ঢাকা ১১:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শুধু জিপিএ-৫ পাওয়ার প্রতিযোগিতায় শিক্ষার উদ্দেশ্য সীমাবদ্ধ নয় সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা: জমি নিয়ে বিরোধে আটক ৩ টেনেসিতে ২০০ বছর পর নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রস্তুতি খুলনায় ২৭ বছর পর গ্রেফতার এরশাদ শিকদারের সহযোগী জয়নাল সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই: এবি পার্টি পাবনার চাটমোহরে ভূত আতঙ্ক কাটাতে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল ভোক্তা ঋণ বাড়লেও নির্মাণ ও পরিবহন খাতে বিনিয়োগে স্থবিরতা রুশ-ইউক্রেন পাল্টাপাল্টি হামলায় নিহত ১০, পুতিনের সঙ্গে রফার আহ্বান ট্রাম্পের নাটোরে সড়ক দুর্ঘটনায় সাইকেল আরোহী আবু সাইদ নিহত ওয়েম্বলিতে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে স্পেনের ঐতিহাসিক জয়

গাজায় খাদ্য ও নিরাপত্তার অভাবে বাড়ছে বাল্যবিয়ে ও যৌন সহিংসতা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৭:২৬:১২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



গাজা উপত্যকায় নারী ও কিশোরীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) তাদের সাম্প্রতিক একাধিক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, যুদ্ধবিধ্বস্ত এই অঞ্চলে বাল্যবিয়ে, জোরপূর্বক বিয়ে এবং যৌন নির্যাতনের ঘটনা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ১০টি সংস্থার কাছ থেকে সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে ইউএনএফপিএ জানিয়েছে, চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে গাজায় বাল্যবিয়ে ও জোরপূর্বক বিয়ের নথিভুক্ত ঘটনা আগের প্রান্তিকের তুলনায় ১২৩ শতাংশ বেড়েছে।

গাজা সিটি ও খান ইউনিসের বাস্তুচ্যুত শিবিরে ২৩০ জন নারীর সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে তৈরি আরেকটি প্রতিবেদনে আরও ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। এক নারী জানিয়েছেন, ধর্ষণের শিকার মেয়েদের সামাজিক লজ্জা এড়াতে অনেক সময় ধর্ষণকারীর সঙ্গেই তাদের বিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া খাদ্যের বিনিময়ে বিয়ের মতো মর্মান্তিক ঘটনাও ঘটছে। বিভিন্ন শিবিরের ছয়জন নারী জানিয়েছেন, গত বছর দুর্ভিক্ষের সময় এক ব্যক্তি তার ১৪ বছর বয়সী মেয়েকে দুই বস্তা আটার বিনিময়ে বিয়ে দিয়েছিলেন, যাতে তিনি ও তার অন্য সন্তানরা খাবার পেতে পারেন।

ইউএনএফপিএর ফিলিস্তিন প্রতিনিধি নেস্টর ওমুহাঙ্গি বলেন, যুদ্ধ, ব্যাপক প্রাণহানি, ধ্বংসযজ্ঞ ও বারবার বাস্তুচ্যুতির কারণে গাজার সামাজিক কাঠামো ভেঙে পড়েছে। তার ভাষায়, “সবকিছু ক্ষয়ে গেছে… কোনো ব্যবস্থা নেই।” প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দুই কোটির বেশি গাজাবাসীর প্রায় সবাই যুদ্ধের কোনো না কোনো পর্যায়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। অধিকাংশ মানুষ এখন তাবু কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে বসবাস করছেন। খাদ্যের বাজার চালু থাকলেও বহু মানুষ প্রয়োজনীয় পণ্য কেনার সামর্থ্য হারিয়েছেন। দারিদ্র্য ও ক্ষুধার পাশাপাশি সরকারি সেবাব্যবস্থাও অনেকাংশে ভেঙে পড়েছে।

যুদ্ধের আগে গাজার মেয়েরা প্রাথমিকের পর প্রায় সব স্তরের শিক্ষায় ছেলেদের তুলনায় এগিয়ে ছিল। দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকায় এখন বহু শিশু পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছে এবং মেয়েদের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। বাস্তুচ্যুত শিবিরে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অভাব এবং অপরিচিত মানুষের সঙ্গে বসবাসের কারণে যৌন হয়রানি ও নির্যাতনের ঝুঁকি বেড়েছে। অনেক পরিবার মেয়েদের নিরাপত্তা ও সামাজিক মর্যাদা রক্ষার উপায় হিসেবে বিয়েকে বেছে নিচ্ছে। বিশেষ করে বাবা-মা হারানো মেয়েরা বিশেষভাবে ঝুঁকিতে রয়েছে। গাজা সিটির একটি শিবিরে এক নারী জানান, তার পরিবারের ১৪ ও ১৫ বছর বয়সী দুই মেয়েকে তাদের চাচারা বিয়ে দিয়েছেন। মেয়েদের বাবা-মা নিহত হওয়ার পর তাদের দায়িত্ব ও খরচ থেকে মুক্তি পেতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানান তিনি।

গাজার বিভিন্ন সহায়তা সংস্থা জানিয়েছে, বাল্যবিয়ের পর অনেক কিশোরী নির্যাতনের শিকার হচ্ছে এবং অল্প বয়সেই গর্ভবতী হয়ে পড়ছে। কিশোরী মায়েদের গর্ভপাত ও কম ওজনের সন্তান জন্ম দেওয়ার ঝুঁকি বেশি। গাজায় যৌন সহিংসতার প্রকৃত চিত্র এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি, কারণ সামাজিক লজ্জা ও প্রতিশোধের ভয়ে অনেক ঘটনা প্রকাশ্যে আসে না। তবে ইউএনএফপিএর সর্বশেষ বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নসহ যৌন সহিংসতা এখন “সংকটজনক” পর্যায়ে রয়েছে। এপ্রিল থেকে জুন ২০২৬ পর্যন্ত নথিভুক্ত লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার ২ দশমিক ৭ শতাংশ ছিল যৌন সহিংসতা, যা আগের প্রান্তিকের ২ দশমিক ১ শতাংশের তুলনায় মোট ঘটনার হিসাবে ৬১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

গাজায় খাদ্য ও নিরাপত্তার অভাবে বাড়ছে বাল্যবিয়ে ও যৌন সহিংসতা

আপডেট সময় : ০৭:২৬:১২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গাজা উপত্যকায় নারী ও কিশোরীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) তাদের সাম্প্রতিক একাধিক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, যুদ্ধবিধ্বস্ত এই অঞ্চলে বাল্যবিয়ে, জোরপূর্বক বিয়ে এবং যৌন নির্যাতনের ঘটনা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ১০টি সংস্থার কাছ থেকে সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে ইউএনএফপিএ জানিয়েছে, চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে গাজায় বাল্যবিয়ে ও জোরপূর্বক বিয়ের নথিভুক্ত ঘটনা আগের প্রান্তিকের তুলনায় ১২৩ শতাংশ বেড়েছে।

গাজা সিটি ও খান ইউনিসের বাস্তুচ্যুত শিবিরে ২৩০ জন নারীর সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে তৈরি আরেকটি প্রতিবেদনে আরও ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। এক নারী জানিয়েছেন, ধর্ষণের শিকার মেয়েদের সামাজিক লজ্জা এড়াতে অনেক সময় ধর্ষণকারীর সঙ্গেই তাদের বিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া খাদ্যের বিনিময়ে বিয়ের মতো মর্মান্তিক ঘটনাও ঘটছে। বিভিন্ন শিবিরের ছয়জন নারী জানিয়েছেন, গত বছর দুর্ভিক্ষের সময় এক ব্যক্তি তার ১৪ বছর বয়সী মেয়েকে দুই বস্তা আটার বিনিময়ে বিয়ে দিয়েছিলেন, যাতে তিনি ও তার অন্য সন্তানরা খাবার পেতে পারেন।

ইউএনএফপিএর ফিলিস্তিন প্রতিনিধি নেস্টর ওমুহাঙ্গি বলেন, যুদ্ধ, ব্যাপক প্রাণহানি, ধ্বংসযজ্ঞ ও বারবার বাস্তুচ্যুতির কারণে গাজার সামাজিক কাঠামো ভেঙে পড়েছে। তার ভাষায়, “সবকিছু ক্ষয়ে গেছে… কোনো ব্যবস্থা নেই।” প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দুই কোটির বেশি গাজাবাসীর প্রায় সবাই যুদ্ধের কোনো না কোনো পর্যায়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। অধিকাংশ মানুষ এখন তাবু কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে বসবাস করছেন। খাদ্যের বাজার চালু থাকলেও বহু মানুষ প্রয়োজনীয় পণ্য কেনার সামর্থ্য হারিয়েছেন। দারিদ্র্য ও ক্ষুধার পাশাপাশি সরকারি সেবাব্যবস্থাও অনেকাংশে ভেঙে পড়েছে।

যুদ্ধের আগে গাজার মেয়েরা প্রাথমিকের পর প্রায় সব স্তরের শিক্ষায় ছেলেদের তুলনায় এগিয়ে ছিল। দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকায় এখন বহু শিশু পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছে এবং মেয়েদের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। বাস্তুচ্যুত শিবিরে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অভাব এবং অপরিচিত মানুষের সঙ্গে বসবাসের কারণে যৌন হয়রানি ও নির্যাতনের ঝুঁকি বেড়েছে। অনেক পরিবার মেয়েদের নিরাপত্তা ও সামাজিক মর্যাদা রক্ষার উপায় হিসেবে বিয়েকে বেছে নিচ্ছে। বিশেষ করে বাবা-মা হারানো মেয়েরা বিশেষভাবে ঝুঁকিতে রয়েছে। গাজা সিটির একটি শিবিরে এক নারী জানান, তার পরিবারের ১৪ ও ১৫ বছর বয়সী দুই মেয়েকে তাদের চাচারা বিয়ে দিয়েছেন। মেয়েদের বাবা-মা নিহত হওয়ার পর তাদের দায়িত্ব ও খরচ থেকে মুক্তি পেতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানান তিনি।

গাজার বিভিন্ন সহায়তা সংস্থা জানিয়েছে, বাল্যবিয়ের পর অনেক কিশোরী নির্যাতনের শিকার হচ্ছে এবং অল্প বয়সেই গর্ভবতী হয়ে পড়ছে। কিশোরী মায়েদের গর্ভপাত ও কম ওজনের সন্তান জন্ম দেওয়ার ঝুঁকি বেশি। গাজায় যৌন সহিংসতার প্রকৃত চিত্র এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি, কারণ সামাজিক লজ্জা ও প্রতিশোধের ভয়ে অনেক ঘটনা প্রকাশ্যে আসে না। তবে ইউএনএফপিএর সর্বশেষ বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নসহ যৌন সহিংসতা এখন “সংকটজনক” পর্যায়ে রয়েছে। এপ্রিল থেকে জুন ২০২৬ পর্যন্ত নথিভুক্ত লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার ২ দশমিক ৭ শতাংশ ছিল যৌন সহিংসতা, যা আগের প্রান্তিকের ২ দশমিক ১ শতাংশের তুলনায় মোট ঘটনার হিসাবে ৬১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin