ঢাকা ০৪:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মেধাভিত্তিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষার্থীদের প্রতি ডেপুটি স্পিকারের আহ্বান আবু ইয়াকুব ইউসুফ আল-কুমি: ইবন আরাবির বর্ণনায় এক সুফি সাধক সোনারগাঁয়ে মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার ১২ ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহে ট্যাব ও প্রশিক্ষণ শুরু সমাজসেবা অধিদপ্তরের জাতিসংঘে আজ প্রথম ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান না ফেরার দেশে প্রখ্যাত শিশুসাহিত্যিক আখতার হুসেন বঙ্গভবনের সিংহ পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করলেন প্রেসিডেন্ট বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমল, কারণ জানাল রয়টার্স টেকসই উন্নয়নে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির আহ্বান ববি হাজ্জাজের স্কুলে ঢুকে ছাত্রকে মারধর, ছাত্রদল সভাপতি আজীবন বহিষ্কার

জকিগঞ্জের ঐতিহাসিক সাজিদ রাজার বাড়ি রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ধ্বংসের মুখে

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৫:১৯:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



প্রকাশ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩: ২০

সীমান্তঘেঁষা সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার কাজলসার ইউনিয়নের চারিগ্রাম মৌজায় কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ঐতিহাসিক সাজিদ রাজার বাড়ি। তবে সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে ঐতিহ্যবাহী এই বাড়িটি এখন ধ্বংসের পথে। প্রাচীন এই নিদর্শনটিকে ঘিরে একটি পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার জন্য এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসলেও তা বাস্তবায়নে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে বর্তমানে বাড়িটি সম্পূর্ণ অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

স্থানীয় ইতিহাস অনুযায়ী, অষ্টাদশ শতকের প্রথম দিকে ধর্মপ্রাণ জমিদার সাজিদ রাজা প্রায় ১৫ একর জমির ওপর এই বিশাল প্রাসাদসম স্থাপনাটি নির্মাণ করেন। সময়ের আবর্তে অনেক কিছু হারিয়ে গেলেও বাড়িটির প্রতিটি অংশ আজও অতীতের গৌরবময় স্মৃতি বহন করছে। লোকমুখে প্রচলিত আছে, সাজিদ রাজা জৈন্তিয়া রাজপরিবার থেকে এসে এখানে বসতি স্থাপন করেছিলেন। তাঁর পিতা ছিলেন ইছন রাজা। আরও জানা যায়, হাসন রাজাসহ জৈন্তিয়া ও মোগল আমলের অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব বিভিন্ন সময়ে এই বাড়িতে যাতায়াত করতেন। ইতিহাস, কিংবদন্তি ও লোকজ স্মৃতির এমন মেলবন্ধন সাজিদ রাজার বাড়িটিকে এক অনন্য মর্যাদা দিয়েছে।

এই জমিদার বাড়ির অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো ১৩ চালার একটি বিশাল টিনের ঘর। তৎকালীন কলকাতা থেকে দক্ষ কারিগর এনে ১৩ হাজার টাকা মজুরিতে এই ঘরটি নির্মাণ করা হয়েছিল, যা সে সময় বিচারালয় হিসেবে ব্যবহৃত হতো। এর চমৎকার নির্মাণশৈলী আজও দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। বাড়ির পাশেই রয়েছে প্রায় সাত একর আয়তনের একটি সুবিশাল পুকুর। এই পুকুরের পাড়ে ১৭৪০ খ্রিষ্টাব্দে নির্মিত পিলার ও গম্বুজশোভিত একটি দৃষ্টিনন্দন মসজিদ দাঁড়িয়ে আছে। এর পাশাপাশি রয়েছে প্রায় ২৭০ বছরের পুরোনো রাজপ্রাসাদের ধ্বংসাবশেষ। প্রতিটি স্থাপনাই যেন এই অঞ্চলের সমৃদ্ধ ইতিহাসের নীরব সাক্ষী।

কিন্তু সময়ের নির্মম পরিহাসে এবং দীর্ঘদিনের অবহেলা ও সংস্কারের অভাবে এই অমূল্য ঐতিহাসিক সম্পদটি বিলীন হতে চলেছে। ভবনগুলোর বিভিন্ন অংশ ক্ষয়ে যাচ্ছে এবং ভেঙে পড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, যথাযথ সংরক্ষণ, পরিকল্পিত উন্নয়ন এবং কার্যকর প্রচারের মাধ্যমে এই ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাটিকে দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। ইতিহাসের এই অমূল্য সম্পদ রক্ষা করা কেবল স্থানীয়ভাবে নয়, পুরো জাতির সাংস্কৃতিক দায়িত্ব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

জকিগঞ্জের ঐতিহাসিক সাজিদ রাজার বাড়ি রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ধ্বংসের মুখে

আপডেট সময় : ০৫:১৯:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রকাশ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩: ২০

সীমান্তঘেঁষা সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার কাজলসার ইউনিয়নের চারিগ্রাম মৌজায় কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ঐতিহাসিক সাজিদ রাজার বাড়ি। তবে সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে ঐতিহ্যবাহী এই বাড়িটি এখন ধ্বংসের পথে। প্রাচীন এই নিদর্শনটিকে ঘিরে একটি পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার জন্য এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসলেও তা বাস্তবায়নে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে বর্তমানে বাড়িটি সম্পূর্ণ অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

স্থানীয় ইতিহাস অনুযায়ী, অষ্টাদশ শতকের প্রথম দিকে ধর্মপ্রাণ জমিদার সাজিদ রাজা প্রায় ১৫ একর জমির ওপর এই বিশাল প্রাসাদসম স্থাপনাটি নির্মাণ করেন। সময়ের আবর্তে অনেক কিছু হারিয়ে গেলেও বাড়িটির প্রতিটি অংশ আজও অতীতের গৌরবময় স্মৃতি বহন করছে। লোকমুখে প্রচলিত আছে, সাজিদ রাজা জৈন্তিয়া রাজপরিবার থেকে এসে এখানে বসতি স্থাপন করেছিলেন। তাঁর পিতা ছিলেন ইছন রাজা। আরও জানা যায়, হাসন রাজাসহ জৈন্তিয়া ও মোগল আমলের অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব বিভিন্ন সময়ে এই বাড়িতে যাতায়াত করতেন। ইতিহাস, কিংবদন্তি ও লোকজ স্মৃতির এমন মেলবন্ধন সাজিদ রাজার বাড়িটিকে এক অনন্য মর্যাদা দিয়েছে।

এই জমিদার বাড়ির অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো ১৩ চালার একটি বিশাল টিনের ঘর। তৎকালীন কলকাতা থেকে দক্ষ কারিগর এনে ১৩ হাজার টাকা মজুরিতে এই ঘরটি নির্মাণ করা হয়েছিল, যা সে সময় বিচারালয় হিসেবে ব্যবহৃত হতো। এর চমৎকার নির্মাণশৈলী আজও দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। বাড়ির পাশেই রয়েছে প্রায় সাত একর আয়তনের একটি সুবিশাল পুকুর। এই পুকুরের পাড়ে ১৭৪০ খ্রিষ্টাব্দে নির্মিত পিলার ও গম্বুজশোভিত একটি দৃষ্টিনন্দন মসজিদ দাঁড়িয়ে আছে। এর পাশাপাশি রয়েছে প্রায় ২৭০ বছরের পুরোনো রাজপ্রাসাদের ধ্বংসাবশেষ। প্রতিটি স্থাপনাই যেন এই অঞ্চলের সমৃদ্ধ ইতিহাসের নীরব সাক্ষী।

কিন্তু সময়ের নির্মম পরিহাসে এবং দীর্ঘদিনের অবহেলা ও সংস্কারের অভাবে এই অমূল্য ঐতিহাসিক সম্পদটি বিলীন হতে চলেছে। ভবনগুলোর বিভিন্ন অংশ ক্ষয়ে যাচ্ছে এবং ভেঙে পড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, যথাযথ সংরক্ষণ, পরিকল্পিত উন্নয়ন এবং কার্যকর প্রচারের মাধ্যমে এই ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাটিকে দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। ইতিহাসের এই অমূল্য সম্পদ রক্ষা করা কেবল স্থানীয়ভাবে নয়, পুরো জাতির সাংস্কৃতিক দায়িত্ব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh