ঢাকা ০৬:৩৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সম্ভাবনা থেকে সংকটে গণঅধিকার পরিষদ: রাজনীতির মাঠে টিকে থাকার লড়াই মাস্টার্স পরীক্ষার আগেই বিচারক হলেন ইবির রাজু আহমেদ শাল্লায় বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত সিলেটে সওজের সরকারি জমিতে গোরস্থান নির্মাণের চেষ্টা, কাজ বন্ধ সরকারের অনুমোদন: দেড় লাখ টন সার ও মসুর ডাল কেনা হবে কাউকে ভয় পেতে আসিনি, আসিয়ান কাপ নিয়ে আত্মবিশ্বাসী হামজা চৌধুরী ফুডপান্ডার এমডিসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি বেসিস নির্বাচন সামনে রেখে ৭ সদস্যের সহায়ক কমিটি গঠন স্টারলিংককে টেক্কা দিতে মহাকাশে অ্যামাজনের নতুন দৌড় নির্যাতন করে স্বীকারোক্তি আদায়ের পর আজমুলের মৃত্যুতে গ্রেফতার ১

উত্তরাধিকার আইন সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে যা বর্ণিত হয়েছে

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৭:৪৮:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



মানবজাতির হেদায়াতের জন্য আল্লাহতায়ালা প্রত্যেক নবী-রাসুলকে কিতাব দিয়েছেন এবং হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে দিয়েছেন পবিত্র কোরআন। এটি এমন একটি পূর্ণাঙ্গ সংবিধান যার ভাষা, ভাব, অলংকার ও গভীরতার কোনো তুলনা হয় না। বিশেষ করে উত্তরাধিকার বা ফারায়েজ আইনের ক্ষেত্রে কোরআনই প্রথম ও প্রধান উৎস। ইহলৌকিক বিষয়ে কোরআনের আয়াতগুলোর মধ্যে উত্তরাধিকার সংক্রান্ত আয়াতগুলো অত্যন্ত ব্যাপক। মূলত ওহুদ যুদ্ধের পর যখন সত্তরজন মুসলিম শহীদ হন, তখন তাদের রেখে যাওয়া সম্পত্তি বণ্টনের প্রশ্নটি অনেক পরিবারের সামনে প্রকট হয়ে ওঠে। এই প্রেক্ষাপটেই সুরা নিসার সপ্তম, একাদশ, দ্বাদশ এবং একশ ছিয়াত্তরতম আয়াতে উত্তরাধিকারের বিস্তারিত বিধান নাজিল হয়।

পবিত্র কোরআনের সুরা নিসার সপ্তম আয়াতে বলা হয়েছে, বাবা-মা ও আত্মীয়-স্বজনের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে পুরুষ ও নারী উভয়েরই নির্ধারিত অংশ রয়েছে। এই আয়াতটি তৎকালীন আরবের প্রচলিত নিষ্ঠুর কুপ্রথার বিরুদ্ধে একটি কঠোর প্রতিবাদ ছিল, যেখানে নারীদের উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত রাখা হতো। এখানে 'ওয়ালিদান' বা বাবা-মা ও সন্তানদের সম্পর্ক এবং 'আকরাবুন' বা নিকটাত্মীয়দের সম্পর্কের উল্লেখ রয়েছে। এই আয়াত ইঙ্গিত দেয় যে, নিকট ও দূরের আত্মীয়দের মধ্যে নিকটাত্মীয়রাই অগ্রাধিকার পাবে। এছাড়া আয়াতে ব্যবহৃত 'নাসিবা' শব্দটি স্পষ্ট করে যে, এই অংশগুলো আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত।

উত্তরাধিকার আইনের প্রয়োগের একটি ঐতিহাসিক উদাহরণ পাওয়া যায় আউস ইবনে সাবেতের ক্ষেত্রে। তিনি স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলে রেখে মারা যান। প্রচলিত আইন অনুযায়ী স্ত্রী ও মেয়েরা সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছিল। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে অভিযোগ করা হলে সুরা নিসার ১১ নম্বর আয়াত নাজিল হয়। এই আয়াতে বলা হয়েছে, একজন পুরুষের অংশ দুজন নারীর অংশের সমান। যদি মৃত ব্যক্তির সন্তান না থাকে এবং শুধু কন্যা থাকে, তবে এক কন্যার জন্য অর্ধাংশ এবং দুই বা ততোধিক কন্যার জন্য দুই-তৃতীয়াংশ সম্পত্তি নির্ধারিত। সন্তান থাকলে পিতা-মাতা প্রত্যেকে এক-ষষ্ঠাংশ করে পাবেন। আর নিঃসন্তান অবস্থায় মা পাবেন এক-তৃতীয়াংশ, তবে ভাইবোন থাকলে মায়ের অংশ হবে এক-ষষ্ঠাংশ।

হাদিসে জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, সাদ বিন রাবির দুই মেয়ে তাদের জেঠার বিরুদ্ধে সম্পত্তি দখলের অভিযোগ নিয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে আসেন। তখন মহানবী (সা.) তাদের জেঠাকে ডেকে নির্দেশ দেন যে, সাদের দুই মেয়েকে দুই-তৃতীয়াংশ এবং তাদের মাকে এক-অষ্টমাংশ দিতে হবে, অবশিষ্ট অংশ জেঠার প্রাপ্য হবে।

সুরা নিসার ১২ নম্বর আয়াতে স্বামী ও স্ত্রীর অংশের বর্ণনা রয়েছে। সন্তান না থাকলে স্বামী স্ত্রীর সম্পত্তির অর্ধেক পায়, আর সন্তান থাকলে পায় এক-চতুর্থাংশ। একইভাবে স্ত্রী স্বামীর সন্তান না থাকলে এক-চতুর্থাংশ এবং সন্তান থাকলে এক-অষ্টমাংশ পায়। এছাড়া 'কালালা' বা নিঃসন্তান ও পিতৃহীন ব্যক্তির ক্ষেত্রে ভাই-বোনের উত্তরাধিকারের বিধানও কোরআনে সুস্পষ্ট। সুরা নিসার ১৭৬ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, এমন ব্যক্তি মারা গেলে তার বোন অর্ধেক সম্পত্তি পাবে এবং সে নিঃসন্তান হলে তার ভাই তার উত্তরাধিকারী হবে। দুই বোন থাকলে তারা দুই-তৃতীয়াংশ পাবে। এই বিধানগুলো আল্লাহর পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট, যাতে মানুষ বিভ্রান্তিতে না পড়ে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

উত্তরাধিকার আইন সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে যা বর্ণিত হয়েছে

আপডেট সময় : ০৭:৪৮:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মানবজাতির হেদায়াতের জন্য আল্লাহতায়ালা প্রত্যেক নবী-রাসুলকে কিতাব দিয়েছেন এবং হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে দিয়েছেন পবিত্র কোরআন। এটি এমন একটি পূর্ণাঙ্গ সংবিধান যার ভাষা, ভাব, অলংকার ও গভীরতার কোনো তুলনা হয় না। বিশেষ করে উত্তরাধিকার বা ফারায়েজ আইনের ক্ষেত্রে কোরআনই প্রথম ও প্রধান উৎস। ইহলৌকিক বিষয়ে কোরআনের আয়াতগুলোর মধ্যে উত্তরাধিকার সংক্রান্ত আয়াতগুলো অত্যন্ত ব্যাপক। মূলত ওহুদ যুদ্ধের পর যখন সত্তরজন মুসলিম শহীদ হন, তখন তাদের রেখে যাওয়া সম্পত্তি বণ্টনের প্রশ্নটি অনেক পরিবারের সামনে প্রকট হয়ে ওঠে। এই প্রেক্ষাপটেই সুরা নিসার সপ্তম, একাদশ, দ্বাদশ এবং একশ ছিয়াত্তরতম আয়াতে উত্তরাধিকারের বিস্তারিত বিধান নাজিল হয়।

পবিত্র কোরআনের সুরা নিসার সপ্তম আয়াতে বলা হয়েছে, বাবা-মা ও আত্মীয়-স্বজনের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে পুরুষ ও নারী উভয়েরই নির্ধারিত অংশ রয়েছে। এই আয়াতটি তৎকালীন আরবের প্রচলিত নিষ্ঠুর কুপ্রথার বিরুদ্ধে একটি কঠোর প্রতিবাদ ছিল, যেখানে নারীদের উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত রাখা হতো। এখানে 'ওয়ালিদান' বা বাবা-মা ও সন্তানদের সম্পর্ক এবং 'আকরাবুন' বা নিকটাত্মীয়দের সম্পর্কের উল্লেখ রয়েছে। এই আয়াত ইঙ্গিত দেয় যে, নিকট ও দূরের আত্মীয়দের মধ্যে নিকটাত্মীয়রাই অগ্রাধিকার পাবে। এছাড়া আয়াতে ব্যবহৃত 'নাসিবা' শব্দটি স্পষ্ট করে যে, এই অংশগুলো আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত।

উত্তরাধিকার আইনের প্রয়োগের একটি ঐতিহাসিক উদাহরণ পাওয়া যায় আউস ইবনে সাবেতের ক্ষেত্রে। তিনি স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলে রেখে মারা যান। প্রচলিত আইন অনুযায়ী স্ত্রী ও মেয়েরা সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছিল। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে অভিযোগ করা হলে সুরা নিসার ১১ নম্বর আয়াত নাজিল হয়। এই আয়াতে বলা হয়েছে, একজন পুরুষের অংশ দুজন নারীর অংশের সমান। যদি মৃত ব্যক্তির সন্তান না থাকে এবং শুধু কন্যা থাকে, তবে এক কন্যার জন্য অর্ধাংশ এবং দুই বা ততোধিক কন্যার জন্য দুই-তৃতীয়াংশ সম্পত্তি নির্ধারিত। সন্তান থাকলে পিতা-মাতা প্রত্যেকে এক-ষষ্ঠাংশ করে পাবেন। আর নিঃসন্তান অবস্থায় মা পাবেন এক-তৃতীয়াংশ, তবে ভাইবোন থাকলে মায়ের অংশ হবে এক-ষষ্ঠাংশ।

হাদিসে জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, সাদ বিন রাবির দুই মেয়ে তাদের জেঠার বিরুদ্ধে সম্পত্তি দখলের অভিযোগ নিয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে আসেন। তখন মহানবী (সা.) তাদের জেঠাকে ডেকে নির্দেশ দেন যে, সাদের দুই মেয়েকে দুই-তৃতীয়াংশ এবং তাদের মাকে এক-অষ্টমাংশ দিতে হবে, অবশিষ্ট অংশ জেঠার প্রাপ্য হবে।

সুরা নিসার ১২ নম্বর আয়াতে স্বামী ও স্ত্রীর অংশের বর্ণনা রয়েছে। সন্তান না থাকলে স্বামী স্ত্রীর সম্পত্তির অর্ধেক পায়, আর সন্তান থাকলে পায় এক-চতুর্থাংশ। একইভাবে স্ত্রী স্বামীর সন্তান না থাকলে এক-চতুর্থাংশ এবং সন্তান থাকলে এক-অষ্টমাংশ পায়। এছাড়া 'কালালা' বা নিঃসন্তান ও পিতৃহীন ব্যক্তির ক্ষেত্রে ভাই-বোনের উত্তরাধিকারের বিধানও কোরআনে সুস্পষ্ট। সুরা নিসার ১৭৬ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, এমন ব্যক্তি মারা গেলে তার বোন অর্ধেক সম্পত্তি পাবে এবং সে নিঃসন্তান হলে তার ভাই তার উত্তরাধিকারী হবে। দুই বোন থাকলে তারা দুই-তৃতীয়াংশ পাবে। এই বিধানগুলো আল্লাহর পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট, যাতে মানুষ বিভ্রান্তিতে না পড়ে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh