ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় হলুদের বাম্পার ফলন, ৬০ কোটি টাকার সম্ভাবনা
- আপডেট সময় : ০২:৫০:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় এ বছর হলুদের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। অতিবৃষ্টি, খরা বা কোনো প্রাকৃতিক বিপর্যয় না ঘটলে এবার কৃষকদের মুখে তৃপ্তির হাসি ফুটবে বলে আশা করা হচ্ছে। কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর উপজেলাটিতে প্রায় পাঁচ হাজার মেট্রিক টন হলুদ উৎপাদিত হবে, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৫৫ থেকে ৬০ কোটি টাকা।
ফুলবাড়ীয়ার পাহাড়ি এলাকা ও লাল মাটির কারণে এখানকার হলুদের রঙ, গন্ধ ও স্বাদ অতুলনীয়, যার ফলে দেশজুড়ে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এটি দেশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। ফসল উত্তোলনের সময় ঘনিয়ে এলে ফরিয়ারা সরাসরি কৃষকের বাড়ি গিয়ে হলুদ কেনা শুরু করেন। এছাড়া কেশরগঞ্জ ও বাকতা বাজারে সপ্তাহে দুদিন বড় হলুদের হাট বসে, যেখানে পার্শ্ববর্তী মধুপুর ও ঘাটাইল উপজেলা থেকেও কৃষকরা হলুদ বিক্রির জন্য নিয়ে আসেন। ভরা মৌসুমে কেশরগঞ্জ বাজারে প্রতি হাটে ৮০ থেকে ৯০ লাখ টাকার হলুদ বেচাকেনা হয়।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর ফুলবাড়ীয়ায় ৯৫০ হেক্টর জমিতে হলুদের আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় হেক্টরপ্রতি প্রায় ১৭ মেট্রিক টন কাঁচা হলুদ উৎপাদিত হয়েছে। সিদ্ধ ও শুকানোর প্রক্রিয়াজাত শেষে হেক্টরপ্রতি প্রায় সাড়ে চার মেট্রিক টন হলুদ পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। নাওগাঁও, রাঙামাটিয়া, বাকতা, কালাদহ ও কুশমাইল ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে প্রচুর হলুদ আবাদ হয়েছে। যদিও এ বছর আবাদের পরিমাণ কিছুটা কম, তবুও ফলন হয়েছে বেশ ভালো।
কৃষকদের তথ্যমতে, প্রতি কাঠায় ১২ থেকে ১৫ মণ পর্যন্ত কাঁচা হলুদ পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমানে প্রতি মণ কাঁচা হলুদ ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, গত বছরের তুলনায় এ বছর প্রতি মণ শুকনা হলুদের দাম ৮০০ থেকে এক হাজার টাকা বেশি হতে পারে। কালাদহ গ্রামের আব্দুল হালিম, অন্তপুরের আব্দুল হাই সিকদার ও সন্তোষপুর গ্রামের আইয়ুব আলীর মতো কৃষকরা বলছেন, যারা এবার হলুদ চাষ করেছেন তারা সবাই লাভবান হবেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুকান্ত ধর জানান, হলুদ বছরব্যাপী ফসল হওয়ায় কৃষকরা এটিকে সাথী ফসল হিসেবে চাষ করেন। এতে রোগবালাই নেই বললেই চলে এবং অন্য ফসলের তুলনায় এটি অধিক লাভজনক। অল্প জমিতে কম খরচে অধিক ফলন পাওয়া যায় এবং গরু-ছাগল বা পোকামাকড়ের উপদ্রব নেই। কৃষি অফিস থেকে রোপণ থেকে উৎপাদন পর্যন্ত নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে এবং প্রতিটি ইউনিয়নে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে গিয়ে কৃষকদের সহায়তা করছেন।




























