আয়াসসহ চারজনের বিরুদ্ধে যেসব ধারায় মামলা, রিমান্ডের আদেশ
- আপডেট সময় : ০২:২৬:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ ১৮৫ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্যসচিব এ এন এম (আল নূর মোহাম্মদ) আয়াসসহ চারজনকে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। এর মধ্যে আয়াস ও মো. সাকিবুল হাসানকে তিন দিন এবং মো. সুজন মিয়া ও মারজিয়া খন্দকার রিমিকে দুই দিন করে রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশের করা আবেদনে আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১২০ (খ), ১৫৩ (ক) ও ২৯৫ (ক) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ তাদের ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছিল। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী দাবি করেছেন, আসামিদের কার্যক্রম সরকারের বিরুদ্ধে একপ্রকার যুদ্ধ ঘোষণা এবং তারা বিভিন্ন সময়ে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে সম্প্রীতির সংস্কৃতি বিনষ্টের চেষ্টা করেছেন। অন্যদিকে, আসামি পক্ষের আইনজীবী মনির হোসাইন আদালতে দাবি করেন, আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগে জেলে পাঠানোর মতো কোনো উপাদান নেই।
আইন অনুযায়ী, দণ্ডবিধির ১২০ (খ) ধারাটি অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, যার শাস্তি অপরাধের ধরনের ওপর নির্ভর করে। ১৫৩ (ক) ধারায় বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের মধ্যে শত্রুতা বা ঘৃণা ছড়ানোর অপরাধে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। এছাড়া ২৯৫ (ক) ধারায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত বা অপমান করার অপরাধেও সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব ধারায় মামলা হওয়া মানেই আসামিরা অপরাধী সাব্যস্ত হয়েছেন এমন নয়; অভিযোগ প্রমাণিত হলে আদালত আইন অনুযায়ী বিচার করবেন।
উল্লেখ্য, গত ৫ অক্টোবর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন সেগুনবাগিচায় ফুটপাত দখলমুক্ত করার পর সেখানে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন, সত্যজিৎ রায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামসহ ১০ জন গুণী ব্যক্তিত্বের প্রতিকৃতি আঁকা হয়। এর কয়েক দিন পর ১০ অক্টোবর আয়াস সেই গ্রাফিতি মুছে ফেলার চেষ্টা করলে বিষয়টি আলোচনায় আসে। আয়াস অতীতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ময়মনসিংহ মহানগর শাখার সদস্যসচিব ছিলেন, তবে সাম্প্রতিককালে নানা ঘটনার মাধ্যমে তিনি বিতর্কিত হয়েছেন।
তবে সাম্প্রতিককালে নানা ঘটনা ঘটিয়ে তিনি বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন।আয়াস (২৯) ছাড়াও মো.
সুজন মিয়া (১৮) ও মারজিয়া খন্দকার রিমিকে (২৭) গতকাল গ্রেপ্তার দেখানো হয়।তদন্তের স্বার্থে ৪ আসামিকে ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করে পুলিশ।আদালতে আসামি পক্ষের আইনজীবী মনির হোসাইন বলেন, চার আসামির বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তাতে জেলে যাওয়ার মতো উপাদান নেই।


























