ঢাকা ০৪:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মধ্যপ্রাচ্যের সংকট কাটলে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করবে সরকার মেধাভিত্তিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষার্থীদের প্রতি ডেপুটি স্পিকারের আহ্বান আবু ইয়াকুব ইউসুফ আল-কুমি: ইবন আরাবির বর্ণনায় এক সুফি সাধক সোনারগাঁয়ে মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার ১২ ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহে ট্যাব ও প্রশিক্ষণ শুরু সমাজসেবা অধিদপ্তরের জাতিসংঘে আজ প্রথম ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান না ফেরার দেশে প্রখ্যাত শিশুসাহিত্যিক আখতার হুসেন বঙ্গভবনের সিংহ পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করলেন প্রেসিডেন্ট বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমল, কারণ জানাল রয়টার্স টেকসই উন্নয়নে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির আহ্বান ববি হাজ্জাজের

মৌলভীবাজারে হাম ও নানা রোগের প্রকোপ, শয্যাসংকটে রোগীরা মেঝেতে

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৫:১২:৩৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



মৌলভীবাজারে হামসহ বিভিন্ন ধরনের মৌসুমী রোগের প্রকোপ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। ২০২৬ (2026) সালের ১৮ সেপ্টেম্বর প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার হাসপাতালগুলোতে শয্যাসংকট দেখা দিয়েছে। ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত রোগী ভর্তি হওয়ায় অনেককে হাসপাতালের মেঝেতে থেকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগী ও স্বজনরা।

জেলায় এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৭৫৮ জন। ল্যাব টেস্টের মাধ্যমে ১৫৮ জনের শরীরে হাম এবং দুজনের শরীরে রুবেলা শনাক্ত হয়েছে। ইতিমধ্যে এই রোগে আক্রান্ত হয়ে ১৫টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে ল্যাব টেস্টের রিপোর্ট পেতে এক সপ্তাহ থেকে ১০ দিন পর্যন্ত সময় লেগে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। সদর হাসপাতাল ছাড়াও বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ক্লিনিকে রোগীরা চিকিৎসা নিচ্ছেন। ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে বর্তমানে হামের উপসর্গ নিয়ে ২৭ জন চিকিৎসাধীন, যার মধ্যে ৯ জন প্রাপ্তবয়স্ক।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২৫০ শয্যার এই হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ৪০০ থেকে ৪৫০ জন রোগী ভর্তি থাকছেন। হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ জন রোগী চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন। বর্তমানে শিশু ওয়ার্ডে ৩৮ জন, নবজাতকদের স্কেনো (SCANU) ওয়ার্ডে ১৮ জন, মেডিসিন ওয়ার্ডে ৮১ জন, ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ২৯ জন এবং ডেঙ্গু ওয়ার্ডে ২ জন রোগী ভর্তি আছেন। জেলায় এ পর্যন্ত মোট ৩০ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। জ্বর, সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্টের মতো রোগের প্রাদুর্ভাব এখন জেলাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে।

হাসপালের উপপরিচালক ডা. বিনেন্দু ভৌমিক জানান, প্রতিদিন নতুন নতুন রোগী হাসপাতালে আসছেন। শয্যা ২৫০টি হলেও ধারণক্ষমতার প্রায় দ্বিগুণ রোগী ভর্তি রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।

এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে জেলায় দ্বিতীয় পর্যায়ের হাম ক্যাম্পেইন শুরু হতে যাচ্ছে। এই কর্মসূচির আওতায় নতুন করে ২১ হাজার ৩৪৪ জনকে টিকার আওতায় আনা হবে। সিভিল সার্জন ডা. মামুনুর রহমান জানিয়েছেন, জেলায় হামের প্রকোপ না কমা পর্যন্ত এই টিকাদান কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় পর্যায়ে বড়লেখা উপজেলায় ২ হাজার ২২৯ জন, বড়লেখা পৌরসভায় ২০৪ জন, জুড়ী উপজেলায় ১ হাজার ৪৫৫ জন, কুলাউড়া উপজেলায় ৪ হাজার ৫৭১ জন, সদর উপজেলায় ৩ হাজার ৩২৬ জন ও সদর পৌরসভায় ৩৪১ জন, কমলগঞ্জ উপজেলায় ২ হাজার ৪৭৮ জন, রাজনগর উপজেলায় ৩ হাজার ২৯৩ জন এবং শ্রীমঙ্গল উপজেলায় ৩ হাজার ৬২৬ জন ও শ্রীমঙ্গল পৌরসভায় ২৩১ জন শিশুকে এই টিকা দেওয়া হবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

মৌলভীবাজারে হাম ও নানা রোগের প্রকোপ, শয্যাসংকটে রোগীরা মেঝেতে

আপডেট সময় : ০৫:১২:৩৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মৌলভীবাজারে হামসহ বিভিন্ন ধরনের মৌসুমী রোগের প্রকোপ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। ২০২৬ (2026) সালের ১৮ সেপ্টেম্বর প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার হাসপাতালগুলোতে শয্যাসংকট দেখা দিয়েছে। ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত রোগী ভর্তি হওয়ায় অনেককে হাসপাতালের মেঝেতে থেকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগী ও স্বজনরা।

জেলায় এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৭৫৮ জন। ল্যাব টেস্টের মাধ্যমে ১৫৮ জনের শরীরে হাম এবং দুজনের শরীরে রুবেলা শনাক্ত হয়েছে। ইতিমধ্যে এই রোগে আক্রান্ত হয়ে ১৫টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে ল্যাব টেস্টের রিপোর্ট পেতে এক সপ্তাহ থেকে ১০ দিন পর্যন্ত সময় লেগে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। সদর হাসপাতাল ছাড়াও বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ক্লিনিকে রোগীরা চিকিৎসা নিচ্ছেন। ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে বর্তমানে হামের উপসর্গ নিয়ে ২৭ জন চিকিৎসাধীন, যার মধ্যে ৯ জন প্রাপ্তবয়স্ক।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২৫০ শয্যার এই হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ৪০০ থেকে ৪৫০ জন রোগী ভর্তি থাকছেন। হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ জন রোগী চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন। বর্তমানে শিশু ওয়ার্ডে ৩৮ জন, নবজাতকদের স্কেনো (SCANU) ওয়ার্ডে ১৮ জন, মেডিসিন ওয়ার্ডে ৮১ জন, ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ২৯ জন এবং ডেঙ্গু ওয়ার্ডে ২ জন রোগী ভর্তি আছেন। জেলায় এ পর্যন্ত মোট ৩০ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। জ্বর, সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্টের মতো রোগের প্রাদুর্ভাব এখন জেলাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে।

হাসপালের উপপরিচালক ডা. বিনেন্দু ভৌমিক জানান, প্রতিদিন নতুন নতুন রোগী হাসপাতালে আসছেন। শয্যা ২৫০টি হলেও ধারণক্ষমতার প্রায় দ্বিগুণ রোগী ভর্তি রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।

এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে জেলায় দ্বিতীয় পর্যায়ের হাম ক্যাম্পেইন শুরু হতে যাচ্ছে। এই কর্মসূচির আওতায় নতুন করে ২১ হাজার ৩৪৪ জনকে টিকার আওতায় আনা হবে। সিভিল সার্জন ডা. মামুনুর রহমান জানিয়েছেন, জেলায় হামের প্রকোপ না কমা পর্যন্ত এই টিকাদান কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় পর্যায়ে বড়লেখা উপজেলায় ২ হাজার ২২৯ জন, বড়লেখা পৌরসভায় ২০৪ জন, জুড়ী উপজেলায় ১ হাজার ৪৫৫ জন, কুলাউড়া উপজেলায় ৪ হাজার ৫৭১ জন, সদর উপজেলায় ৩ হাজার ৩২৬ জন ও সদর পৌরসভায় ৩৪১ জন, কমলগঞ্জ উপজেলায় ২ হাজার ৪৭৮ জন, রাজনগর উপজেলায় ৩ হাজার ২৯৩ জন এবং শ্রীমঙ্গল উপজেলায় ৩ হাজার ৬২৬ জন ও শ্রীমঙ্গল পৌরসভায় ২৩১ জন শিশুকে এই টিকা দেওয়া হবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh