ব্রুকলিনে বাংলাদেশি ইউসুফ হত্যা: ঘাতকের ছবি প্রকাশ করল নিউইয়র্ক পুলিশ
- আপডেট সময় : ০৭:০৮:০৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত বাংলাদেশি মো. ইউসুফের (৪৪) পরিবার তাঁর পাঠানো আয়ের ওপরই নির্ভরশীল ছিল। ব্রাউনসভিলের রকঅ্যাওয়ে অ্যাভিনিউয়ের ‘আমেরিকান বেস্ট উইংস অ্যান্ড পিৎজা’ রেস্তোরাঁয় কাজ করার সময় মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি মারা যান। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ ঘাতক হিসেবে ৩১ বছর বয়সী জেসাস অ্যাকোস্তাকে চিহ্নিত করেছে এবং তাঁর ছবি প্রকাশ করে জনসাধারণের সহযোগিতা চেয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ব্রুকলিনে ইউসুফকে হত্যার ঠিক ৪৮ ঘণ্টা পর ব্রঙ্কসের মট হ্যাভেনে আরেকটি হত্যাকাণ্ড ঘটায় এই ঘাতক। গত মঙ্গলবার প্রথম প্রহর সোয়া ১২টার দিকে ওয়ালটন অ্যাভিনিউয়ের কাছে একটি দোকানে ঢুকে জেসাস অ্যাকোস্তা ৩৩ বছর বয়সী এক ক্রেতার বুকে গুলি করে। এরপর ক্যাশ রেজিস্টার থেকে টাকা নিয়ে সে পালিয়ে যায়। গুলিবিদ্ধ ওই ক্রেতা পরে লিঙ্কন হাসপাতালে মারা যান।
ব্রুকলিনের রেস্তোরাঁটিতে হামলার সময় ইউসুফের সঙ্গে থাকা ৩৯ বছর বয়সী এক সহকর্মীও আহত হন। তাঁর ডান পায়ে গুলি লাগলেও তিনি প্রাণে বেঁচে গেছেন। রেস্তোরাঁর সহ-স্বত্বাধিকারী রাসেল জানান, ঘটনার সময় তিনি সেখানে ছিলেন না, তবে পরে সিসিটিভি ফুটেজে পুরো ঘটনা দেখেছেন। রেস্তোরাঁটি বন্ধ থাকার সময় কর্মীদের যাতায়াতের একটি দরজা ভুলবশত খোলা থাকায় খুনি ভেতরে প্রবেশ করতে পেরেছিল।
রাসেল বলেন, বন্দুকধারী ভেতরে ঢুকেই কোনো কথা না বলে সরাসরি গুলি চালায়। প্রথমে সে অন্য কর্মীকে লক্ষ্য করে পিস্তল উঁচিয়েছিল। তা দেখে ওই সহকর্মী লাফ দেওয়ায় গুলিটি তাঁর বুকে না লেগে পায়ে লাগে। কিন্তু ক্যাশ কাউন্টারের কাছে দাঁড়িয়ে থাকা ইউসুফের পালানোর কোনো পথ ছিল না। খুনি সরাসরি তাঁর মাথায় গুলি করে। পুলিশ ডাকাতির উদ্দেশ্যে হামলা হয়েছে বলে ধারণা করলেও রাসেল জানান, ক্যাশ থেকে কোনো টাকা খোয়া যায়নি। আহত সহকর্মী গুলি লাগার পর জ্ঞান হারিয়েছিলেন এবং বর্তমানে ব্রুকডেল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
নিহত ইউসুফের দেশের বাড়ি বাংলাদেশের একটি দরিদ্র পরিবারে। রাসেল অত্যন্ত দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ইউসুফ কেবল তাঁদের কর্মীই ছিলেন না, ছিলেন তাঁর অন্যতম ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তিনি পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি ছিলেন। তাঁর উপার্জিত টাকায় বাংলাদেশে থাকা স্ত্রী, ৩ ও ১২ বছর বয়সী দুই মেয়ে এবং বৃদ্ধ বাবা-মা জীবনযাপন করতেন। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারটি চরম সংকটে পড়েছে।
ওই এলাকায় সচরাচর কোনো অপরিচিত ক্রেতা আসে না উল্লেখ করে রাসেল জানান, তাঁদের রেস্তোরাঁর কাছাকাছি কোনো সাবওয়ে স্টেশন নেই। গুলিবর্ষণকারী ওই ব্যক্তিকে তাঁরা এর আগে কখনো দেখেননি। পুলিশ এখন সন্দেহভাজন জেসাস অ্যাকোস্তাকে গ্রেপ্তারে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে।



























