ঢাকা ০১:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গ্রাম ও শহর: জীবনযাত্রার ভিন্নতা, শিশুদের স্বাস্থ্যে এগিয়ে গ্রাম উখিয়ায় বিজিবিকে লক্ষ্য করে গুলি, দেড় লাখ ইয়াবা উদ্ধার আজ বীরকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের ৯৪তম আত্মাহুতি দিবস হরমুজ প্রণালীতে আটকে পড়া বাংলাদেশি জাহাজ উদ্ধারে ইরানের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী হরমুজ প্রণালি খুলতে যুক্তরাষ্ট্রকে ৫ দিনের আলটিমেটাম দিল ইরান জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা ও বাড়তি চাপ লোক দেখানো ইবাদত থেকে বাঁচার উপায় ও করণীয় জমি ছাড়ার নোটিশে দিশেহারা নাটোরের দিনমজুরের কলেজপড়ুয়া তিন মেয়ে মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের প্রথম মহাসচিব হলেন নোমান মাহমুদ হাইকোর্টের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে শপথ নিলেন দেবাশীষ রায় চৌধুরী

লোডশেডিংয়ে স্থবির উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ঝুঁকিতে অস্ত্রোপচার ও চিকিৎসা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০১:৪১:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



বিদ্যুৎ সংকটের কারণে দেশের বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত ৫৮ দিনের শিশু হাফছা জাহান চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি থাকলেও বিদ্যুৎ না থাকায় ঠিকমতো নেবুলাইজার নিতে পারছে না। গরমে তার শ্বাসকষ্ট আরও বাড়ছে। পটিয়া ও রায়পুরসহ দেশের অন্যান্য হাসপাতালেও একই পরিস্থিতির শিকার হচ্ছে অসংখ্য শিশু ও রোগী। পটিয়ায় দেড় বছরের মোফাছির ও রায়পুরে চার বছরের মিনু আক্তারকে নিয়মিত নেবুলাইজার দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।

বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে এক্স-রে, ইসিজি ও প্যাথলজি পরীক্ষাও বন্ধ থাকছে। অনেক ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার চলাকালীন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় জেনারেটর চালু করতে হচ্ছে, তবে অনেক হাসপাতালে জেনারেটর থাকলেও জ্বালানি তেলের অভাবে তা চালানো সম্ভব হয় না। রাজশাহীর বাগমারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার চলাকালীন বিদ্যুৎ চলে গেলে মুঠোফোনের আলোয় এবং দ্রুত তেল কিনে জেনারেটর চালু করে অস্ত্রোপচার শেষ করতে হয়েছে। বাগমারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শংকর কুমার বিশ্বাস জানান, বিদ্যুৎ ছাড়া হাসপাতালের যাবতীয় কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে এবং অস্ত্রোপচারের সময় বিদ্যুৎ চলে যাওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালেও অস্ত্রোপচারের সময় বিদ্যুৎ বিভ্রাট নিয়মিত ঘটনা। গত শনিবার সিজারের সময় বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় জেনারেটর চালু করে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করতে হয়েছে। হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ স্টাফ নার্স বৃষ্টি রায় জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে অস্ত্রোপচারের সংখ্যা কমে গেছে। এদিকে, চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জেনারেটর জ্বালানি বরাদ্দের অভাবে বন্ধ রয়েছে। পাবনার বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জেনারেটরের কোনো ব্যবস্থাই নেই, ফলে বিদ্যুৎ চলে গেলে প্যাথলজি পরীক্ষাসহ সব কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হয়।

সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে লো-ভোল্টেজের কারণে এক্স-রে মেশিন প্রায়ই অচল হয়ে পড়ছে, যার ফলে রোগীদের বেসরকারি ক্লিনিকে বাড়তি খরচে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে। খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতেও একই সমস্যার কারণে রোগীদের ভোগান্তি চরমে। মৌলভীবাজারের কুলাউড়া ও জুড়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাতে বিদ্যুৎ না থাকলে মোমবাতি বা টর্চের আলোয় সেবা দিতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ও পিজিসিবির তথ্য অনুযায়ী, জ্বালানির অভাবে চাহিদামতো বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাচ্ছে না, যার প্রভাব সরাসরি উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে পড়ছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

লোডশেডিংয়ে স্থবির উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ঝুঁকিতে অস্ত্রোপচার ও চিকিৎসা

আপডেট সময় : ০১:৪১:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

বিদ্যুৎ সংকটের কারণে দেশের বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত ৫৮ দিনের শিশু হাফছা জাহান চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি থাকলেও বিদ্যুৎ না থাকায় ঠিকমতো নেবুলাইজার নিতে পারছে না। গরমে তার শ্বাসকষ্ট আরও বাড়ছে। পটিয়া ও রায়পুরসহ দেশের অন্যান্য হাসপাতালেও একই পরিস্থিতির শিকার হচ্ছে অসংখ্য শিশু ও রোগী। পটিয়ায় দেড় বছরের মোফাছির ও রায়পুরে চার বছরের মিনু আক্তারকে নিয়মিত নেবুলাইজার দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।

বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে এক্স-রে, ইসিজি ও প্যাথলজি পরীক্ষাও বন্ধ থাকছে। অনেক ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার চলাকালীন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় জেনারেটর চালু করতে হচ্ছে, তবে অনেক হাসপাতালে জেনারেটর থাকলেও জ্বালানি তেলের অভাবে তা চালানো সম্ভব হয় না। রাজশাহীর বাগমারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার চলাকালীন বিদ্যুৎ চলে গেলে মুঠোফোনের আলোয় এবং দ্রুত তেল কিনে জেনারেটর চালু করে অস্ত্রোপচার শেষ করতে হয়েছে। বাগমারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শংকর কুমার বিশ্বাস জানান, বিদ্যুৎ ছাড়া হাসপাতালের যাবতীয় কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে এবং অস্ত্রোপচারের সময় বিদ্যুৎ চলে যাওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালেও অস্ত্রোপচারের সময় বিদ্যুৎ বিভ্রাট নিয়মিত ঘটনা। গত শনিবার সিজারের সময় বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় জেনারেটর চালু করে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করতে হয়েছে। হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ স্টাফ নার্স বৃষ্টি রায় জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে অস্ত্রোপচারের সংখ্যা কমে গেছে। এদিকে, চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জেনারেটর জ্বালানি বরাদ্দের অভাবে বন্ধ রয়েছে। পাবনার বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জেনারেটরের কোনো ব্যবস্থাই নেই, ফলে বিদ্যুৎ চলে গেলে প্যাথলজি পরীক্ষাসহ সব কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হয়।

সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে লো-ভোল্টেজের কারণে এক্স-রে মেশিন প্রায়ই অচল হয়ে পড়ছে, যার ফলে রোগীদের বেসরকারি ক্লিনিকে বাড়তি খরচে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে। খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতেও একই সমস্যার কারণে রোগীদের ভোগান্তি চরমে। মৌলভীবাজারের কুলাউড়া ও জুড়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাতে বিদ্যুৎ না থাকলে মোমবাতি বা টর্চের আলোয় সেবা দিতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ও পিজিসিবির তথ্য অনুযায়ী, জ্বালানির অভাবে চাহিদামতো বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাচ্ছে না, যার প্রভাব সরাসরি উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে পড়ছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo