ঢাকা ০৪:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মিরপুরের রাড্ডা ক্লিনিক দখল করতে দেওয়া হবে না: আসিফ মাহমুদ চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করা বাংলাদেশের অগ্রাধিকার: জহির উদ্দিন স্বপন আসামে সিজেপি কর্মীদের আটকের ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রীকে অভিজিৎ দীপকের হুঁশিয়ারি ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন মো. রেজাউল হক চাঁদাবাজি সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের জন্য সমান হুমকি: বিপিএমইএ এনআইডি সেবা সহজ করতে ৩০ সেপ্টেম্বর ইসির মতবিনিময় সভা সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশকে ১০ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে এডিবি জামায়াত আমির শফিকুর রহমানের সঙ্গে ব্রুনাইয়ের হাইকমিশনারের বৈঠক শিশু নাফিস অপহরণ মামলার আসামির শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন তিন দিনে ১১৯ কোটি রুপি আয় করে রেকর্ড গড়ল ‘দ্য প্যারাডাইস’

পর্যটন খাতের বড় সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সরকারের নতুন মাস্টারপ্ল্যান

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৭:৩৭:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



সমুদ্র, পাহাড়, বন, নদী, দ্বীপ, প্রত্নসম্পদ আর বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির মতো পর্যটনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় সব উপাদানই বাংলাদেশে বিদ্যমান। বিশ্বের দীর্ঘতম অবিচ্ছিন্ন সমুদ্রসৈকত, সুন্দরবন, পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়, সিলেটের চা-বাগান, পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার, ষাটগম্বুজ মসজিদ ও মহাস্থানগড়ের মতো ঐতিহাসিক নিদর্শন দেশের পর্যটন সম্ভাবনাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। তবে এত বিপুল সম্পদ থাকা সত্ত্বেও জাতীয় অর্থনীতিতে পর্যটনের অবদান এখনো সীমিত। এবার এই সম্ভাবনাকে অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপ দিতে সরকার বড় পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন সচিব ফাহমিদা আখতার শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পর্যটন ভবনে বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানান, পর্যটন খাতের অবদান বর্তমানে জিডিপির ২ থেকে ৩ শতাংশ। এটিকে ৬ থেকে ৭ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই লক্ষ্য অর্জনে সরকার পর্যটন খাতের মাস্টারপ্ল্যান হালনাগাদ করছে, যা আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হবে। এই মাস্টারপ্ল্যানের আলোকে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।

সচিব জানান, পর্যটন খাতের প্রকৃত চিত্র জানতে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) আওতায় 'ট্যুরিজম স্যাটেলাইট অ্যাকাউন্ট' তৈরির কার্যক্রম চলছে। এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান, পর্যটক সংখ্যা এবং ইনবাউন্ড ও আউটবাউন্ড পর্যটনের পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যাবে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে পর্যটকদের আগ্রহের জায়গাগুলো চিহ্নিত করে উন্নয়ন করা হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন না থাকলেও, তা কতটা পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগানো যাচ্ছে সেটিই বড় প্রশ্ন। কক্সবাজার, সুন্দরবন, সিলেট ও হাওর অঞ্চলসহ বিভিন্ন স্থানে অ্যাডভেঞ্চার, প্রকৃতি ও সংস্কৃতিভিত্তিক পর্যটনের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। তবে ভালো যোগাযোগব্যবস্থা, মানসম্মত হোটেল-মোটেল, পর্যাপ্ত বিনোদন সুবিধা এবং নিরাপত্তার ঘাটতির কারণে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের আকৃষ্ট করা যাচ্ছে না। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্র্যান্ডিং ও বিপণনের দুর্বলতাও বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা হোটেল ও রিসোর্ট খাতে বিনিয়োগ করলেও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাব, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। প্যাসিফিক এশিয়া ট্রাভেল অ্যাসোসিয়েশন (পাটা) বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের মহাসচিব তৌফিক রহমান বলেন, বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে হলে বিভিন্ন দেশের ট্রাভেল অ্যাডভাইজরিতে বাংলাদেশকে 'রেড মার্ক' বা উচ্চ সতর্কতাপূর্ণ দেশ হিসেবে চিহ্নিত করে রাখার বিষয়টি পরিবর্তন করা জরুরি। তিনি বৈশ্বিক গণমাধ্যমে বাংলাদেশের ইতিবাচক ব্র্যান্ডিং এবং ট্যুরিস্ট পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন।

ওয়েসিস কনসোর্টিয়ামের প্রধান নির্বাহী জুয়েল খান মনে করেন, বিশ্বমানের অবকাঠামো থাকা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক মানের সার্ভিস কালচার ও ব্র্যান্ডিংয়ের অভাবে বাংলাদেশ কাঙ্ক্ষিত পর্যটক পাচ্ছে না। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পর্যটন খাতের সুফল স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দিতে তাদের সাংস্কৃতিক ও কারুশিল্পের সঙ্গে যুক্ত করা প্রয়োজন। এছাড়া বাজেট বরাদ্দ বাড়ানো, কক্সবাজার বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক মানে কার্যকর করা এবং ই-ভিসা সুবিধা সহজ করার দাবিও জোরালো হয়েছে।

এবারের বিশ্ব পর্যটন দিবসের প্রতিপাদ্য 'ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আগামীর পর্যটন'। সরকার পর্যটনশিল্পে এআই ও ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারে গুরুত্ব দিচ্ছে। এছাড়া পর্যটন খাতে উদ্ভাবন ও টেকসই উদ্যোগকে উৎসাহিত করতে প্রথমবারের মতো ১৩টি ক্যাটাগরিতে 'বাংলাদেশ পর্যটন পুরস্কার ২০২৬' প্রদান করা হবে। এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

পর্যটন খাতের বড় সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সরকারের নতুন মাস্টারপ্ল্যান

আপডেট সময় : ০৭:৩৭:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সমুদ্র, পাহাড়, বন, নদী, দ্বীপ, প্রত্নসম্পদ আর বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির মতো পর্যটনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় সব উপাদানই বাংলাদেশে বিদ্যমান। বিশ্বের দীর্ঘতম অবিচ্ছিন্ন সমুদ্রসৈকত, সুন্দরবন, পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়, সিলেটের চা-বাগান, পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার, ষাটগম্বুজ মসজিদ ও মহাস্থানগড়ের মতো ঐতিহাসিক নিদর্শন দেশের পর্যটন সম্ভাবনাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। তবে এত বিপুল সম্পদ থাকা সত্ত্বেও জাতীয় অর্থনীতিতে পর্যটনের অবদান এখনো সীমিত। এবার এই সম্ভাবনাকে অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপ দিতে সরকার বড় পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন সচিব ফাহমিদা আখতার শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পর্যটন ভবনে বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানান, পর্যটন খাতের অবদান বর্তমানে জিডিপির ২ থেকে ৩ শতাংশ। এটিকে ৬ থেকে ৭ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই লক্ষ্য অর্জনে সরকার পর্যটন খাতের মাস্টারপ্ল্যান হালনাগাদ করছে, যা আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হবে। এই মাস্টারপ্ল্যানের আলোকে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।

সচিব জানান, পর্যটন খাতের প্রকৃত চিত্র জানতে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) আওতায় 'ট্যুরিজম স্যাটেলাইট অ্যাকাউন্ট' তৈরির কার্যক্রম চলছে। এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান, পর্যটক সংখ্যা এবং ইনবাউন্ড ও আউটবাউন্ড পর্যটনের পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যাবে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে পর্যটকদের আগ্রহের জায়গাগুলো চিহ্নিত করে উন্নয়ন করা হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন না থাকলেও, তা কতটা পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগানো যাচ্ছে সেটিই বড় প্রশ্ন। কক্সবাজার, সুন্দরবন, সিলেট ও হাওর অঞ্চলসহ বিভিন্ন স্থানে অ্যাডভেঞ্চার, প্রকৃতি ও সংস্কৃতিভিত্তিক পর্যটনের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। তবে ভালো যোগাযোগব্যবস্থা, মানসম্মত হোটেল-মোটেল, পর্যাপ্ত বিনোদন সুবিধা এবং নিরাপত্তার ঘাটতির কারণে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের আকৃষ্ট করা যাচ্ছে না। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্র্যান্ডিং ও বিপণনের দুর্বলতাও বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা হোটেল ও রিসোর্ট খাতে বিনিয়োগ করলেও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাব, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। প্যাসিফিক এশিয়া ট্রাভেল অ্যাসোসিয়েশন (পাটা) বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের মহাসচিব তৌফিক রহমান বলেন, বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে হলে বিভিন্ন দেশের ট্রাভেল অ্যাডভাইজরিতে বাংলাদেশকে 'রেড মার্ক' বা উচ্চ সতর্কতাপূর্ণ দেশ হিসেবে চিহ্নিত করে রাখার বিষয়টি পরিবর্তন করা জরুরি। তিনি বৈশ্বিক গণমাধ্যমে বাংলাদেশের ইতিবাচক ব্র্যান্ডিং এবং ট্যুরিস্ট পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন।

ওয়েসিস কনসোর্টিয়ামের প্রধান নির্বাহী জুয়েল খান মনে করেন, বিশ্বমানের অবকাঠামো থাকা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক মানের সার্ভিস কালচার ও ব্র্যান্ডিংয়ের অভাবে বাংলাদেশ কাঙ্ক্ষিত পর্যটক পাচ্ছে না। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পর্যটন খাতের সুফল স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দিতে তাদের সাংস্কৃতিক ও কারুশিল্পের সঙ্গে যুক্ত করা প্রয়োজন। এছাড়া বাজেট বরাদ্দ বাড়ানো, কক্সবাজার বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক মানে কার্যকর করা এবং ই-ভিসা সুবিধা সহজ করার দাবিও জোরালো হয়েছে।

এবারের বিশ্ব পর্যটন দিবসের প্রতিপাদ্য 'ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আগামীর পর্যটন'। সরকার পর্যটনশিল্পে এআই ও ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারে গুরুত্ব দিচ্ছে। এছাড়া পর্যটন খাতে উদ্ভাবন ও টেকসই উদ্যোগকে উৎসাহিত করতে প্রথমবারের মতো ১৩টি ক্যাটাগরিতে 'বাংলাদেশ পর্যটন পুরস্কার ২০২৬' প্রদান করা হবে। এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh