জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে জনজীবনে বাড়তি খরচের চাপ
- আপডেট সময় : ০২:০৩:২৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর সরকারি সিদ্ধান্তের পর থেকেই সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় নতুন করে চাপের সৃষ্টি হয়েছে। রোববার রাতে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ থেকে নতুন এই মূল্য ঘোষণার পর সোমবার থেকেই এর প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। নতুন এই তালিকায় ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ থেকে ১৫৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৪৫ থেকে ১৬৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
পরিবহন খাতে এর তাৎক্ষণিক ও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ডিজেলচালিত বাস, ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানের পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ভাড়া সমন্বয়ের চাপ তৈরি হয়েছে এবং বিভিন্ন স্থান থেকে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। সিএনজি অটোরিকশা ও রাইড শেয়ারিং ব্যবহারকারী সাধারণ মানুষও এই যাতায়াত খরচের চাপে দিশাহারা। বেনাপোল স্থলবন্দরের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ট্রাক ভাড়া প্রতি ট্রিপে পাঁচ থেকে আট হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে, যার ফলে আমদানিকৃত পণ্যের খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত তা ভোক্তাদের ওপরই বর্তাবে। বেনাপোল ল্যান্ড পোর্ট ইমপোর্টার অ্যান্ড এক্সপোর্টার এসোসিয়েশনের সভাপতি মতিয়ার রহমান জানান, রোববার বেনাপোল থেকে ঢাকায় ১৫ টন পণ্য পরিবহনের ভাড়া ২১-২২ হাজার টাকা থাকলেও এখন তা ২৫-২৬ হাজার টাকা চাওয়া হচ্ছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এই মূল্যবৃদ্ধি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে নানামুখী চাপ সৃষ্টি করবে। ড. সেলিম রায়হান সতর্ক করেছেন যে, পরিবহন ও শিল্প উৎপাদনের খরচ বাড়ার ফলে মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন করে তীব্র চাপ পড়বে, যা নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যম আয়ের মানুষের জীবনযাত্রাকে সংকটাপন্ন করবে। সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম মনে করেন, জ্বালানির দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মূল্য সমন্বয় প্রয়োজন এবং অসাধু সুযোগ নেওয়া রোধে সরকারের কঠোর নজরদারি থাকা উচিত। তিনি বিশ্ববাজারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে দাম নির্ধারণের ব্যবস্থায় ফেরার পরামর্শ দিয়েছেন।
শিল্প খাতেও এই সিদ্ধান্তের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ। তিনি জানান, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় অভ্যন্তরীণ ব্যবসার পাশাপাশি রপ্তানিমুখী শিল্পের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা কমে যেতে পারে। কনজ্যুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন এই সিদ্ধান্তকে ‘অপরিণামদর্শী’ ও অযৌক্তিক বলে অভিহিত করেছেন। এছাড়া বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকেও এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে এই মূল্যবৃদ্ধিকে জরুরি হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও ফ্রেইট চার্জ বৃদ্ধি, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি কমানো এবং সীমান্তপথে জ্বালানি পাচার রোধের যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে।

























