ঢাকা ০২:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ত্রিশালে নতুন সামাজিক সংগঠন ‘নাগরিক অধিকার আন্দোলন’র যাত্রা শুরু সাটুরিয়ায় জমি নিয়ে বিরোধে ছোট ভাইয়ের পিটুনিতে বড় ভাই নিহত আন্দোলন থামবে না, সাফ জানালেন ককরোচ প্রধান অভিজিৎ দীপকে আমাকে অপহরণ করা হয়েছিল, অভিযোগ ইউটিউবার ধ্রুব রাঠির বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী জাপানি প্রতিষ্ঠান মারুবেনি রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতিদের প্রাণঘাতী হামলা, বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় দিল্লির বিধিনিষেধ প্রত্যাহারে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ, অস্বস্তিতে সরকার নারায়ণগঞ্জে আদালতপাড়ায় যাওয়ার পথে প্রবীণ আইনজীবীর মৃত্যু দুর্গাপূজা ও লক্ষ্মীপূজায় ৬ দিনের ছুটিতে যাচ্ছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতি হামলার তীব্র নিন্দা জানাল জাতিসংঘ

সাহিত্যে নোবেল পেলেন কানাডীয় কবি অ্যান কারসন

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৫:৪৮:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



সাহিত্যে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ বছর নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন কানাডীয় কবি ও লেখক অ্যান কারসন। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) নোবেল প্রদানকারী সংস্থা সুইডিশ একাডেমি আনুষ্ঠানিকভাবে তার নাম ঘোষণা করে।

সুইডিশ একাডেমি জানিয়েছে, সাহসী ও সৃজনশীল সাহিত্যকর্মের মাধ্যমে ধ্রুপদি ঐতিহ্যের সঙ্গে খেলাচ্ছলে সংলাপ করে সমকালীন সাহিত্যের নতুন রূপ সৃষ্টি করার কৃতিত্বে অ্যান কারসনকে এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে। পুরস্কার হিসেবে তিনি পাবেন ১ কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা, যা প্রায় ১২ লাখ মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ।

প্রচলিত সাহিত্যিক গণ্ডি পেরিয়ে নিজস্ব এক শৈলী গড়ে তুলেছেন কারসন। তার লেখনিতে কবিতা ও প্রবন্ধের পাশাপাশি গদ্য, সংলাপ ও অনুবাদের এক চমৎকার মেলবন্ধন দেখা যায়। বিশেষ করে ধ্রুপদি গ্রিক সাহিত্যের অনুবাদক হিসেবে তিনি ব্যাপক সমাদৃত, যা তার নিজের সৃষ্টিশীলতার ওপরও গভীর প্রভাব ফেলেছে। অপেরার গীতিনাট্য থেকে শুরু করে সাহিত্য সমালোচনা ও কবিতার উপন্যাস পর্যন্ত বিস্তৃত তার কাজের পরিধি।

কারসনের সৃষ্টিশীলতার অন্যতম বড় নিদর্শন ১৯৯৮ সালে প্রকাশিত তার বিখ্যাত বই ‘অটোগ্রাফি অব রেড’। এছাড়া ২০১৯ সালে প্রকাশিত তার ‘নরমা জিন বেকার অব ট্রয়’ রচনাটিতে স্বতন্ত্র শৈলীর প্রকাশ ঘটেছে। এই পরিবেশনামূলক কাজটিতে তিনি ইউরিপিদিসের ‘হেলেন’ নাটকের ট্রয়ের হেলেনের কাহিনীর সঙ্গে হলিউডের কিংবদন্তি actress মেরিলিন মনরোর জীবনকাহিনিকে একসূত্রে গেঁথেছেন।

সাহিত্যে নোবেলজয়ীদের দীর্ঘ তালিকায় আলেকজান্ডার সলঝেনিৎসিন, অ্যালিস মুনরো এবং আর্নেস্ট হেমিংওয়ের মতো বিশ্বখ্যাত লেখকদের পাশে এখন যুক্ত হলো কারসনের নামও। উল্লেখ্য, সুইডিশ ডিনামাইট আবিষ্কারক ও ব্যবসায়ী আলফ্রেড নোবেলের উইল অনুযায়ী ১৯০১ সাল থেকে সাহিত্য, বিজ্ঞান ও শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। গত বছর হাঙ্গেরির লেখক লাসলো ক্রাসনাহোরকাই এই পুরস্কার পেয়েছিলেন, যাকে মার্কিন সমালোচক সুসান সন্টাগ ‘অ্যাপোক্যালিপসের মাস্টার’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন।

তবে সাহিত্যে নোবেল দেওয়া নিয়ে বিতর্কও কম নয়। বিগত ১২০ বছরে লিও তলস্তয়, ভার্জিনিয়া উলফ ও হোর্হে লুইস বোর্হেসের মতো কালজয়ী সাহিত্যিকদের এই পুরস্কার না দেওয়ায় সুইডিশ একাডেমিকে প্রায়ই সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। পাশাপাশি মার্কিন লেখকদের উপেক্ষা করার অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে, যদিও ২০১৬ সালে মার্কিন সংগীতশিল্পী ও গীতিকার বব ডিলানকে সাহিত্যে নোবেল দেওয়া হয়েছিল।

অবশ্য একাডেমির সমর্থকরা দাবি করেন, অনেক সময় অপেক্ষাকৃত কম পরিচিত সাহিত্যধারাকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর বড় উদাহরণ হিসেবে ১৯৮২ সালে কলম্বিয়ার গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস এবং ২০০৭ সালে ডরিস লেসিংকে নোবেল দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেন তারা।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

সাহিত্যে নোবেল পেলেন কানাডীয় কবি অ্যান কারসন

আপডেট সময় : ০৫:৪৮:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

সাহিত্যে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ বছর নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন কানাডীয় কবি ও লেখক অ্যান কারসন। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) নোবেল প্রদানকারী সংস্থা সুইডিশ একাডেমি আনুষ্ঠানিকভাবে তার নাম ঘোষণা করে।

সুইডিশ একাডেমি জানিয়েছে, সাহসী ও সৃজনশীল সাহিত্যকর্মের মাধ্যমে ধ্রুপদি ঐতিহ্যের সঙ্গে খেলাচ্ছলে সংলাপ করে সমকালীন সাহিত্যের নতুন রূপ সৃষ্টি করার কৃতিত্বে অ্যান কারসনকে এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে। পুরস্কার হিসেবে তিনি পাবেন ১ কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা, যা প্রায় ১২ লাখ মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ।

প্রচলিত সাহিত্যিক গণ্ডি পেরিয়ে নিজস্ব এক শৈলী গড়ে তুলেছেন কারসন। তার লেখনিতে কবিতা ও প্রবন্ধের পাশাপাশি গদ্য, সংলাপ ও অনুবাদের এক চমৎকার মেলবন্ধন দেখা যায়। বিশেষ করে ধ্রুপদি গ্রিক সাহিত্যের অনুবাদক হিসেবে তিনি ব্যাপক সমাদৃত, যা তার নিজের সৃষ্টিশীলতার ওপরও গভীর প্রভাব ফেলেছে। অপেরার গীতিনাট্য থেকে শুরু করে সাহিত্য সমালোচনা ও কবিতার উপন্যাস পর্যন্ত বিস্তৃত তার কাজের পরিধি।

কারসনের সৃষ্টিশীলতার অন্যতম বড় নিদর্শন ১৯৯৮ সালে প্রকাশিত তার বিখ্যাত বই ‘অটোগ্রাফি অব রেড’। এছাড়া ২০১৯ সালে প্রকাশিত তার ‘নরমা জিন বেকার অব ট্রয়’ রচনাটিতে স্বতন্ত্র শৈলীর প্রকাশ ঘটেছে। এই পরিবেশনামূলক কাজটিতে তিনি ইউরিপিদিসের ‘হেলেন’ নাটকের ট্রয়ের হেলেনের কাহিনীর সঙ্গে হলিউডের কিংবদন্তি actress মেরিলিন মনরোর জীবনকাহিনিকে একসূত্রে গেঁথেছেন।

সাহিত্যে নোবেলজয়ীদের দীর্ঘ তালিকায় আলেকজান্ডার সলঝেনিৎসিন, অ্যালিস মুনরো এবং আর্নেস্ট হেমিংওয়ের মতো বিশ্বখ্যাত লেখকদের পাশে এখন যুক্ত হলো কারসনের নামও। উল্লেখ্য, সুইডিশ ডিনামাইট আবিষ্কারক ও ব্যবসায়ী আলফ্রেড নোবেলের উইল অনুযায়ী ১৯০১ সাল থেকে সাহিত্য, বিজ্ঞান ও শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। গত বছর হাঙ্গেরির লেখক লাসলো ক্রাসনাহোরকাই এই পুরস্কার পেয়েছিলেন, যাকে মার্কিন সমালোচক সুসান সন্টাগ ‘অ্যাপোক্যালিপসের মাস্টার’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন।

তবে সাহিত্যে নোবেল দেওয়া নিয়ে বিতর্কও কম নয়। বিগত ১২০ বছরে লিও তলস্তয়, ভার্জিনিয়া উলফ ও হোর্হে লুইস বোর্হেসের মতো কালজয়ী সাহিত্যিকদের এই পুরস্কার না দেওয়ায় সুইডিশ একাডেমিকে প্রায়ই সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। পাশাপাশি মার্কিন লেখকদের উপেক্ষা করার অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে, যদিও ২০১৬ সালে মার্কিন সংগীতশিল্পী ও গীতিকার বব ডিলানকে সাহিত্যে নোবেল দেওয়া হয়েছিল।

অবশ্য একাডেমির সমর্থকরা দাবি করেন, অনেক সময় অপেক্ষাকৃত কম পরিচিত সাহিত্যধারাকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর বড় উদাহরণ হিসেবে ১৯৮২ সালে কলম্বিয়ার গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস এবং ২০০৭ সালে ডরিস লেসিংকে নোবেল দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেন তারা।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin