নেপালের সুড়ঙ্গে আটকা কর্মীদের উদ্ধারে পাহাড়ে বিস্ফোরণ
- আপডেট সময় : ১০:৪৯:০২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে

নেপালের ত্রিশূলী নদীর তীরে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি সুড়ঙ্গে আটকা পড়া ছয় শতাধিক কর্মীকে জীবিত উদ্ধারের আশায় সময় ঘনিয়ে আসার প্রেক্ষাপটে উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। সোমবার উদ্ধারকর্মীরা সুড়ঙ্গটির কাছাকাছি পৌঁছাতে পাহাড়ে বিস্ফোরণ ঘটান এবং ভেতরে বাতাস সরবরাহের ব্যবস্থা করেন। উদ্ধারকাজে নিয়োজিত অস্ট্রেলীয় প্রকৌশলী আর্নল্ড ডিক্স জানিয়েছেন, বন্যার তোড়ে এলাকাটি চাঁদের মাটির মতো বিরান হয়ে গেছে। সুড়ঙ্গে পৌঁছানোর জন্য উদ্ধারকারীদের বাড়ি সমান বড় বড় পাথর বিস্ফোরণের মাধ্যমে গুঁড়িয়ে দিতে হচ্ছে। তবে মাটির নিচের পরিবেশ বাইরের প্লাবন থেকে সুরক্ষা পাওয়ায় আটকে থাকাদের জীবিত পাওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন প্রকৌশলীরা।
নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই দুর্যোগে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯৩৯ জনে পৌঁছেছে। এছাড়া নিখোঁজের সংখ্যা সংশোধন করে ৩ হাজার ৯২৫ জন উল্লেখ করা হয়েছে, যার মধ্যে ৫৯২ জন বিদেশি নাগরিক। ধারণা করা হচ্ছে, নিখোঁজ ব্যক্তিদের প্রতি সাতজনের একজন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কর্মী। প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে ২৭৯ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বন্যায় অন্তত ১১টি নির্মিত ও নির্মাণাধীন জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
উদ্ধার অভিযানের ধীরগতি নিয়ে স্বজনদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া ৯০০ মরদেহের মধ্যে মাত্র ৪ শতাংশ শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। ভাটির জেলা চিতওয়ানের নদীতীরে প্রায় ৩০০ মরদেহ ভেসে আসায় ফ্রিজারের অভাবে গণকবর দেয়া শুরু হয়েছে। পরবর্তীতে স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের উদ্দেশ্যে ডিএনএ নমুনা সংরক্ষণ করা হচ্ছে। এদিকে তিব্বত অংশে ১৬ জনের মৃত্যু ও ৫৪৬ জন নিখোঁজের তথ্য জানিয়েছে চীন। হতাহতের সংখ্যা নিয়ে অনলাইনে বিভ্রান্তি এড়াতে নেপাল ও চীন উভয় দেশই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নজরদারি ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা জোরদার করেছে।




























