ঢাকা ১১:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রুশ-ইউক্রেন পাল্টাপাল্টি হামলায় নিহত ১০, পুতিনের সঙ্গে রফার আহ্বান ট্রাম্পের নাটোরে সড়ক দুর্ঘটনায় সাইকেল আরোহী আবু সাইদ নিহত ওয়েম্বলিতে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে স্পেনের ঐতিহাসিক জয় রোনালদোর গ্যারেজে থাকা দুর্লভ বুগাত্তি ও তাঁর বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার শাহজালালে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কমিটি গঠনের বিজ্ঞপ্তিতে ছাত্রদলের মধ্যরাতে বিক্ষোভ বিশ্ব পর্যটন দিবস: ডিজিটাল ও এআই প্রযুক্তিতে সাজছে বাংলাদেশের পর্যটন বিশ্বমঞ্চে নজর কাড়ল চীনা ফার্স্টলেডি পং লিউয়ানের গ্ল্যামার ও সফট পাওয়ার হুরুন ইন্ডিয়া রিচ লিস্ট: ১০ হাজার কোটি রুপির সম্পদ নিয়ে শীর্ষে শাহরুখ সপ্তাহের শুরুতে শেয়ারবাজার, মুদ্রা ও নিত্যপণ্যের বাজার পরিস্থিতি নেপালে বন্যায় মৃত বেড়ে ১৪৫৩, নিখোঁজ এখনো প্রায় ৬ হাজার

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে দেশে দেশে ক্ষোভ, রাজপথে বিক্ষোভ

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৬:৩৪:৪২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় উন্নয়নশীল থেকে শুরু করে উন্নত—সব দেশের সাধারণ মানুষ তীব্র সংকটের মুখে পড়েছেন। এর প্রতিবাদে ইন্দোনেশিয়া, সিরিয়া, শ্রীলঙ্কা, ফিলিপাইন, গুয়াতেমালা এবং পর্তুগালের মতো দেশগুলোতে রাজপথে নেমে এসেছেন ক্ষুব্ধ নাগরিকেরা।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম প্রধান রুট হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ রয়েছে। এতে যুদ্ধের শুরুর দিকে তেলের দাম রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছিল। মাঝে দাম কিছুটা কমলেও বর্তমানে বাব আল-মানদেব প্রণালিকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া উত্তেজনায় তেলের দাম আবারও প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলারের ওপরে চলে গেছে।

জ্বালানিসংকটের তীব্র রূপ দেখা গেছে ইন্দোনেশিয়ায়। রাজধানী জাকার্তায় তেল না পেয়ে অনেককে মোটরসাইকেল ঠেলে নিয়ে যেতে দেখা গেছে। পেট্রলপাম্পগুলোর সামনে গাড়ির দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে গাড়ির নম্বর জোড় নাকি বিজোড়, তার ওপর ভিত্তি করে তেল দেওয়ার নিয়ম চালু করেছে দেশটির সরকার। এর প্রতিবাদে গত সোমবার বিক্ষোভ করেছেন ট্যাক্সিচালকেরা। জাভার জোগাকার্তাতেও উত্তেজনা বাড়ছে, যেখানে সোমবার শিক্ষার্থীরা জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন।

ফিলিপাইনের ম্যানিলা উপসাগরের জেলেরা পড়েছেন চরম বিপাকে। বর্ষা শেষে এ সপ্তাহ থেকে সাগরে মাছ ধরতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিলেও জ্বালানির বাড়তি দামের কারণে তাঁরা তা পারছেন না। মৎস্যজীবীদের একটি সংগঠনের চেয়ারম্যান ফার্নান্দো হিকাপ জানান, জ্বালানির আকাশচুম্বী দামের কারণে তাঁদের দম বন্ধ হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

এদিকে সিরিয়া সরকার সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম সাময়িকভাবে সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর ঘোষণা দিলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। গত রবি ও সোমবার দেশটিতে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। বিভিন্ন শহরে যান চলাচল বন্ধ করে টায়ারে আগুন দেওয়া হয়, এমনকি কেউ কেউ নিজের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন। তবে সিরীয় সরকারের দাবি, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দাম বাড়ানো ছাড়া তাদের সামনে কোনো পথ ছিল না।

শ্রীলঙ্কায় প্রতি মাসে জ্বালানির দাম নির্ধারণ করা হলেও বর্তমানে পেট্রলপাম্পগুলোতে সরবরাহ সীমিত করে দিয়েছে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। সামনে দাম আরও বাড়ার আশঙ্কায় তারা এই পদক্ষেপ নিচ্ছে। শ্রীলঙ্কার পেট্রলপাম্প মালিকদের সংগঠনের চেয়ারম্যান কুমারা রাজাপক্ষ সোমবার সাংবাদিকদের জানান, তাঁরা বর্তমানে লোকসান দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছেন।

লাতিন আমেরিকার দেশ গুয়াতেমালাতেও কৃষকেরা ক্ষুব্ধ, কারণ ট্রাক্টর চালাতে তাঁদের ডিজেলের ওপর নির্ভর করতে হয়। সম্প্রতি গুয়াতেমালা সিটিতে পরিবহনশ্রমিক ও আদিবাসী অধিকারকর্মীরা মিছিল করেছেন। এর কয়েক দিন পর রাজধানীর দক্ষিণের ভিয়া নুয়েভা এলাকায় রাস্তায় গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ভিডিও ফুটেজ সামনে এসেছে।

ইউরোপের দেশ পর্তুগালেও গত সপ্তাহে গাড়িচালকেরা হর্ন বাজিয়ে ও ধীরগতিতে গাড়ি চালিয়ে অভিনব প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এতে রাজধানী লিসবনের ‘২৫ দে এপ্রিল’ সেতুসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

এই বৈশ্বিক সংকট নিয়ে যুক্তরাজ্যের সোয়াস ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের অধ্যাপক নাওমি হোসাইন বিশ্লেষণধর্মী মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশের মধ্যপন্থী সরকারগুলো এই সংকট থেকে জনগণকে রক্ষা করতে খুব বেশি কিছু করতে পারছে না এবং বেশির ভাগ জায়গায় বাস্তবসম্মত কোনো বিকল্পও নেই। এর একটি বড় পরিণতি হলো, বিশ্বজুড়ে জনতুষ্টিবাদ বা পপুলিজম আরও জোরালো হয়ে উঠছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে দেশে দেশে ক্ষোভ, রাজপথে বিক্ষোভ

আপডেট সময় : ০৬:৩৪:৪২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় উন্নয়নশীল থেকে শুরু করে উন্নত—সব দেশের সাধারণ মানুষ তীব্র সংকটের মুখে পড়েছেন। এর প্রতিবাদে ইন্দোনেশিয়া, সিরিয়া, শ্রীলঙ্কা, ফিলিপাইন, গুয়াতেমালা এবং পর্তুগালের মতো দেশগুলোতে রাজপথে নেমে এসেছেন ক্ষুব্ধ নাগরিকেরা।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম প্রধান রুট হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ রয়েছে। এতে যুদ্ধের শুরুর দিকে তেলের দাম রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছিল। মাঝে দাম কিছুটা কমলেও বর্তমানে বাব আল-মানদেব প্রণালিকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া উত্তেজনায় তেলের দাম আবারও প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলারের ওপরে চলে গেছে।

জ্বালানিসংকটের তীব্র রূপ দেখা গেছে ইন্দোনেশিয়ায়। রাজধানী জাকার্তায় তেল না পেয়ে অনেককে মোটরসাইকেল ঠেলে নিয়ে যেতে দেখা গেছে। পেট্রলপাম্পগুলোর সামনে গাড়ির দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে গাড়ির নম্বর জোড় নাকি বিজোড়, তার ওপর ভিত্তি করে তেল দেওয়ার নিয়ম চালু করেছে দেশটির সরকার। এর প্রতিবাদে গত সোমবার বিক্ষোভ করেছেন ট্যাক্সিচালকেরা। জাভার জোগাকার্তাতেও উত্তেজনা বাড়ছে, যেখানে সোমবার শিক্ষার্থীরা জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন।

ফিলিপাইনের ম্যানিলা উপসাগরের জেলেরা পড়েছেন চরম বিপাকে। বর্ষা শেষে এ সপ্তাহ থেকে সাগরে মাছ ধরতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিলেও জ্বালানির বাড়তি দামের কারণে তাঁরা তা পারছেন না। মৎস্যজীবীদের একটি সংগঠনের চেয়ারম্যান ফার্নান্দো হিকাপ জানান, জ্বালানির আকাশচুম্বী দামের কারণে তাঁদের দম বন্ধ হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

এদিকে সিরিয়া সরকার সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম সাময়িকভাবে সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর ঘোষণা দিলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। গত রবি ও সোমবার দেশটিতে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। বিভিন্ন শহরে যান চলাচল বন্ধ করে টায়ারে আগুন দেওয়া হয়, এমনকি কেউ কেউ নিজের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন। তবে সিরীয় সরকারের দাবি, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দাম বাড়ানো ছাড়া তাদের সামনে কোনো পথ ছিল না।

শ্রীলঙ্কায় প্রতি মাসে জ্বালানির দাম নির্ধারণ করা হলেও বর্তমানে পেট্রলপাম্পগুলোতে সরবরাহ সীমিত করে দিয়েছে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। সামনে দাম আরও বাড়ার আশঙ্কায় তারা এই পদক্ষেপ নিচ্ছে। শ্রীলঙ্কার পেট্রলপাম্প মালিকদের সংগঠনের চেয়ারম্যান কুমারা রাজাপক্ষ সোমবার সাংবাদিকদের জানান, তাঁরা বর্তমানে লোকসান দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছেন।

লাতিন আমেরিকার দেশ গুয়াতেমালাতেও কৃষকেরা ক্ষুব্ধ, কারণ ট্রাক্টর চালাতে তাঁদের ডিজেলের ওপর নির্ভর করতে হয়। সম্প্রতি গুয়াতেমালা সিটিতে পরিবহনশ্রমিক ও আদিবাসী অধিকারকর্মীরা মিছিল করেছেন। এর কয়েক দিন পর রাজধানীর দক্ষিণের ভিয়া নুয়েভা এলাকায় রাস্তায় গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ভিডিও ফুটেজ সামনে এসেছে।

ইউরোপের দেশ পর্তুগালেও গত সপ্তাহে গাড়িচালকেরা হর্ন বাজিয়ে ও ধীরগতিতে গাড়ি চালিয়ে অভিনব প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এতে রাজধানী লিসবনের ‘২৫ দে এপ্রিল’ সেতুসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

এই বৈশ্বিক সংকট নিয়ে যুক্তরাজ্যের সোয়াস ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের অধ্যাপক নাওমি হোসাইন বিশ্লেষণধর্মী মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশের মধ্যপন্থী সরকারগুলো এই সংকট থেকে জনগণকে রক্ষা করতে খুব বেশি কিছু করতে পারছে না এবং বেশির ভাগ জায়গায় বাস্তবসম্মত কোনো বিকল্পও নেই। এর একটি বড় পরিণতি হলো, বিশ্বজুড়ে জনতুষ্টিবাদ বা পপুলিজম আরও জোরালো হয়ে উঠছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo