সংসদীয় কমিটি গঠন ও বিলের রিপোর্ট নিয়ে সরকার-বিরোধী দলের বিতর্ক
- আপডেট সময় : ১০:৪১:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন এবং বিভিন্ন বিলের রিপোর্ট উত্থাপনকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদে সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে তীব্র বিতর্ক হয়েছে। সংসদীয় কমিটির সভাপতি পদ না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করার পর জামায়াতে ইসলামীর সদস্যরা শেষ মুহূর্তে অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করেন। তবে এ সময় তাদের দু'জন সাংসদ অধিবেশন কক্ষে উপস্থিত ছিলেন। বিরোধী দলের অভিযোগ, তাদের আসন অনুপাতে সংসদীয় কমিটির সভাপতি পদ পাওয়ার প্রতিশ্রুতি থাকলেও তা রক্ষা করা হয়নি। বিরোধী দলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, সরকারি দলের এমন আচরণে তাদের সংসদে থাকার আগ্রহ কমে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, কমিটি গঠন না করে আগের দিন চিফ হুইপ সভাপতি পদ পাওয়ার ক্ষেত্রে শর্ত জুড়ে দিয়েছিলেন, যা গ্রহণযোগ্য নয়।
অধিবেশনে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল এবং মানবাধিকার কমিশন বিলের প্রতিবেদন উপস্থাপন নিয়েও বিতর্ক হয়। বিরোধী দলের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাশেম (আরমান) অভিযোগ করেন, প্রস্তাবিত আইনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে জবাবদিহিতার বাইরে রাখার সুযোগ রাখা হয়েছে। তিনি একে ‘অসৎ উদ্দেশ্য’ বলে অভিহিত করেন। জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিল পাসের আগে সংশোধনী আনার সুযোগ রয়েছে এবং যৌক্তিক প্রস্তাব বিবেচনা করা হবে। তিনি আরও দাবি করেন, নতুন আইনটি ২০২৫ সালের অধ্যাদেশের চেয়ে বেশি শক্তিশালী এবং এতে ভুক্তভোগীরা সরাসরি আদালতে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। গুমের সংজ্ঞায়িত ধরন অনুযায়ী সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, জরিমানা ও ক্ষতিপূরণের বিধান রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।
এদিকে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল এবং সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিলের প্রতিবেদন সংসদে উপস্থাপন করা হয়েছে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিলের বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রতিবেদনে কিছু পরিবর্তনের সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে একজন নারী কমিশনারের পাশাপাশি একজন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বা সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর সদস্য রাখার প্রস্তাব রয়েছে। এছাড়া মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্তের ক্ষেত্রে ‘যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে’ শর্তটি বাদ দেওয়ার সুপারিশ করেছে কমিটি।
মানবাধিকার কমিশন বিলের রিপোর্ট উপস্থাপনকালে কমিটির সভাপতি মুহাম্মদ নওশাদ জমিরের বিরুদ্ধে বিরোধী দলের সদস্য মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান আপত্তি জানান। তিনি অভিযোগ করেন, কমিটির আলোচনায় তাদের অংশগ্রহণ থাকলেও প্রতিবেদনে তা সঠিকভাবে আসেনি এবং তাদের লিখিত বক্তব্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ বিষয়ে বলেন, কমিটির বৈঠকে কে কী বলেছেন তা সাধারণত বিস্তারিত প্রতিবেদনে থাকে না, তবে ‘সক্রিয়’ শব্দটি নিয়ে আপত্তি থাকলে স্পিকার তা বিবেচনা করতে পারেন। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল জানান, বিল পাসের আগে দফাওয়ারি আলোচনায় উভয় পক্ষই বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পাবেন।





























