ঢাকা ০৫:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সিংগাইরে মদ্যপ অবস্থায় মারামারি, চিকিৎসাধীন যুবকের মৃত্যু দেশজুড়ে আশঙ্কাজনকহারে বেড়েছে খুন, ৭ মাসে ২০৭৬ হত্যাকাণ্ড ২৯ আগস্ট থেকে চুয়াডাঙ্গায় আন্তঃজেলা বাস চলাচল বন্ধের ঘোষণা আষাঢ়িয়ারচর ব্রিজে ফাটল: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট রূপপুর প্রকল্পে লিফট থেকে পড়ে শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু কুলাউড়ায় এনসিপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১০, গ্রেপ্তার ৫ নারায়ণগঞ্জে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনা ও পানিতে ডুবে ৩ জনের মৃত্যু রূপগঞ্জে জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পের বিরুদ্ধে কৃষিজমি রক্ষার দাবি ইউএস ওপেনে ওয়াইল্ড কার্ড পেলেন সেরেনা-ভেনাস, চার বছর পর ফিরছে উইলিয়ামস জুটি টালিউড অভিনেত্রী মধুমিতার সঙ্গে বড়পর্দায় ফিরছেন বাপ্পারাজ

মৃত্যুর আগেই জীবিত অবস্থায় ‘চল্লিশা’র আয়োজন কিশোরগঞ্জের দম্পতির

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৩৪:৪১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের বীর হাজীপুর গ্রামে এক দম্পতি মৃত্যুর আগেই নিজেদের ‘চল্লিশা’র আয়োজন করেছেন। মো. রফিকুল ইসলাম (৬২) ও তার স্ত্রী বেগম আক্তার (৫৫) শুক্রবার বীর হাজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে প্রায় ৫ হাজার অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য এই ভোজের আয়োজন করেন। সকাল সাড়ে ১১টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত চলে এই ব্যতিক্রমী কার্যক্রম।

আয়োজক দম্পতি অতিথিদের জন্য মাঠ জুড়ে সামিয়ানা, চেয়ার ও টেবিলের ব্যবস্থা করেছিলেন। সেখানে একসঙ্গে প্রায় ৪০০ জন বসে খাবার গ্রহণের সুযোগ ছিল। খাবারের মেন্যুতে ছিল গরুর মাংস, মাছের মুড়িঘণ্ট, ডাল ও পায়েশ।

এই আয়োজনের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রফিকুল ইসলাম জানান, তার দুই সন্তান বাকপ্রতিবন্ধী। মৃত্যুর পর সন্তানরা হয়তো আত্মীয়স্বজন ও এলাকার মানুষকে নিয়ে এমন বড় আয়োজন করতে পারবেন না—এই ভাবনা থেকেই তিনি জীবিত অবস্থায় নিজ হাতে চল্লিশা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এছাড়া আত্মীয়স্বজন ও মানুষের দোয়া এবং পরকালের সওয়াব লাভের আশাও ছিল তার এই উদ্যোগের পেছনে।

রফিকুল ইসলামের চাচাতো ভাই শামীম হোসেন জানান, এলাকায় এ ধরনের আয়োজন আগে কখনো দেখা যায়নি। উৎসবমুখর পরিবেশে স্থানীয়রা এই ভোজে অংশ নিয়েছেন।

আয়োজক রফিকুল ইসলাম জানান, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের রাস্তার পাশে থাকা তার দোকান ও জমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ বাবদ সরকার থেকে তিনি ১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা পেয়েছিলেন। সেই টাকা থেকেই প্রায় ৯ লাখ টাকা ব্যয় করে এই চল্লিশার আয়োজন করা হয়েছে। এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে এবং অনেকেই এটিকে একটি অনন্য ও মানবিক উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

মৃত্যুর আগেই জীবিত অবস্থায় ‘চল্লিশা’র আয়োজন কিশোরগঞ্জের দম্পতির

আপডেট সময় : ০২:৩৪:৪১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের বীর হাজীপুর গ্রামে এক দম্পতি মৃত্যুর আগেই নিজেদের ‘চল্লিশা’র আয়োজন করেছেন। মো. রফিকুল ইসলাম (৬২) ও তার স্ত্রী বেগম আক্তার (৫৫) শুক্রবার বীর হাজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে প্রায় ৫ হাজার অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য এই ভোজের আয়োজন করেন। সকাল সাড়ে ১১টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত চলে এই ব্যতিক্রমী কার্যক্রম।

আয়োজক দম্পতি অতিথিদের জন্য মাঠ জুড়ে সামিয়ানা, চেয়ার ও টেবিলের ব্যবস্থা করেছিলেন। সেখানে একসঙ্গে প্রায় ৪০০ জন বসে খাবার গ্রহণের সুযোগ ছিল। খাবারের মেন্যুতে ছিল গরুর মাংস, মাছের মুড়িঘণ্ট, ডাল ও পায়েশ।

এই আয়োজনের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রফিকুল ইসলাম জানান, তার দুই সন্তান বাকপ্রতিবন্ধী। মৃত্যুর পর সন্তানরা হয়তো আত্মীয়স্বজন ও এলাকার মানুষকে নিয়ে এমন বড় আয়োজন করতে পারবেন না—এই ভাবনা থেকেই তিনি জীবিত অবস্থায় নিজ হাতে চল্লিশা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এছাড়া আত্মীয়স্বজন ও মানুষের দোয়া এবং পরকালের সওয়াব লাভের আশাও ছিল তার এই উদ্যোগের পেছনে।

রফিকুল ইসলামের চাচাতো ভাই শামীম হোসেন জানান, এলাকায় এ ধরনের আয়োজন আগে কখনো দেখা যায়নি। উৎসবমুখর পরিবেশে স্থানীয়রা এই ভোজে অংশ নিয়েছেন।

আয়োজক রফিকুল ইসলাম জানান, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের রাস্তার পাশে থাকা তার দোকান ও জমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ বাবদ সরকার থেকে তিনি ১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা পেয়েছিলেন। সেই টাকা থেকেই প্রায় ৯ লাখ টাকা ব্যয় করে এই চল্লিশার আয়োজন করা হয়েছে। এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে এবং অনেকেই এটিকে একটি অনন্য ও মানবিক উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin