ট্রাম্প-শি বৈঠক: মতপার্থক্য জিইয়ে রেখে স্থিতিশীল সম্পর্কের চেষ্টা
- আপডেট সময় : ০৯:৩৭:২৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

দীর্ঘ ১১ বছর পর চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের যুক্তরাষ্ট্র সফরের দ্বিতীয় দিনে ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এই শীর্ষ বৈঠকে দুই নেতা একান্ত আলোচনায় বসার পাশাপাশি ভোজসভায় অংশ নেন। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই বৈঠককে ফলপ্রসূ হিসেবে উল্লেখ করে জানিয়েছেন যে, দুই নেতার মধ্যে গভীর ব্যক্তিগত শ্রদ্ধা ও সুসম্পর্ক বিদ্যমান রয়েছে।
বৈঠকে দুই পরাশক্তির মধ্যে সম্ভাব্য সংঘাত এড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন শি জিনপিং। তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক এমন হওয়া উচিত যেখানে একে অপরকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সুস্থ প্রতিযোগিতা থাকবে, কিন্তু কোনো পক্ষ হারবে বা জিতবে এমন সংঘাত নয়। তবে এই ইতিবাচক বার্তার আড়ালেও দুই দেশের মধ্যে মৌলিক ভূরাজনৈতিক বিরোধগুলো অমীমাংসিতই রয়ে গেছে।
বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আগ্রাসন ও হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘটনায় তেহরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করতে ট্রাম্প বেইজিংয়ের সহায়তা চেয়েছেন। তবে ইরানের শীর্ষ বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে চীন সরাসরি ওয়াশিংটনের আহ্বানে সাড়া না দিয়ে সংকটটি রাজনৈতিক উপায়ে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।
অন্যদিকে, তাইওয়ান ইস্যু নিয়ে ট্রাম্পকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শি জিনপিং। স্বশাসিত তাইওয়ানের স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি না দেওয়ার পাশাপাশি বিষয়টি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানান তিনি। বিশেষ করে তাইপেকে ১ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের (প্রায় ১ লাখ ৭২ হাজার কোটি টাকার বেশি) সামরিক সহায়তা প্যাকেজ দেওয়ার মার্কিন সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছে বেইজিং।
এদিকে হোয়াইট হাউসে শি জিনপিংকে জাঁকজমকপূর্ণভাবে স্বাগত জানানো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ট্রাম্পের নিজের দল রিপাবলিকান এবং বিরোধী ডেমোক্র্যাট দলের অনেক সদস্যই এই আয়োজনের সমালোচনা করেছেন। তবে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ এড়াতে শীর্ষ নেতৃত্বের নিয়মিত যোগাযোগকে অনেকেই ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।

























