ঢাকা ০৩:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী, অনিয়মে কঠোর ব্যবস্থা জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানে হেরে ত্রিদেশীয় সিরিজ শুরু করল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ ওয়ানডে: আফগানিস্তানকে ৩৩ রানে হারিয়ে বাংলাদেশের জয় ফেনীর সোনাগাজীতে মাদকসহ ছাত্রদলের দুই নেতাসহ গ্রেপ্তার ৪ জীবনযাত্রার ব্যয়ের প্রতিবাদে উত্তাল ফ্রান্স, সংঘর্ষে গ্রেপ্তার ২৭২ রাজধানীর শান্তিনগরে পুলিশ বক্সের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ রিয়াল বেতিসকে ৫-২ গোলে হারিয়ে শীর্ষে অবস্থান শক্ত করল বার্সেলোনা অস্ত্র নিয়ে কাউকে ভয় দেখাইনি, সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলছি: ইশরাক জনগণের সহযোগিতায় পুলিশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে, ঢাকেশ্বরী মন্দিরে আইজিপি সাতক্ষীরায় ওয়াহিদুজ্জামান হত্যা মামলার প্রধান আসামি আমিনী গ্রেপ্তার

মৃত্যুর আগেই জীবিত অবস্থায় ‘চল্লিশা’র আয়োজন কিশোরগঞ্জের দম্পতির

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০২:৩৪:৪১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬ ২৭ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের বীর হাজীপুর গ্রামে এক দম্পতি মৃত্যুর আগেই নিজেদের ‘চল্লিশা’র আয়োজন করেছেন। মো. রফিকুল ইসলাম (৬২) ও তার স্ত্রী বেগম আক্তার (৫৫) শুক্রবার বীর হাজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে প্রায় ৫ হাজার অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য এই ভোজের আয়োজন করেন। সকাল সাড়ে ১১টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত চলে এই ব্যতিক্রমী কার্যক্রম।

আয়োজক দম্পতি অতিথিদের জন্য মাঠ জুড়ে সামিয়ানা, চেয়ার ও টেবিলের ব্যবস্থা করেছিলেন। সেখানে একসঙ্গে প্রায় ৪০০ জন বসে খাবার গ্রহণের সুযোগ ছিল। খাবারের মেন্যুতে ছিল গরুর মাংস, মাছের মুড়িঘণ্ট, ডাল ও পায়েশ।

এই আয়োজনের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রফিকুল ইসলাম জানান, তার দুই সন্তান বাকপ্রতিবন্ধী। মৃত্যুর পর সন্তানরা হয়তো আত্মীয়স্বজন ও এলাকার মানুষকে নিয়ে এমন বড় আয়োজন করতে পারবেন না—এই ভাবনা থেকেই তিনি জীবিত অবস্থায় নিজ হাতে চল্লিশা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এছাড়া আত্মীয়স্বজন ও মানুষের দোয়া এবং পরকালের সওয়াব লাভের আশাও ছিল তার এই উদ্যোগের পেছনে।

রফিকুল ইসলামের চাচাতো ভাই শামীম হোসেন জানান, এলাকায় এ ধরনের আয়োজন আগে কখনো দেখা যায়নি। উৎসবমুখর পরিবেশে স্থানীয়রা এই ভোজে অংশ নিয়েছেন।

আয়োজক রফিকুল ইসলাম জানান, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের রাস্তার পাশে থাকা তার দোকান ও জমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ বাবদ সরকার থেকে তিনি ১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা পেয়েছিলেন। সেই টাকা থেকেই প্রায় ৯ লাখ টাকা ব্যয় করে এই চল্লিশার আয়োজন করা হয়েছে। এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে এবং অনেকেই এটিকে একটি অনন্য ও মানবিক উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

মৃত্যুর আগেই জীবিত অবস্থায় ‘চল্লিশা’র আয়োজন কিশোরগঞ্জের দম্পতির

আপডেট সময় : ০২:৩৪:৪১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের বীর হাজীপুর গ্রামে এক দম্পতি মৃত্যুর আগেই নিজেদের ‘চল্লিশা’র আয়োজন করেছেন। মো. রফিকুল ইসলাম (৬২) ও তার স্ত্রী বেগম আক্তার (৫৫) শুক্রবার বীর হাজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে প্রায় ৫ হাজার অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য এই ভোজের আয়োজন করেন। সকাল সাড়ে ১১টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত চলে এই ব্যতিক্রমী কার্যক্রম।

আয়োজক দম্পতি অতিথিদের জন্য মাঠ জুড়ে সামিয়ানা, চেয়ার ও টেবিলের ব্যবস্থা করেছিলেন। সেখানে একসঙ্গে প্রায় ৪০০ জন বসে খাবার গ্রহণের সুযোগ ছিল। খাবারের মেন্যুতে ছিল গরুর মাংস, মাছের মুড়িঘণ্ট, ডাল ও পায়েশ।

এই আয়োজনের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রফিকুল ইসলাম জানান, তার দুই সন্তান বাকপ্রতিবন্ধী। মৃত্যুর পর সন্তানরা হয়তো আত্মীয়স্বজন ও এলাকার মানুষকে নিয়ে এমন বড় আয়োজন করতে পারবেন না—এই ভাবনা থেকেই তিনি জীবিত অবস্থায় নিজ হাতে চল্লিশা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এছাড়া আত্মীয়স্বজন ও মানুষের দোয়া এবং পরকালের সওয়াব লাভের আশাও ছিল তার এই উদ্যোগের পেছনে।

রফিকুল ইসলামের চাচাতো ভাই শামীম হোসেন জানান, এলাকায় এ ধরনের আয়োজন আগে কখনো দেখা যায়নি। উৎসবমুখর পরিবেশে স্থানীয়রা এই ভোজে অংশ নিয়েছেন।

আয়োজক রফিকুল ইসলাম জানান, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের রাস্তার পাশে থাকা তার দোকান ও জমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ বাবদ সরকার থেকে তিনি ১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা পেয়েছিলেন। সেই টাকা থেকেই প্রায় ৯ লাখ টাকা ব্যয় করে এই চল্লিশার আয়োজন করা হয়েছে। এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে এবং অনেকেই এটিকে একটি অনন্য ও মানবিক উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin