ঢাকা ০৬:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অক্টোবরের ১২ দিনে ১২৯ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা স্ত্রীকে হত্যার পর ভারতে পালানোর সময় পিবিআইয়ের হাতে গ্রেপ্তার মজনু মাদক ও দখলবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ ডিএমপি কমিশনারের নিউইয়র্কে ড. ইউনূসকে হেনস্তায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ ট্রেনের টিকিট নিয়ে যাত্রীদের সতর্ক করল বাংলাদেশ রেলওয়ে কুমিল্লায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যার রহস্য উদঘাটন, অটোরিকশাচালক গ্রেপ্তার বিএনপিও আওয়ামী লীগের কায়দায় দেশ চালাচ্ছে: নাহিদ ইসলাম হাম ও উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬ শিশুর মৃত্যু ড. ইউনূসের সিদ্ধান্তের সমালোচনা হোক, তবে অবমাননা নয় দেশে অরাজকতা বাড়িয়ে সরকার ব্যর্থ করার চক্রান্ত চলছে: রিজভী

আবু হুরায়রা (রা.) ও শয়তানের সেই বিশেষ ঘটনার শিক্ষা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৭:৫৬:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেছেন যে, এক রাতে আল্লাহর রাসুল (সা.) তাকে দরিদ্রদের মধ্যে বিতরণের জন্য জমা রাখা ফিতরার খাদ্যশস্য পাহারার দায়িত্ব দিয়েছিলেন। গভীর রাতে এক আগন্তুক এসে খাদ্যশস্য চুরি করতে শুরু করলে তিনি তাকে ধরে ফেলেন এবং রাসুলুল্লাহর (সা.) কাছে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেন। আগন্তুকটি তখন নিজেকে অত্যন্ত অভাবী এবং অনেক পোষ্যের বোঝা বহনকারী দাবি করে ক্ষমা চাইলে আবু হুরায়রা (রা.) দয়া পরবশ হয়ে তাকে ছেড়ে দেন।

পরদিন সকালে রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে জিজ্ঞাসা করেন যে, গত রাতের বন্দীর কী হলো। আবু হুরায়রা (রা.) পুরো ঘটনা জানালে নবীজি (সা.) তাকে সতর্ক করেন যে, সে মিথ্যা বলেছে এবং আবার আসবে। রাসুল (সা.)-এর কথা অনুযায়ী তিনি দ্বিতীয় রাতেও সেই আগন্তুককে খাদ্যশস্য নিতে দেখেন এবং ধরে ফেলেন। এবারও আগন্তুকটি একই অজুহাত দিয়ে ক্ষমা চাইলে আবু হুরায়রা (রা.) তাকে ছেড়ে দেন। ভোরে নবীজি (সা.) আবারও তাকে একই কথা বলেন যে, সে মিথ্যা বলেছে এবং পুনরায় আসবে।

তৃতীয়বার যখন সেই ব্যক্তি এল, আবু হুরায়রা (রা.) তাকে নিশ্চিতভাবে ধরে ফেলেন এবং রাসুল (সা.)-এর কাছে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তখন আগন্তুকটি তাকে একটি বিশেষ আমল শেখানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলে, ঘুমানোর সময় আয়াতুল কুরসি পাঠ করলে ভোর পর্যন্ত আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন রক্ষী নিযুক্ত থাকবে এবং শয়তান তার কাছে ঘেঁষতে পারবে না। এই আমলের কথা শুনে আবু হুরায়রা (রা.) তাকে ছেড়ে দেন। সকালে নবীজি (সা.) তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি সব জানান। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, সে নিজে মিথ্যুক হলেও এবার সত্য কথা বলেছে। এরপর তিনি আবু হুরায়রা (রা.)-কে জানান যে, গত তিন রাত তিনি আসলে শয়তানের সঙ্গেই কথা বলছিলেন। (বোখারি : ২৩১১)।

আয়াতুল কুরসির বাংলা উচ্চারণ: আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়ুল কাইয়ুম। লা তা খুজুহু সিনাতুও ওয়া লা নাওম। লাহু মা ফিস সামা ওয়াতি ওয়া মা ফিল আরজি। মান জাল্লাজি ইয়াশফাউ ইনদাহু ইল্লা বিইজনিহি। ইয়ালামু মা বাইনা আইদিহিম ওয়া মা খালফাহুম, ওয়া লা ইউহি তুনা বিশাইয়িম মিন ইলমিহি ইল্লা বিমা শাআ, ওয়া সিআ কুরসিইয়ুহুস সামা ওয়াতি ওয়াল আরজি, ওয়া লা ইয়াউদুহু হিফজুহুমা ওয়া হুওয়াল আলিউয়ুল আজিম।

আয়াতুল কুরসির বাংলা অর্থ: আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি চিরঞ্জীব ও চিরস্থায়ী। তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না ও নিদ্রাও নয়। আকাশ ও পৃথিবীতে যা কিছু রয়েছে, সবকিছু তাঁরই। কে আছে এমন যে তাঁর কাছে তাঁর অনুমতি ছাড়া সুপারিশ করবে? তাঁদের সামনে কী আছে ও পিছনে কী আছে সবই তিনি জানেন এবং তিনি যা ইচ্ছা করেন তা ছাড়া তারা তাঁর জ্ঞানের কিছুই আয়ত্ব করতে পারে না। তাঁর কুরসি আকাশ ও পৃথিবীকে পরিবেষ্টিত করেছে এবং সেগুলো সংরক্ষণ করতে তাঁর কষ্ট হয় না। এবং তিনিই সর্বোচ্চ ও মহান।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

আবু হুরায়রা (রা.) ও শয়তানের সেই বিশেষ ঘটনার শিক্ষা

আপডেট সময় : ০৭:৫৬:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেছেন যে, এক রাতে আল্লাহর রাসুল (সা.) তাকে দরিদ্রদের মধ্যে বিতরণের জন্য জমা রাখা ফিতরার খাদ্যশস্য পাহারার দায়িত্ব দিয়েছিলেন। গভীর রাতে এক আগন্তুক এসে খাদ্যশস্য চুরি করতে শুরু করলে তিনি তাকে ধরে ফেলেন এবং রাসুলুল্লাহর (সা.) কাছে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেন। আগন্তুকটি তখন নিজেকে অত্যন্ত অভাবী এবং অনেক পোষ্যের বোঝা বহনকারী দাবি করে ক্ষমা চাইলে আবু হুরায়রা (রা.) দয়া পরবশ হয়ে তাকে ছেড়ে দেন।

পরদিন সকালে রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে জিজ্ঞাসা করেন যে, গত রাতের বন্দীর কী হলো। আবু হুরায়রা (রা.) পুরো ঘটনা জানালে নবীজি (সা.) তাকে সতর্ক করেন যে, সে মিথ্যা বলেছে এবং আবার আসবে। রাসুল (সা.)-এর কথা অনুযায়ী তিনি দ্বিতীয় রাতেও সেই আগন্তুককে খাদ্যশস্য নিতে দেখেন এবং ধরে ফেলেন। এবারও আগন্তুকটি একই অজুহাত দিয়ে ক্ষমা চাইলে আবু হুরায়রা (রা.) তাকে ছেড়ে দেন। ভোরে নবীজি (সা.) আবারও তাকে একই কথা বলেন যে, সে মিথ্যা বলেছে এবং পুনরায় আসবে।

তৃতীয়বার যখন সেই ব্যক্তি এল, আবু হুরায়রা (রা.) তাকে নিশ্চিতভাবে ধরে ফেলেন এবং রাসুল (সা.)-এর কাছে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তখন আগন্তুকটি তাকে একটি বিশেষ আমল শেখানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলে, ঘুমানোর সময় আয়াতুল কুরসি পাঠ করলে ভোর পর্যন্ত আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন রক্ষী নিযুক্ত থাকবে এবং শয়তান তার কাছে ঘেঁষতে পারবে না। এই আমলের কথা শুনে আবু হুরায়রা (রা.) তাকে ছেড়ে দেন। সকালে নবীজি (সা.) তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি সব জানান। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, সে নিজে মিথ্যুক হলেও এবার সত্য কথা বলেছে। এরপর তিনি আবু হুরায়রা (রা.)-কে জানান যে, গত তিন রাত তিনি আসলে শয়তানের সঙ্গেই কথা বলছিলেন। (বোখারি : ২৩১১)।

আয়াতুল কুরসির বাংলা উচ্চারণ: আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়ুল কাইয়ুম। লা তা খুজুহু সিনাতুও ওয়া লা নাওম। লাহু মা ফিস সামা ওয়াতি ওয়া মা ফিল আরজি। মান জাল্লাজি ইয়াশফাউ ইনদাহু ইল্লা বিইজনিহি। ইয়ালামু মা বাইনা আইদিহিম ওয়া মা খালফাহুম, ওয়া লা ইউহি তুনা বিশাইয়িম মিন ইলমিহি ইল্লা বিমা শাআ, ওয়া সিআ কুরসিইয়ুহুস সামা ওয়াতি ওয়াল আরজি, ওয়া লা ইয়াউদুহু হিফজুহুমা ওয়া হুওয়াল আলিউয়ুল আজিম।

আয়াতুল কুরসির বাংলা অর্থ: আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি চিরঞ্জীব ও চিরস্থায়ী। তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না ও নিদ্রাও নয়। আকাশ ও পৃথিবীতে যা কিছু রয়েছে, সবকিছু তাঁরই। কে আছে এমন যে তাঁর কাছে তাঁর অনুমতি ছাড়া সুপারিশ করবে? তাঁদের সামনে কী আছে ও পিছনে কী আছে সবই তিনি জানেন এবং তিনি যা ইচ্ছা করেন তা ছাড়া তারা তাঁর জ্ঞানের কিছুই আয়ত্ব করতে পারে না। তাঁর কুরসি আকাশ ও পৃথিবীকে পরিবেষ্টিত করেছে এবং সেগুলো সংরক্ষণ করতে তাঁর কষ্ট হয় না। এবং তিনিই সর্বোচ্চ ও মহান।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh