ময়মনসিংহের সরকারি দপ্তরে সিটিজেন চার্টারের অভাব, সেবায় চরম ভোগান্তি
- আপডেট সময় : ১২:১৯:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে

প্রকাশ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১: ১৮। জনগণের সরকারি সেবা পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রতিটি সরকারি দপ্তরে সিটিজেন চার্টার থাকা বাধ্যতামূলক হলেও ময়মনসিংহের বেশিরভাগ অফিসে এর কোনো অস্তিত্ব নেই। ফলে সাধারণ মানুষ সেবা নিতে গিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, নির্ধারিত ফি, সময়সীমা এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার তথ্য জানতে না পেরে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। এই অস্পষ্টতার সুযোগে দাপ্তরিক কাজে হয়রানি বাড়ছে এবং সাধারণ মানুষ দালালনির্ভর হয়ে পড়ছেন। কোথাও কোথাও চার্টার থাকলেও তা জনদৃষ্টির আড়ালে পড়ে আছে কিংবা ধুলোবালিতে ঢাকা অবস্থায় রয়েছে।
ময়মনসিংহে জেলা প্রশাসন, পুলিশ সুপারের কার্যালয়, গণপূর্ত বিভাগ, সড়ক বিভাগ, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, কাস্টমস-এক্সাইজ-ভ্যাট বিভাগ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, সমাজসেবা অধিদপ্তর, পাসপোর্ট অফিস, বিআরটিএ, ভূমি অফিস ও হাসপাতালসহ অন্তত ৪০টি সরকারি দপ্তর রয়েছে। সরেজমিন পরিদর্শনে এসব অফিসের মধ্যে মাত্র পাঁচটি দপ্তরে সিটিজেন চার্টার পাওয়া গেছে। যেসব দপ্তরে চার্টার রয়েছে, সেখানেও তথ্য অসম্পূর্ণ অথবা হালনাগাদ করা নেই। এছাড়া অনেক ক্ষেত্রে অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থার তথ্যও অনুপস্থিত।
সিটিজেন চার্টারে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তার নাম, পদবি, ফোন নম্বর ও ই-মেইল না থাকায় নাগরিকরা সেবা পাওয়ার সঠিক পথ খুঁজে পাচ্ছেন না। অথচ ২০১৭ সালে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রতিটি সেবার ক্ষেত্রে সেবার নাম, পদ্ধতি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, মূল্য, সময়সীমা এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার পূর্ণাঙ্গ তথ্য থাকা বাধ্যতামূলক।
ভুক্তভোগী নাগরিকরা বলছেন, সরকারি সেবার নিয়মকানুন প্রকাশ্য না থাকায় তারা অন্ধকারে থাকছেন। জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় সেবা নিতে আসা ফেরদৌসি বেগম জানান, তাকে বারবার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দ্বারে ঘুরতে হয়েছে, কারণ আবেদন প্রক্রিয়া বা খরচের বিষয়ে আগে থেকে জানার কোনো উপায় ছিল না। নগরীর সিনিয়র সিটিজেন সালিম হাসান উল্লেখ করেন, নিয়ম সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা না থাকলে দালাল ও অনিয়ম-দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হয়।
তদন্তকালে ময়মনসিংহ কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগীয় কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, তাদের অফিসে কোনো সিটিজেন চার্টার নেই এবং এর প্রয়োজনও নেই বলে তিনি মনে করেন। সড়ক ভবন ও গণপূর্ত বিভাগেও কোনো চার্টার পাওয়া যায়নি। এছাড়া শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী ফখরুল আলম জানান, তাদের ভবনে কোনো চার্টার নেই এবং তথ্যের জন্য তিনি ‘বড় স্যারদের’ সাথে যোগাযোগের পরামর্শ দেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সিটিজেন চার্টারের মূল উদ্দেশ্য হলো ব্যক্তিনির্ভরতা কমিয়ে তথ্য প্রাতিষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করা, যা ময়মনসিংহের সরকারি অফিসগুলোতে এখনো উপেক্ষিত।

























