গাজা থেকে ১৮ লাখ ফিলিস্তিনি সরানোর ৭ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা বেন গভিরের
- আপডেট সময় : ০৮:৩৫:৪২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮: ২৩ (04 September 2026, 08:23)
গাজা উপত্যকার প্রায় ১৮ লাখ ৬০ হাজার ফিলিস্তিনি বাসিন্দাকে আগামী সাত বছরের মধ্যে অন্য দেশে সরিয়ে দেওয়ার একটি বিতর্কিত পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন ইসরাইলের উগ্র ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভির। ‘ডিসএনগেজমেন্ট ৭১০’ নামের এই পরিকল্পনার আওতায় গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের স্থায়ীভাবে উচ্ছেদ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এই পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, প্রথম বছরেই ২ লাখ ৫০ হাজার ফিলিস্তিনিকে গাজা থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে। তিন বছরের মধ্যে এই সংখ্যা বাড়িয়ে ১১ লাখ ১০ হাজারে এবং সাত বছরের মধ্যে তা ১৮ লাখ ৬০ হাজারে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। উগ্র ডানপন্থি ও ইহুদি শ্রেষ্ঠত্ববাদী দল ওতজমা ইয়েহুদিতের (জিউইশ পাওয়ার) এই নেতা মূলত তার নির্বাচনী প্রচারের অংশ হিসেবে এই পরিকল্পনা তৈরি করেছেন। ভবিষ্যতে যেকোনো নতুন কোয়ালিশন বা জোট সরকারে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি এটিকে অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে রাখতে চান।
বেন গভিরের এই উচ্ছেদ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হবে। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথম বছরেই এতে খরচ হতে পারে ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি। আর পুরো সাত বছরের মেয়াদে মোট ব্যয়ের পরিমাণ প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জোট সরকারের অংশ থাকা এই মন্ত্রী আগামী দিনেও এই শর্তে অটল থাকতে চান।
এদিকে, ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজও বুধবার গাজার বাসিন্দাদের সরিয়ে দেওয়ার পক্ষে কথা বলেছেন। তিনি মন্তব্য করেন, শেষ পর্যন্ত ফিলিস্তিনিদের গাজা থেকে অভিবাসন বা স্থানান্তর করা ছাড়া সেখানে আর কোনো বাস্তবসম্মত সমাধান নেই। কাৎজ আরও দাবি করেন, ফিলিস্তিনিদের আশ্রয় দিতে পারে এমন দেশগুলো মূলত যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন প্রত্যাশা করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই পরিকল্পনা পুরোপুরি বাতিল করেননি, বরং আরব দেশগুলোর চাপের কারণে এটি আপাতত স্থগিত রেখেছেন।
উল্লেখ্য, জুনের শেষ দিকেিসরাইল এই উদ্যোগের নাম ‘স্বেচ্ছা অভিবাসন’ থেকে পরিবর্তন করে ‘ফ্রিডম অব মুভমেন্ট প্ল্যান’ বা ‘চলাচলের স্বাধীনতা পরিকল্পনা’ হিসেবে নির্ধারণ করে। তবে এই নতুন নামের কাঠামোতেও ফিলিস্তিনিদের নিজেদের মাতৃভূমিতে ফিরে আসার অধিকার বা কোনো ধরনের নিশ্চয়তার কথা রাখা হয়নি।
সমালোচকেরা বলছেন, গাজায় দীর্ঘদিনের ইসরাইলি হামলায় ইতোমধ্যে ৮০ শতাংশের বেশি ঘরবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয় এবং হাসপাতাল ধ্বংস হয়ে গেছে। সেই সঙ্গে খাদ্য ও পানির সরবরাহ চরমভাবে সীমিত করে ফেলা হয়েছে। এ ধরনের ভয়াবহ ও বসবাসের অনুপযোগী পরিস্থিতি তৈরি করে মানুষকে চলে যেতে বাধ্য করার প্রক্রিয়াকে কোনোভাবেই ‘স্বেচ্ছা অভিবাসন’ বলা চলে না। এটি মূলত জোরপূর্বক উচ্ছেদ প্রক্রিয়া। এমন অমানবিক পরিস্থিতির মধ্যেও ইসরাইলি বাহিনী গাজায় প্রতিদিন ফিলিস্তিনিদের হত্যা করে চলেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।



























