ঢাকা ০৯:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাসদ কার্যালয় থেকে আটক ২৮৯ জনের মধ্যে ২৭ জনকে গ্রেপ্তার ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে নারী চিকিৎসকের মৃত্যু যাত্রীবাহী বগি ফেলে এক কিলোমিটার দূরে ছুটল ট্রেনের ইঞ্জিন ঠাকুরগাঁও-১ উপ-নির্বাচন সুষ্ঠু করতে বদ্ধ পরিকর ইসি হরমুজে মার্কিন ড্রোন আটকের দাবি ইরানের, যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি অস্বীকার শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেওয়া যাবে না: উপ-উপাচার্য লাতিন আমেরিকার বাজারে রপ্তানি বাড়াতে নতুন উদ্যোগ বাংলাদেশের জুলাই-আগস্টে ৮৬২৬ কোটি টাকার বিদেশি ঋণ পরিশোধ করল বাংলাদেশ বাংলাদেশকে হালকাভাবে নেয়ার সুযোগ নেই: অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক সংবিধান সংশোধনের নামে নতুন গণভোট জাতির সাথে তামাশা: রাশেদ প্রধান

আলবিদা ও ফরচুন গ্রামের কাল্পনিক কাহিনি এবং রূপকথার আড়ালে বিজ্ঞান

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১১:১০:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



পৃথিবীর এক প্রান্তে অবস্থিত আলবিদা গ্রামটি কেবল ধর্ম ও প্রার্থনার ওপর নির্ভরশীল। এখানকার মানুষের আয়ুষ্কাল বড়জোর একশো বছর, আর তাদের একমাত্র লক্ষ্য মৃত্যুর পর স্বর্গলাভ। আলবিদা মরুভূমি অঞ্চল হওয়ায় সেখানে বৃষ্টির জন্য তারা সর্বদা প্রার্থনায় মগ্ন থাকে। অন্যদিকে, হাজার মাইল দূরে অবস্থিত ফরচুন গ্রামটি পরিচিত গবেষণার গ্রাম হিসেবে। সেখানে কোনো ধর্মীয় বিদ্যালয় নেই, বরং বিদ্যুৎ উৎপাদন, কলকারখানা তৈরি এবং মহাকাশে যাওয়ার জন্য স্পেস লিফট তৈরির মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে তারা পারদর্শী।

একসময় ফরচুন গ্রাম থেকে পঞ্চাশ সদস্যের 'ফিফথ জেনারেশন' নামে একটি দল বিমানে চড়ে আলবিদা গ্রামে পৌঁছায়। আলবিদার মানুষ উড়ন্ত যান দেখে তাদের স্বর্গ থেকে আসা রক্ষাকর্তা মনে করে। দলটি আলবিদার ওপর কৃত্রিম মেঘ সৃষ্টি করে বৃষ্টির ব্যবস্থা করলে গ্রামবাসী আনন্দিত হয়। এরপর সেখানে গবেষণাগার স্থাপন করে রকেটের মাধ্যমে মহাকাশ ভ্রমণের সূচনা করা হয়। সদরুদ্দিন নামের একজন গ্রামবাসী মহাকাশে গিয়ে সূর্য না ডোবার বাস্তব চিত্র দেখে ফিরে এসে গল্প বললে কেউ তা বিশ্বাস করেনি। মহাকাশ থেকে ফিরে আসা অন্যরা সৃষ্টিকর্তাকে না পাওয়ার কথা জানালে আলবিদার মানুষ ফরচুন গ্রামের লোকদের জাদুকর ভেবে তাড়িয়ে দেয়।

সময়ের সাথে সাথে আলবিদার মানুষ বিজ্ঞানের বিভিন্ন যন্ত্রের সাথে পরিচিত হয়। এক পর্যায়ে মোবাইল ফোন ও ফেসবুকের মাধ্যমে আলবিদায় 'এন্টারকটিক এন্টারটেইনমেন্ট নেটওয়ার্ক' গড়ে ওঠে। ফেসবুক ব্যবহার করে তারা নিজেদের বিজ্ঞানের সব আবিষ্কারের দাবিদার হিসেবে প্রচার করতে থাকে। এই প্রচারণায় আকৃষ্ট হয়ে সারা পৃথিবী থেকে মানুষ আলবিদার মাঠে সমবেত হয়।

সমাবেশে এন্টারকটিক এন্টারটেইনমেন্ট মঞ্চে গাধা ও উটকে তুলে দাবি করা হয় যে, তাদের পূর্বপুরুষই প্রথম নগর নির্মাণ, কাপড় তৈরি, খনিজ উত্তোলন, প্রার্থনালয় স্থাপন, ঘর তৈরি এবং তলোয়ার তৈরি করেছিলেন। এই অদ্ভুত দাবি শুনে উপস্থিত বিজ্ঞানীরা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন। চরম উত্তেজনার এক পর্যায়ে চীনের এক নাগরিক আকাশে জৈব অস্ত্রের বিস্ফোরণ ঘটান। মুহূর্তের মধ্যে উপস্থিত মানুষের নিঃশ্বাস বন্ধ হতে শুরু করলে, বাইরের দেশ থেকে আসা মানুষ মাস্ক পরতে থাকে। যখন সবাই প্রশ্ন করে 'এটা কি?', তখন এক বৃদ্ধা উত্তর দেয়, "সবকিছুই যখন জানেন তবে এটাও এবার জেনে নিন।"

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

আলবিদা ও ফরচুন গ্রামের কাল্পনিক কাহিনি এবং রূপকথার আড়ালে বিজ্ঞান

আপডেট সময় : ১১:১০:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পৃথিবীর এক প্রান্তে অবস্থিত আলবিদা গ্রামটি কেবল ধর্ম ও প্রার্থনার ওপর নির্ভরশীল। এখানকার মানুষের আয়ুষ্কাল বড়জোর একশো বছর, আর তাদের একমাত্র লক্ষ্য মৃত্যুর পর স্বর্গলাভ। আলবিদা মরুভূমি অঞ্চল হওয়ায় সেখানে বৃষ্টির জন্য তারা সর্বদা প্রার্থনায় মগ্ন থাকে। অন্যদিকে, হাজার মাইল দূরে অবস্থিত ফরচুন গ্রামটি পরিচিত গবেষণার গ্রাম হিসেবে। সেখানে কোনো ধর্মীয় বিদ্যালয় নেই, বরং বিদ্যুৎ উৎপাদন, কলকারখানা তৈরি এবং মহাকাশে যাওয়ার জন্য স্পেস লিফট তৈরির মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে তারা পারদর্শী।

একসময় ফরচুন গ্রাম থেকে পঞ্চাশ সদস্যের 'ফিফথ জেনারেশন' নামে একটি দল বিমানে চড়ে আলবিদা গ্রামে পৌঁছায়। আলবিদার মানুষ উড়ন্ত যান দেখে তাদের স্বর্গ থেকে আসা রক্ষাকর্তা মনে করে। দলটি আলবিদার ওপর কৃত্রিম মেঘ সৃষ্টি করে বৃষ্টির ব্যবস্থা করলে গ্রামবাসী আনন্দিত হয়। এরপর সেখানে গবেষণাগার স্থাপন করে রকেটের মাধ্যমে মহাকাশ ভ্রমণের সূচনা করা হয়। সদরুদ্দিন নামের একজন গ্রামবাসী মহাকাশে গিয়ে সূর্য না ডোবার বাস্তব চিত্র দেখে ফিরে এসে গল্প বললে কেউ তা বিশ্বাস করেনি। মহাকাশ থেকে ফিরে আসা অন্যরা সৃষ্টিকর্তাকে না পাওয়ার কথা জানালে আলবিদার মানুষ ফরচুন গ্রামের লোকদের জাদুকর ভেবে তাড়িয়ে দেয়।

সময়ের সাথে সাথে আলবিদার মানুষ বিজ্ঞানের বিভিন্ন যন্ত্রের সাথে পরিচিত হয়। এক পর্যায়ে মোবাইল ফোন ও ফেসবুকের মাধ্যমে আলবিদায় 'এন্টারকটিক এন্টারটেইনমেন্ট নেটওয়ার্ক' গড়ে ওঠে। ফেসবুক ব্যবহার করে তারা নিজেদের বিজ্ঞানের সব আবিষ্কারের দাবিদার হিসেবে প্রচার করতে থাকে। এই প্রচারণায় আকৃষ্ট হয়ে সারা পৃথিবী থেকে মানুষ আলবিদার মাঠে সমবেত হয়।

সমাবেশে এন্টারকটিক এন্টারটেইনমেন্ট মঞ্চে গাধা ও উটকে তুলে দাবি করা হয় যে, তাদের পূর্বপুরুষই প্রথম নগর নির্মাণ, কাপড় তৈরি, খনিজ উত্তোলন, প্রার্থনালয় স্থাপন, ঘর তৈরি এবং তলোয়ার তৈরি করেছিলেন। এই অদ্ভুত দাবি শুনে উপস্থিত বিজ্ঞানীরা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন। চরম উত্তেজনার এক পর্যায়ে চীনের এক নাগরিক আকাশে জৈব অস্ত্রের বিস্ফোরণ ঘটান। মুহূর্তের মধ্যে উপস্থিত মানুষের নিঃশ্বাস বন্ধ হতে শুরু করলে, বাইরের দেশ থেকে আসা মানুষ মাস্ক পরতে থাকে। যখন সবাই প্রশ্ন করে 'এটা কি?', তখন এক বৃদ্ধা উত্তর দেয়, "সবকিছুই যখন জানেন তবে এটাও এবার জেনে নিন।"

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh