রূপগঞ্জে জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পের বিরুদ্ধে কৃষিজমি রক্ষার দাবি
- আপডেট সময় : ০৩:০২:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কায়েতপাড়া ও রূপগঞ্জ ইউনিয়নের কৃষিজমি ও বসতভিটা রক্ষার দাবিতে রাজধানীতে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা। শুক্রবার ২৮ আগস্ট সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘পৈতৃক ভিটা-মাটি সংরক্ষণ পরিষদ’-এর উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে দুপুর ১২টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংগঠনটির পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব আহসান উল্লাহ লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এ সময় আলহাজ্ব আবু বকর সিদ্দিক, রফিকুল ইসলাম, সার্জেন্ট ইলিয়াস পারভেজ, আবদুস সালাম, আহসান উল্লাহ মাস্টার, আইনজীবী নাজমুল ইসলাম ও প্রভাষক নুর সালাম উপস্থিত ছিলেন। ভুক্তভোগীদের স্পষ্ট বক্তব্য, তাঁদের এই আন্দোলন দেশের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নয়, বরং জলসিঁড়ি প্রকল্পের নামে জমি দখল, বালু ভরাট এবং স্থানীয় মানুষের বসতভিটা হারানোর আশঙ্কার প্রতিবাদেই তাঁরা সোচ্চার হয়েছেন।
লিখিত বক্তব্যে দাবি করা হয়, ২০১০ সালে কায়েতপাড়া ও রূপগঞ্জ ইউনিয়নের ১৭টি মৌজার প্রায় ৭ হাজার বিঘা কৃষিজমি অধিগ্রহণ ছাড়াই দখলের চেষ্টা করা হয়েছিল। স্থানীয়রা প্রতিবাদ করলে তাঁদের বিরুদ্ধে হামলা ও মামলার ঘটনা ঘটে। বর্তমানে বালু ভরাটের মাধ্যমে তিন ফসলি কৃষিজমির একটি অংশ দখল করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জমির মালিকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালীদের সহযোগিতায় জলসিঁড়ি প্রকল্প-১-এর কার্যক্রম শুরু হয়। পরবর্তীতে জলসিঁড়ি প্রকল্প-২-এর জন্য সীমানা নির্দেশক নকশা তৈরি করে জমি ক্রয় না করেই বিভিন্ন স্থানে বালু ভরাট করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানায় দুই শতাধিক বাসিন্দা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এছাড়া সহকারী পুলিশ সুপারের মাধ্যমে জমির আরএস দাগ নম্বর উল্লেখ করে প্রায় শতাধিক অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কাছেও স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে, কিন্তু বারবার আবেদন করার পরও কোনো কার্যকর প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না।
সংবাদ সম্মেলনে রূপগঞ্জের ইচ্ছাখালী খাল বালু দিয়ে ভরাট করে দেওয়ার বিষয়টিও উঠে আসে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে খালটি নৌচলাচল, কৃষিজমিতে সেচ এবং মাছ আহরণের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় আশপাশের প্রায় ২৪টি গ্রামের মানুষ জলাবদ্ধতার সমস্যায় পড়েছেন। তাঁরা দ্রুত খাল থেকে বালু অপসারণ, পুনঃখনন এবং নৌচলাচলের উপযোগী করে দেওয়ার দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলন থেকে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়ে নয় দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—জমি ক্রয় ছাড়া বালু ভরাট ও রাস্তা নির্মাণ বন্ধ করা, ইচ্ছাখালী খাল পুনঃখনন, আবাসন প্রকল্পের সুনির্দিষ্ট সীমানা ও মানচিত্র প্রকাশ, বসতবাড়ির বাইরে প্রকল্প স্থাপন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা।



























