সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশোধনী ডিজিটাল ফ্যাসিবাদের পথ করবে: বিশ্লেষকরা
- আপডেট সময় : ০৩:০৩:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬ ৭১ বার পড়া হয়েছে

সাইবার সুরক্ষা আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী নতুন করে ডিজিটাল ফ্যাসিবাদের পথ সুগম করবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন রাজনৈতিক নেতা, আইনজীবী ও বিশ্লেষকরা। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে ‘সাইবার সুরক্ষা আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী—বাক্স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকারের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব আশঙ্কার কথা তুলে ধরেন। সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটি ও এনসিপি এই সভার আয়োজন করে।
আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও গুমসংক্রান্ত কমিশন অব ইনকোয়ারির সাবেক সদস্য ড. নাবিলা ইদ্রিস। সভায় এনসিপির সদস্যসচিব ও রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেন, বিগত সরকারের আমলে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপপ্রয়োগে অসংখ্য মানুষ হয়রানির শিকার হয়েছেন। লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর ঘটনা সেই অপপ্রয়োগের ভয়াবহতা তুলে ধরে। তার মতে, বর্তমান সরকার প্রস্তাবিত সংশোধনীর মাধ্যমে অপরাধের সংজ্ঞা অস্পষ্ট ও ব্যাপক করার উদ্যোগ নিয়েছে, যা বাক্স্বাধীনতা সংকুচিত করার আশঙ্কা তৈরি করছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, সরকার সমর্থক গুজব বা মানহানিকর বক্তব্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলেও বিরোধী দলের ক্ষেত্রে আইন কঠোরভাবে প্রয়োগের আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের ব্যর্থতার সমালোচনা করেন তিনি।
ড. নাবিলা ইদ্রিস বলেন, অনলাইনে উসকানি বা অপতথ্য প্রতিরোধের নামে আনা নতুন বিধানগুলো কতটা যৌক্তিক তা যাচাই করা জরুরি। তিনি সতর্ক করে বলেন, গুজবের সংজ্ঞা অস্পষ্ট থাকলে তা নাগরিকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য ঝুঁকি তৈরি করবে। এছাড়া অনলাইনে মানহানির ক্ষেত্রে জনস্বার্থে সত্য তথ্য প্রকাশের মতো বিষয়গুলো সুরক্ষিত রাখা প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান ভূঁইয়া মঞ্জু বলেন, আইনের অস্পষ্টতা অপপ্রয়োগের সুযোগ তৈরি করে। তিনি ২৬(ক) ধারার সংশোধনী নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, সাধারণ মানুষও এর মাধ্যমে হয়রানির শিকার হতে পারেন। তিনি বিএনপিকে সতর্ক করে বলেন, অতীতে যেসব আইন ও বাহিনী গঠন করা হয়েছিল, তা পরবর্তীতে তাদের বিরুদ্ধেই ব্যবহৃত হয়েছে।
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ১১৩টি অপ্রয়োজনীয় দাবি করা হলেও বর্তমান সরকার কিছু অধ্যাদেশ অবিকল রেখে আইন করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, গত ফেব্রুয়ারি থেকে ফেসবুক পোস্টের কারণে ২১ থেকে ২২ জনকে গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া গেছে। নাটশেল টুডের নির্বাহী সম্পাদক অপূর্ব জাহাঙ্গীর বলেন, আইনটি আমলাতান্ত্রিক নাকি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তিনি কনটেন্ট অপসারণের ক্ষমতা ও অপতথ্য নির্ধারণের প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
ডেইলি ওয়াদার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ফয়সাল মাহমুদ বলেন, ২৫ ও ২৬ ধারাসহ কয়েকটি বিধান সাংবাদিকতার স্বাধীনতার জন্য উদ্বেগজনক। সরকারি নিশ্চিতকরণ ছাড়া সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে মামলা বা হয়রানির আশঙ্কায় গণমাধ্যমে স্ব-আরোপিত সেন্সরশিপ তৈরি হতে পারে। এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মুসা বলেন, ২০০৬ সালের ৫৭ ধারা থেকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন—নাম পরিবর্তন হলেও অপব্যবহারের আশঙ্কা কাটেনি। সঞ্চালক অ্যাডভোকেট আরমান হোসাইন বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর মানুষের প্রত্যাশা ছিল কালো আইনের মাধ্যমে মতপ্রকাশ বাধাগ্রস্ত হবে না, কিন্তু নতুন সংশোধনীর মাধ্যমে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিতর্কিত বিধানগুলো ফিরে আসার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।





























