চাঁদা না পেয়ে ওএমএস ডিলারের টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ যুবদল নেতার বিরুদ্ধে
- আপডেট সময় : ১১:০৯:৪৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

ভোলার বোরহানউদ্দিনে ওএমএস ডিলারের কাছে চাঁদা দাবি এবং টাকা ছিনতাইয়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় যুবদল নেতা তৈয়বুর রহমান মাতাব্বরের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী ডিলার মো. আব্দুর রহিম ওরফে হাসান ফরাজী এ ঘটনায় বোরহানউদ্দিন থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত তৈয়বুর রহমান মাতাব্বর (৪৫) উপজেলার পক্ষিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক এবং ভুক্তভোগী হাসান ফরাজী একই ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও হাসান ফরাজী ওই ইউনিয়নের ১ থেকে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ওএমএস ডিলার হিসেবে ১৫ টাকা কেজি দরে চাল বিতরণ কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত।
থানায় দায়ের করা অভিযোগে ডিলার হাসান ফরাজী জানান, ডিলারশিপ পাওয়ার পর থেকেই তৈয়বুর রহমান তাঁর কাছে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা একাধিকবার বিষয়টি নিয়ে সতর্ক করলেও তিনি কর্ণপাত করেননি। এর ধারাবাহিকতায় গত রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বেলা পৌনে ৩টার দিকে ইউনিয়ন পরিষদের নিচতলার গুদামে চাল বিতরণ করার সময় তৈয়বুর রহমান পুনরায় চাঁদা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ক্যাশবক্স থেকে নগদ ৫৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেন। ঘটনার রাতেই ডিলার হাসান ফরাজী থানায় অভিযোগটি দায়ের করেন।
উভয়ের রাজনৈতিক পরিচয় নিশ্চিত করে বোরহানউদ্দিন উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শিহাব উদ্দিন হাওলাদার বলেন, চাঁদাবাজি ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার বিষয়টি আমি শুনেছি। এর আগেও দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে তৈয়বুর রহমানকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।
অন্যদিকে, চাঁদা দাবি ও টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত যুবদল নেতা তৈয়বুর রহমান মাতাব্বর। তিনি দাবি করেন, ডিলারশিপের জন্য তাঁরা দুজনেই আবেদন করেছিলেন এবং দলীয় সিদ্ধান্তে একজনের নামে ডিলারশিপ হলেও লাভ দুজনের ভাগ করার কথা ছিল। সেই চুক্তি অনুযায়ী তাঁরা দুজনেই টাকা বিনিয়োগ করেছেন। গত তিন মাস তিনি চালানের টাকা দিলেও লভ্যাংশ নেননি। রোববার চাল বিক্রির পর হিসাব অনুযায়ী ৫০ হাজার টাকা করে দুজনে ভাগ করে নেন এবং বাকি টাকা হাসান ফরাজীর বাবাকে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
ঘটনার বিষয়ে বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশ্রাব আলী জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযোগটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


























