উপহার দিয়েছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি ছবি আঁকা এবং হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার চর্চাও করতেন।
ভারত সরকার তাঁকে ‘পদ্মশ্রী’ ও ‘পদ্মভূষণ’ সম্মানে ভূষিত করেছে। এছাড়াও তিনি দাদাসাহেব ফালকেসহ একাধিক জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন। ২০০১ সালের ১০ ডিসেম্বর হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে এই কিংবদন্তি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন।
১৯৮৭ সালে নিজের জন্মদিনে ছোট ভাই কিশোর মারা যান।
১৯৯৭ তিনি সর্বশেষ চলচ্চিত্র ‘আঁখো মে তুম হোতে’ অভিনয় করেন।




























