ঢাকা ০৩:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শরণখোলায় জেলের জালে ২০ কেজি ওজনের বিশাল কোরাল মাছ মুম্বাইয়ে সমাবেশের অনুমতি না পেয়ে জেল ভরো আন্দোলনের ডাক সিজেপির ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ নিয়ে মধ্যস্থতাকারীদের সাথে মার্কিন কর্মকর্তাদের আলোচনা সিঙ্গাপুরের কাছে হেরে আসিয়ান কাপ থেকে বিদায়ের শঙ্কায় বাংলাদেশ হুমকি দিয়ে আন্দোলন দমানো যাবে না, চুয়েটে মধ্যরাতে বিক্ষোভ রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় ৫০ লাখ টাকা দেবে জামায়াত বিচারকের আসনে রুহানী সালসাবিল, স্মৃতিকাতর উপস্থাপিকা অক্টোবরে শুরু হচ্ছে রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের ইউরেনিয়াম সরবরাহ: রোসাটম লাকসাম প্রেস ক্লাবের কমিটি গঠনে এমপির নির্দেশ, সাংবাদিক মহলে বিতর্ক শিশুর অন্ধত্ব প্রতিরোধে আরওপি স্ক্রিনিং ও সচেতনতার আহ্বান

শিশুর অন্ধত্ব প্রতিরোধে আরওপি স্ক্রিনিং ও সচেতনতার আহ্বান

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০১:২৮:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



অপরিণত নবজাতকদের অন্ধত্ব কমাতে 'রেটিনোপ্যাথি অব প্রিম্যাচিউরিটি' বা আরওপি সম্পর্কে স্বাস্থ্যসেবা কর্মী ও অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সোমবার রাজধানীতে আয়োজিত “বৈজ্ঞানিক সেমিনার: আরওপি পরীক্ষা ও ব্যবস্থাপনা” শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে তারা এই গুরুত্বের কথা তুলে ধরেন। অরবিস ইন্টারন্যাশনাল, বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটি ও বাংলাদেশ নিওনেটাল ফোরামের যৌথ উদ্যোগে এই সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়।

সেমিনারে বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটির নবজাতক রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল মান্নান এবং আরওপি ও রেটিনা বিশেষজ্ঞ ডা. তারিক রেজা আলী আলাদা দুটি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠানে এনআইসিইউ-তে কর্মরত চিকিৎসক ও নার্সরা অংশগ্রহণ করেন। অধ্যাপক মান্নান জানান, ৩৫ সপ্তাহের কম গর্ভাবস্থায় থাকা এবং দুই কেজির কম ওজনের শিশুদের আরওপি-তে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। তিনি সতর্ক করে বলেন, জন্মের ২০ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে অপরিণত শিশুদের চোখ পরীক্ষা না করালে এবং সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে তারা স্থায়ীভাবে দৃষ্টিশক্তি হারাতে পারে।

অধ্যাপক মান্নানের মতে, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৬ লাখ শিশু অপরিণত অবস্থায় জন্ম নেয় এবং স্ক্রিনিং করা শিশুদের মধ্যে ২০ থেকে ৩০ শতাংশের ক্ষেত্রে আরওপি শনাক্ত হয়। তিনি আরও জানান, অতীতে নিওনাটোলজিস্ট হিসেবে নিজের কর্মজীবনের শুরুতে তিনি নিজেও এই রোগ সম্পর্কে অবগত ছিলেন না, যা স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের মধ্যে আরও সচেতনতার প্রয়োজনীয়তাকে নির্দেশ করে। তিনি অভিভাবকদের যথাযথ পরামর্শ দেওয়ার জন্য নিওনাটোলজিস্টদের প্রতি আহ্বান জানান।

ডা. তারিক রেজা আলী বলেন, অপরিণত শিশুদের বেঁচে থাকার হার বৃদ্ধি পাওয়ায় বাংলাদেশে আরওপির হারও বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে নবজাতকদের চোখের পরীক্ষা ও যথাযথ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি। অরবিস ইন্টারন্যাশনালের কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. মুনির আহমেদ নবজাতকদের বাবা-মাকে পরামর্শ প্রদান এবং চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ডা. খালেদ নূর। এছাড়া বাংলাদেশ নিওনেটাল ফোরামের সভাপতি ডা. বেগম শরিফুন নাহার এবং ডা. নাজমুন নাহারও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীতে অনুষ্ঠিত সেমিনারে

অপরিণত নবজাতকদের অভিভাবকদের সঠিকভাবে পরামর্শ দিতে নিওনাটোলজিস্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তাদেরকে বোঝাতে হবে যে, জন্মের ২০-৩০ দিনের মধ্যে আরওপি স্ক্রিনিংয়ের জন্য শিশুকে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে না নিলে স্থায়ীভাবে দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঝুঁকি থাকে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

নিউজটি শেয়ার করুন

শিশুর অন্ধত্ব প্রতিরোধে আরওপি স্ক্রিনিং ও সচেতনতার আহ্বান

আপডেট সময় : ০১:২৮:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অপরিণত নবজাতকদের অন্ধত্ব কমাতে 'রেটিনোপ্যাথি অব প্রিম্যাচিউরিটি' বা আরওপি সম্পর্কে স্বাস্থ্যসেবা কর্মী ও অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সোমবার রাজধানীতে আয়োজিত “বৈজ্ঞানিক সেমিনার: আরওপি পরীক্ষা ও ব্যবস্থাপনা” শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে তারা এই গুরুত্বের কথা তুলে ধরেন। অরবিস ইন্টারন্যাশনাল, বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটি ও বাংলাদেশ নিওনেটাল ফোরামের যৌথ উদ্যোগে এই সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়।

সেমিনারে বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটির নবজাতক রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল মান্নান এবং আরওপি ও রেটিনা বিশেষজ্ঞ ডা. তারিক রেজা আলী আলাদা দুটি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠানে এনআইসিইউ-তে কর্মরত চিকিৎসক ও নার্সরা অংশগ্রহণ করেন। অধ্যাপক মান্নান জানান, ৩৫ সপ্তাহের কম গর্ভাবস্থায় থাকা এবং দুই কেজির কম ওজনের শিশুদের আরওপি-তে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। তিনি সতর্ক করে বলেন, জন্মের ২০ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে অপরিণত শিশুদের চোখ পরীক্ষা না করালে এবং সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে তারা স্থায়ীভাবে দৃষ্টিশক্তি হারাতে পারে।

অধ্যাপক মান্নানের মতে, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৬ লাখ শিশু অপরিণত অবস্থায় জন্ম নেয় এবং স্ক্রিনিং করা শিশুদের মধ্যে ২০ থেকে ৩০ শতাংশের ক্ষেত্রে আরওপি শনাক্ত হয়। তিনি আরও জানান, অতীতে নিওনাটোলজিস্ট হিসেবে নিজের কর্মজীবনের শুরুতে তিনি নিজেও এই রোগ সম্পর্কে অবগত ছিলেন না, যা স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের মধ্যে আরও সচেতনতার প্রয়োজনীয়তাকে নির্দেশ করে। তিনি অভিভাবকদের যথাযথ পরামর্শ দেওয়ার জন্য নিওনাটোলজিস্টদের প্রতি আহ্বান জানান।

ডা. তারিক রেজা আলী বলেন, অপরিণত শিশুদের বেঁচে থাকার হার বৃদ্ধি পাওয়ায় বাংলাদেশে আরওপির হারও বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে নবজাতকদের চোখের পরীক্ষা ও যথাযথ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি। অরবিস ইন্টারন্যাশনালের কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. মুনির আহমেদ নবজাতকদের বাবা-মাকে পরামর্শ প্রদান এবং চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ডা. খালেদ নূর। এছাড়া বাংলাদেশ নিওনেটাল ফোরামের সভাপতি ডা. বেগম শরিফুন নাহার এবং ডা. নাজমুন নাহারও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীতে অনুষ্ঠিত সেমিনারে

অপরিণত নবজাতকদের অভিভাবকদের সঠিকভাবে পরামর্শ দিতে নিওনাটোলজিস্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তাদেরকে বোঝাতে হবে যে, জন্মের ২০-৩০ দিনের মধ্যে আরওপি স্ক্রিনিংয়ের জন্য শিশুকে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে না নিলে স্থায়ীভাবে দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঝুঁকি থাকে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin