ঢাকা ০১:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
২০২৭ সালের পাঠ্যবইয়ে স্বাধীনতার ঘোষণার বর্ণনায় আসছে পরিবর্তন ইউনূসকে হেনস্তা কেবল শুরু, মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ নেতার টঙ্গীতে ওষুধ কারখানায় আগুন, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ১৪ ইউনিট দুর্যোগ ঝুঁকিহ্রাসে বিশেষ অবদান, রাষ্ট্রীয় সম্মাননা পেলেন মিরসরাইয়ের উম্মে হাবিবা টঙ্গীতে ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল কারখানায় আগুন, নিয়ন্ত্রণে ১২ ইউনিট খুলনা, চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগে বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস মহাশূন্যে পৃথিবীর চেয়েও বাসযোগ্য গ্রহ থাকতে পারে, বিজ্ঞানীদের গবেষণা ইরানের বিরুদ্ধে ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে, নতুন হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের বিহারের গঙ্গায় নৌকাডুবি: শিশুসহ নিহত ১৩ হুতিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইসরাইলের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন সৌদি যুবরাজ

হুতিদের মোকাবিলায় সৌদি-আমিরাত সমঝোতার নতুন উদ্যোগ

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১১:৫৭:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে একটি সামরিক জোট গঠনের লক্ষ্যে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে সমঝোতার প্রচেষ্টা চলছে। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ইয়েমেনে আমিরাতের ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে গত রোববার আবুধাবিতে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান এবং সৌদি আরবের প্রতিনিধিসহ কয়েকটি আরব দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেতানিয়াহু হুতিদের পরাজিত করতে সৌদি আরবকে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইয়েমেনে সৌদি আরবের সহায়তার আহ্বানে এখনো সাড়া না দেওয়ায়, রিয়াদের জন্য এই প্রস্তাব গ্রহণ করা কঠিন হতে পারে।

এর ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার রিয়াদে আরেকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান আল সৌদ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট শেখ মনসুর বিন জায়েদ আল নাহিয়ান অংশ নেন। মূলত হুতিদের পিছু হটাতে সক্ষম একটি সামরিক জোট গঠনের বিনিময়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা জরুরি হয়ে পড়েছে। যদিও চলতি বছরের জানুয়ারিতে দক্ষিণ ইয়েমেনে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল বা এসটিসির বাহিনীর ওপর সৌদি হামলার পর দুই দেশের সম্পর্কে মারাত্মক অবনতি ঘটে। ওই অভিযানটি দক্ষিণ ইয়েমেনকে পৃথক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার এসটিসির প্রচেষ্টা ঠেকাতেই পরিচালিত হয়েছিল।

সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে ইরানের মিত্র হুতিদের আকস্মিক সাফল্য পুরো অঞ্চলের ভূরাজনীতি বদলে দিয়েছে। হুতিরা সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে কৌশলগত বাব আল-মান্দেব প্রণালির দিকে এগিয়ে যায় এবং আমিরাত সমর্থিত ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সের তারেক সালেহর বাহিনীকে পরাজিত করে। বর্তমানে হুতিরা তাদের দখলে নেয়া এলাকাগুলো সুসংহত করার পাশাপাশি তাইজ শহর দখলের দিকে এগোচ্ছে। রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ বারা শিবান জানান, হুতিরা তাইজ অক্ষের বাহিনীকে ক্লান্ত করতে একের পর এক হামলা চালাচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত জ্বালানি খাতের মতো কোনো বিষয়ে সমঝোতার পথ খুঁজছে। তবে এসটিসির সঙ্গে আমিরাতের সম্পর্ক থাকায় রিয়াদ তাদের পুনরায় ফিরে আসতে দেবে কি না, তা নিয়ে জটিলতা রয়ে গেছে। ইয়েমেনের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী খালেদ আল ইয়েমানি জানিয়েছেন, দক্ষিণাঞ্চলীয় ইস্যুতে সৌদি আরবকে তার রাজনৈতিক কৌশল পুনর্বিবেচনা করতে হতে পারে, কারণ আমিরাতের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জায়ান্ট ব্রিগেডস হুতিদের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে অন্যতম নির্ভরযোগ্য বাহিনী হিসেবে বিবেচিত ছিল।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

হুতিদের মোকাবিলায় সৌদি-আমিরাত সমঝোতার নতুন উদ্যোগ

আপডেট সময় : ১১:৫৭:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে একটি সামরিক জোট গঠনের লক্ষ্যে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে সমঝোতার প্রচেষ্টা চলছে। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ইয়েমেনে আমিরাতের ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে গত রোববার আবুধাবিতে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান এবং সৌদি আরবের প্রতিনিধিসহ কয়েকটি আরব দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেতানিয়াহু হুতিদের পরাজিত করতে সৌদি আরবকে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইয়েমেনে সৌদি আরবের সহায়তার আহ্বানে এখনো সাড়া না দেওয়ায়, রিয়াদের জন্য এই প্রস্তাব গ্রহণ করা কঠিন হতে পারে।

এর ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার রিয়াদে আরেকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান আল সৌদ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট শেখ মনসুর বিন জায়েদ আল নাহিয়ান অংশ নেন। মূলত হুতিদের পিছু হটাতে সক্ষম একটি সামরিক জোট গঠনের বিনিময়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা জরুরি হয়ে পড়েছে। যদিও চলতি বছরের জানুয়ারিতে দক্ষিণ ইয়েমেনে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল বা এসটিসির বাহিনীর ওপর সৌদি হামলার পর দুই দেশের সম্পর্কে মারাত্মক অবনতি ঘটে। ওই অভিযানটি দক্ষিণ ইয়েমেনকে পৃথক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার এসটিসির প্রচেষ্টা ঠেকাতেই পরিচালিত হয়েছিল।

সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে ইরানের মিত্র হুতিদের আকস্মিক সাফল্য পুরো অঞ্চলের ভূরাজনীতি বদলে দিয়েছে। হুতিরা সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে কৌশলগত বাব আল-মান্দেব প্রণালির দিকে এগিয়ে যায় এবং আমিরাত সমর্থিত ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সের তারেক সালেহর বাহিনীকে পরাজিত করে। বর্তমানে হুতিরা তাদের দখলে নেয়া এলাকাগুলো সুসংহত করার পাশাপাশি তাইজ শহর দখলের দিকে এগোচ্ছে। রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ বারা শিবান জানান, হুতিরা তাইজ অক্ষের বাহিনীকে ক্লান্ত করতে একের পর এক হামলা চালাচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত জ্বালানি খাতের মতো কোনো বিষয়ে সমঝোতার পথ খুঁজছে। তবে এসটিসির সঙ্গে আমিরাতের সম্পর্ক থাকায় রিয়াদ তাদের পুনরায় ফিরে আসতে দেবে কি না, তা নিয়ে জটিলতা রয়ে গেছে। ইয়েমেনের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী খালেদ আল ইয়েমানি জানিয়েছেন, দক্ষিণাঞ্চলীয় ইস্যুতে সৌদি আরবকে তার রাজনৈতিক কৌশল পুনর্বিবেচনা করতে হতে পারে, কারণ আমিরাতের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জায়ান্ট ব্রিগেডস হুতিদের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে অন্যতম নির্ভরযোগ্য বাহিনী হিসেবে বিবেচিত ছিল।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin