ঢাকা ০৪:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নারায়ণগঞ্জে বিসিকের চাকরি মেলায় ৬৩৯টি পদের সুযোগ একনেকে ১৫ হাজার ৮২৩ কোটি টাকার ১৩ উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দুই মাসে ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ সাড়ে ১৬ হাজার কোটি টাকা শাড়িকাণ্ড নিয়ে মুখ খুললেন তানজিন তিশা, অভিযোগ করলেন সম্মানহানির ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণই মূল লক্ষ্য: মমতা ভারতে ভিনিসিয়ুসের প্রথম সফর: গোয়ায় খেলেছিলেন অনূর্ধ্ব-১৭ টুর্নামেন্ট ইরান সংঘাত দ্রুত শেষ হবে, তেলের দাম কমবে: ট্রাম্প গঙ্গা পানি চুক্তি নিয়ে কারিগরি পর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত: জয়সোয়াল সরকারের প্রতি জনগণের অনাস্থা ঢাকতে বিশৃঙ্খলা করা হচ্ছে: গোলাম পরওয়ার মাধবদীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ৫ লাখ ২ হাজার টাকা জরিমানা

দিল্লি পুলিশের বাধায় আওয়ামী লীগ নেতাদের অনুষ্ঠান বাতিল

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৯:৩২:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



নয়াদিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবে (এফসিসি) আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে আয়োজিত একটি সেমিনার ও সংবাদ সম্মেলন বাতিল করে দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। নিরাপত্তা ও অনুমতির আবেদনপত্রের ওপর পুলিশ স্পষ্ট ভাষায় লিখে দিয়েছে, তথ্য অনুযায়ী কিছু বিতর্কের কারণে এই অনুষ্ঠানের অনুমতি দেওয়া যাচ্ছে না। এফসিসি এক বিবৃতির মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি বাতিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য প্রিন্ট এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যেখানে পুলিশের সিলযুক্ত আবেদনপত্রের ছবিও সংযুক্ত করা হয়েছে। তিলক মার্গ থানার ওই নথিতে পুলিশ কর্মকর্তা মন্তব্য করেছেন, নির্দিষ্ট কিছু বিতর্কের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে অনুষ্ঠানটির অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না এবং নথিটি ফেরত পাঠানো হলো।

এর আগে গত ৫ই আগস্ট বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই একই ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন। সেখানে বাংলাদেশ ও বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নিয়ে তাঁর দেওয়া বক্তব্য ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি করে। এর পরপরই ২৯শে আগস্ট সন্ধ্যায় ক্লাবটিতে 'ইউরোপ অ্যান্ড এশিয়া: ফ্রম ডায়ালগ টু এ পার্টনারশিপ' শীর্ষক একটি সেমিনার হওয়ার কথা ছিল। বেলজিয়ামভিত্তিক হ্যান্ড ইন হ্যান্ড ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় এটি যৌথভাবে আয়োজন করছিল এফসিসি।

এই অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের একজন সদস্য এবং একজন রোহিঙ্গা অধিকারকর্মীসহ মোট ১০ জনের প্যানেলিস্ট হিসেবে অংশ নেওয়ার কথা ছিল। আলোচকদের তালিকায় ছিলেন চেক রাজনীতিক ওন্দ্রেজ দস্তাল, জার্মান কূটনীতিক পিটার ফারেনহোল্টজ, বাংলাদেশি-আমেরিকান বিজ্ঞানী নুরান নবী, বাংলাদেশি আইন বিশেষজ্ঞ সেলিম মাহমুদ, নেপালের শিশু অধিকারকর্মী সুন্দর ঘিমিরে, রোহিঙ্গা অধিকারকর্মী রবি আলম, এফসিসি-আইএপিসির চেয়ারম্যান ভেঙ্কট নারায়ণ, সাবেক কূটনীতিক বীনা সিক্রি, ইউনাইটেড ডিপ্লোম্যাটিক কাউন্সিলের সভাপতি আসিফ ইকবাল এবং হ্যান্ড ইন হ্যান্ড ফাউন্ডেশনের মহাসচিব গোলাম জিলানি।

এফসিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অনুষ্ঠানটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাদের ব্যবস্থাপনা দলের একজন সদস্য তিলক মার্গ থানায় গিয়েছিলেন। সেখানে বিস্তারিত তথ্য দেওয়ার পর পুলিশ স্পষ্টভাবে অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এরপর এফসিসি তাদের সদস্যদের নোটিশ পাঠিয়ে অনুষ্ঠান বাতিলের বিষয়টি জানিয়ে দেয়। এফসিসি ম্যানেজার সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, আকস্মিক এই পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল।

এফসিসির সভাপতি ওয়ায়েল আওয়াদ এই অনুষ্ঠানটিকে অংশীদারত্ব ও উন্নয়ন বিষয়ক একটি 'বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনা' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে পুলিশ কেন এর অনুমতি দেয়নি, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন বলে জানান। অন্যদিকে, নয়াদিল্লির ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ (ডিসিপি) শচীন শর্মা পুলিশের হস্তক্ষেপের অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, এফসিসির প্যানেল আয়োজনের জন্য পুলিশের অনুমতির প্রয়োজন হয় না এবং তারা কোনো অনুষ্ঠানে হস্তক্ষেপ করেননি। তবে দ্য প্রিন্টের হাতে থাকা নথিতে পুলিশের আপত্তির বিষয়টি স্পষ্ট প্রমাণিত হয়েছে।

এফসিসির একটি সূত্র জানিয়েছে, শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনের পর বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ভারতের কাছে এ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছিল। প্যানেলে আওয়ামী লীগের একজন প্রভাবশালী নেতা এবং রোহিঙ্গা ইস্যুর এক বুদ্ধিজীবী থাকার কারণেই মূলত দিল্লি পুলিশ এই অনুষ্ঠানের অনুমতি প্রত্যাখ্যান করে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এফসিসির সহকারী ম্যানেজার দিল্লি পুলিশের কাছে নিরাপত্তাব্যবস্থার জন্য পুলিশ সদস্য মোতায়েনের অনুরোধ করেছিলেন। চিঠিতে বলা হয়, ২৯ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এফসিসি ও বেলজিয়ামভিত্তিক হ্যান্ড ইন হ্যান্ড ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে সেমিনার-কাম-প্রেস কনফারেন্স হওয়ার কথা। কোনো অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা এড়াতে সংবাদ সম্মেলনের জন

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

দিল্লি পুলিশের বাধায় আওয়ামী লীগ নেতাদের অনুষ্ঠান বাতিল

আপডেট সময় : ০৯:৩২:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

নয়াদিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবে (এফসিসি) আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে আয়োজিত একটি সেমিনার ও সংবাদ সম্মেলন বাতিল করে দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। নিরাপত্তা ও অনুমতির আবেদনপত্রের ওপর পুলিশ স্পষ্ট ভাষায় লিখে দিয়েছে, তথ্য অনুযায়ী কিছু বিতর্কের কারণে এই অনুষ্ঠানের অনুমতি দেওয়া যাচ্ছে না। এফসিসি এক বিবৃতির মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি বাতিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য প্রিন্ট এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যেখানে পুলিশের সিলযুক্ত আবেদনপত্রের ছবিও সংযুক্ত করা হয়েছে। তিলক মার্গ থানার ওই নথিতে পুলিশ কর্মকর্তা মন্তব্য করেছেন, নির্দিষ্ট কিছু বিতর্কের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে অনুষ্ঠানটির অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না এবং নথিটি ফেরত পাঠানো হলো।

এর আগে গত ৫ই আগস্ট বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই একই ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন। সেখানে বাংলাদেশ ও বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নিয়ে তাঁর দেওয়া বক্তব্য ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি করে। এর পরপরই ২৯শে আগস্ট সন্ধ্যায় ক্লাবটিতে 'ইউরোপ অ্যান্ড এশিয়া: ফ্রম ডায়ালগ টু এ পার্টনারশিপ' শীর্ষক একটি সেমিনার হওয়ার কথা ছিল। বেলজিয়ামভিত্তিক হ্যান্ড ইন হ্যান্ড ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় এটি যৌথভাবে আয়োজন করছিল এফসিসি।

এই অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের একজন সদস্য এবং একজন রোহিঙ্গা অধিকারকর্মীসহ মোট ১০ জনের প্যানেলিস্ট হিসেবে অংশ নেওয়ার কথা ছিল। আলোচকদের তালিকায় ছিলেন চেক রাজনীতিক ওন্দ্রেজ দস্তাল, জার্মান কূটনীতিক পিটার ফারেনহোল্টজ, বাংলাদেশি-আমেরিকান বিজ্ঞানী নুরান নবী, বাংলাদেশি আইন বিশেষজ্ঞ সেলিম মাহমুদ, নেপালের শিশু অধিকারকর্মী সুন্দর ঘিমিরে, রোহিঙ্গা অধিকারকর্মী রবি আলম, এফসিসি-আইএপিসির চেয়ারম্যান ভেঙ্কট নারায়ণ, সাবেক কূটনীতিক বীনা সিক্রি, ইউনাইটেড ডিপ্লোম্যাটিক কাউন্সিলের সভাপতি আসিফ ইকবাল এবং হ্যান্ড ইন হ্যান্ড ফাউন্ডেশনের মহাসচিব গোলাম জিলানি।

এফসিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অনুষ্ঠানটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাদের ব্যবস্থাপনা দলের একজন সদস্য তিলক মার্গ থানায় গিয়েছিলেন। সেখানে বিস্তারিত তথ্য দেওয়ার পর পুলিশ স্পষ্টভাবে অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এরপর এফসিসি তাদের সদস্যদের নোটিশ পাঠিয়ে অনুষ্ঠান বাতিলের বিষয়টি জানিয়ে দেয়। এফসিসি ম্যানেজার সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, আকস্মিক এই পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল।

এফসিসির সভাপতি ওয়ায়েল আওয়াদ এই অনুষ্ঠানটিকে অংশীদারত্ব ও উন্নয়ন বিষয়ক একটি 'বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনা' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে পুলিশ কেন এর অনুমতি দেয়নি, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন বলে জানান। অন্যদিকে, নয়াদিল্লির ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ (ডিসিপি) শচীন শর্মা পুলিশের হস্তক্ষেপের অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, এফসিসির প্যানেল আয়োজনের জন্য পুলিশের অনুমতির প্রয়োজন হয় না এবং তারা কোনো অনুষ্ঠানে হস্তক্ষেপ করেননি। তবে দ্য প্রিন্টের হাতে থাকা নথিতে পুলিশের আপত্তির বিষয়টি স্পষ্ট প্রমাণিত হয়েছে।

এফসিসির একটি সূত্র জানিয়েছে, শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনের পর বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ভারতের কাছে এ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছিল। প্যানেলে আওয়ামী লীগের একজন প্রভাবশালী নেতা এবং রোহিঙ্গা ইস্যুর এক বুদ্ধিজীবী থাকার কারণেই মূলত দিল্লি পুলিশ এই অনুষ্ঠানের অনুমতি প্রত্যাখ্যান করে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এফসিসির সহকারী ম্যানেজার দিল্লি পুলিশের কাছে নিরাপত্তাব্যবস্থার জন্য পুলিশ সদস্য মোতায়েনের অনুরোধ করেছিলেন। চিঠিতে বলা হয়, ২৯ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এফসিসি ও বেলজিয়ামভিত্তিক হ্যান্ড ইন হ্যান্ড ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে সেমিনার-কাম-প্রেস কনফারেন্স হওয়ার কথা। কোনো অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা এড়াতে সংবাদ সম্মেলনের জন

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin