সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জামে শুল্কছাড় ও নিম্ন স্তরের সিগারেটের দাম বাড়ছে
- আপডেট সময় : ১২:৩০:৩৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩৪ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে নবায়নযোগ্য সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের যন্ত্রপাতি আমদানিতে শুল্ক-কর ছাড় এবং নিম্ন স্তরের সিগারেটের ন্যূনতম মূল্য বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। সোমবার রাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বৈঠকের এসব সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।
বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নবায়নযোগ্য সৌরশক্তি উৎপাদনের প্ল্যান্ট স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ আমদানির ক্ষেত্রে বিশেষ শুল্ক-কর রেয়াত সুবিধা দেওয়া হবে। প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ থেকে পরবর্তী ১৮০ দিন বা ছয় মাস পর্যন্ত এই সুবিধা কার্যকর থাকবে। এই সময়ের মধ্যে আমদানির ক্ষেত্রে ১ শতাংশের অতিরিক্ত কাস্টমস ডিউটি, সমুদয় রেগুলেটরি ডিউটি, সম্পূরক শুল্ক, মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট), আগাম কর এবং অগ্রিম আয়কর থেকে অব্যাহতি দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। সরকারের আশা, এর ফলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে বিদ্যুতের ঘাটতি মিটবে, জনভোগান্তি কমবে এবং শিল্পকারখানায় উৎপাদন অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে উৎপাদন ব্যয় ও যন্ত্রপাতির ক্ষয়ক্ষতি কমে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
পাশাপাশি বৈঠকে নিম্ন স্তরের সিগারেটের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর আওতায় এই সিগারেটের ন্যূনতম মূল্য পরিবর্তনের প্রজ্ঞাপন সংশোধনের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নিম্ন স্তরের প্রতি ১০ শলাকা সিগারেটের সর্বোচ্চ খুচরামূল্য ‘৬২ টাকা ও তদূর্ধ্ব’ থেকে বাড়িয়ে ‘৬৫ টাকা ও তদূর্ধ্ব’ পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। এই মূল্য বৃদ্ধি এবং স্ট্যাম্প ও ব্যান্ডরোল ব্যবহার বিধিমালা সংক্রান্ত দুটি প্রজ্ঞাপন সংশোধনের ফলে নিম্ন স্তরের সিগারেটের অবৈধ বাণিজ্য রোধ হবে এবং সরকারের রাজস্ব ঘাটতি হ্রাস পাবে বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে।
এছাড়া বাংলাদেশ ও হংকংয়ের মধ্যে বিনিয়োগ উন্নয়ন ও সুরক্ষা সংক্রান্ত ‘প্রমোশন অ্যান্ড প্রটেকশন অব ইনভেস্টমেন্ট অ্যাগ্রিমেন্ট’ চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। হংকং বর্তমানে বাংলাদেশে সরাসরি বিনিয়োগকারী দেশগুলোর মধ্যে ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইলসহ বিভিন্ন খাতে হংকংয়ের উদ্যোক্তারা বিনিয়োগ করেছেন। ১০ বছর মেয়াদি এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে দুই পক্ষের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণে তা সহায়ক হবে। চুক্তির খসড়ায় উল্লেখ রয়েছে যে, স্বাক্ষরের তিন বছর পর উভয় পক্ষ চাইলে এটি সংশোধন করতে পারবে। এই চুক্তির মাধ্যমে উভয় পক্ষের বিনিয়োগের নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তি ও জ্ঞান স্থানান্তর এবং উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।



























