চরফ্যাশনে প্রধান শিক্ষকের বিল আটকে ঘুষ দাবির অভিযোগ, ফাইল কেড়ে নেওয়ারও দাবি
- আপডেট সময় : ১২:১৯:৪৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক প্রধান শিক্ষকের বকেয়া এরিয়া বিল ছাড় করানোর বিনিময়ে ৪০ হাজার টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষক ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার কাছ থেকে বিল-সংক্রান্ত সরকারি ফাইল ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কেড়ে নেওয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগকারী মনির উদ্দিন চরফ্যাশন উপজেলার হাজিরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। তিনি জানান, তার প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার বকেয়া এরিয়া বিল দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে আটকে আছে। ইতিপূর্বে লালমোহন উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত থাকাকালীন এই বিলের বিষয়টি ঝুলে ছিল। প্রায় তিন বছর আগে চরফ্যাশনে বদলি হয়ে আসার পর গত দুই বছর ধরে তিনি বিল পাওয়ার জন্য নিয়মিত উপজেলা শিক্ষা অফিসে যোগাযোগ রক্ষা করে আসছেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষকের ভাষ্যমতে, বিলের ফাইলের জট ছাড়ানো এবং উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার দোহাই দিয়ে তার কাছ থেকে এর আগে ১৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র প্রস্তুত করা হলেও একটি প্রত্যয়নপত্রে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার স্বাক্ষর বাকি ছিল। ওই স্বাক্ষর করিয়ে দেওয়ার কথা বলে উপজেলা শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মো. ছাত্তার তার কাছে নতুন করে ৪০ হাজার টাকা দাবি করেন।
মনির উদ্দিন অভিযোগ করেন, তাকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার বকেয়া বিল পেতে হলে ৪০ হাজার টাকা দিতে হবে। এই ঘুষ দিতে রাজি না হওয়ায় অফিস সহকারী ছাত্তার তার ওপর চড়াও হন এবং বিল-সংক্রান্ত কাগজপত্র ও গুরুত্বপূর্ণ খাতা নিয়ে নেন। পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হওয়ার আশঙ্কায় আগে নেওয়া ১৫ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন। তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, বিচার এবং তার প্রাপ্য টাকা দ্রুত পরিশোধের দাবি জানিয়েছেন।
তবে অভিযুক্ত অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মো. ছাত্তার ঘুষ দাবির বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, “শিক্ষককে বিল করে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। তার কাছে কোনো টাকা-পয়সা চাওয়া হয়নি।”
এ বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, তিনি ইতোমধ্যে ওই শিক্ষকের বিল-সংক্রান্ত কাগজপত্রে স্বাক্ষর করেছেন। তিনি আরও বলেন, অফিস সহকারী ছাত্তারের বিরুদ্ধে ঘুষ দাবি কিংবা নথিপত্র কেড়ে নেওয়ার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



























