ঢাকা ১২:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শৈলকুপা শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পুরস্কারের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ নেপালে হিমবাহ ধসে মৃতের সংখ্যা ৪৭২, নতুন বন্যার ঝুঁকিতে এলাকা কারওয়ান বাজারে শুরু হলো প্রথম আলো বন্ধুসভার ‘লেখক বন্ধু উৎসব’ সিলেটে হাম ও উপসর্গে আরও তিন শিশুর মৃত্যু নেপাল সীমান্তে হিমালয় কন্যার বুকে প্রলয়ংকরী জলবোমার আঘাত সিরাজগঞ্জের হাড়ের গুঁড়ো এখন ওষুধ শিল্পের বড় চাহিদা মেটাচ্ছে অর্থনৈতিক চাপে ‘ভূমিকম্পের মতো’ পাল্টা আঘাতের হুমকি ইরানের ঢাকার আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন তদারকির দায়িত্বে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু জামায়াত ১৬ বছর আ.লীগের ভেতরে লুকিয়ে ছিল: রাশেদ খাঁন নেতানিয়াহুকে ‘জাহান্নামে’ পাঠানোর হুঁশিয়ারি ইরানি জেনারেলের

শাহবাগই ওনাকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বানিয়েছে: আবদুল্লাহ তাহের

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৫২:৫৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তরের সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা। ওয়াকআউটের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের অভিযোগ করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে বিরোধী দলের বক্তব্যকে উপেক্ষা করার চেষ্টা করছেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, শাহবাগই বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে এই পদে বসিয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাতে সংসদ ভবন থেকে বের হয়ে আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে মন্তব্য করেছেন যে এগুলো পল্টন বা শাহবাগ নয়। কিন্তু ওনার মনে রাখা উচিত ছিল, আজকে তিনি যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হয়েছেন, তা শাহবাগেরই ফসল। শাহবাগ আন্দোলনই ওনাকে এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে। তিনি আরও বলেন, বিরোধী দল একটি সভ্য ও মার্জিত সংসদ গড়ে তোলার চেষ্টা করছে বলেই তারা গঠনমূলক সমালোচনা করে। জামায়াতের আমিরসহ তাদের জ্যেষ্ঠ নেতারা বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রতিটি শব্দ ও বাক্যের প্রতি সতর্ক থাকেন, যাতে সংসদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন না হয়।

বিএনপির তীব্র সমালোচনা করে জামায়াতের এই নেতা অভিযোগ করেন, অতীতে আওয়ামী লীগও বিরোধী দলের সঙ্গে এমন আচরণ করেনি, যা এখন বিএনপি করছে। সরকারের উন্নয়ন বরাদ্দ কেবল বিএনপির নিজস্ব লোকজনকে দেওয়া হচ্ছে এবং লাখ লাখ ভোটে নির্বাচিত বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ফসল এই পরিস্থিতিতে বিএনপি বৈষম্যে চ্যাম্পিয়ন হয়ে উঠছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ ছাড়া সংরক্ষিত নারী আসনের বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদেরও বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে না বলে তিনি অভিযোগ তোলেন।

দেশের চলমান সংকট তুলে ধরে তাহের বলেন, দেশে গ্যাস, বিদ্যুৎ, তেল, সার, বীজ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আকাশচুম্বী। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতিতে সাধারণ মানুষ ভুক্তভোগী। এই পরিস্থিতিতে বিরোধীদলীয় নেতার পক্ষ থেকে জরুরি অধিবেশন ডাকার অনুরোধ করা হলেও সরকার তা উপেক্ষা করে হঠাৎ ২৭ আগস্ট অধিবেশন ডাকে। বিরোধী দল ভেবেছিল চিঠির বিষয়ে আলোচনা হবে, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সেটি এজেন্ডায় রাখা হয়নি।

গণভোটের বিষয়ে বিএনপির অবস্থানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, গণভোট ও নির্বাচন একই আদেশের অধীনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিএনপি যদি দাবি করে গণভোট সংবিধানসম্মত নয়, তবে তাদের নির্বাচন এবং দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার সরকারও বৈধ থাকে না। গণভোটের রায় বাস্তবায়নে বিরোধী দল সংসদের ভেতরে-বাইরে চেষ্টা চালাচ্ছে এবং বিএনপির এই দ্বিমুখী নীতির বিরুদ্ধে জনগণকে সচেতন করতে লংমার্চ করা হচ্ছে।

সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানের সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় উপনেতা বলেন, প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ বললেও এখন জিরোর বাঁয়ে আরও ১০০ যোগ হয়ে এক হাজার গুণ দুর্নীতি বাড়ছে। চাঁদাবাজির মতো বিষয়গুলো প্রধানমন্ত্রীর অজানা থাকার কথা নয়। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সরকার নিজেদের মতো বিল পাস করছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, জনগণের সঙ্গে এই প্রতারণার অংশীদার না হতেই তারা বিলের আলোচনা বয়কট করেছেন। এ ছাড়া মক্কা প্যাক্টকে আপাতদৃষ্টিতে ইতিবাচক বলে মনে করেন তিনি।

এদিকে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, সংসদে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কটূক্তি করেছেন এবং স্পিকার এ ক্ষেত্রে পক্ষপাতমূলক আচরণ করেছেন। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিরোধ বিলসহ তিনটি বিল একসঙ্গে না এনে বিচ্ছিন্নভাবে পাস করিয়ে সরকারি দল সংসদীয় স্বৈরতন্ত্র চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

শাহবাগই ওনাকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বানিয়েছে: আবদুল্লাহ তাহের

আপডেট সময় : ০২:৫২:৫৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তরের সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা। ওয়াকআউটের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের অভিযোগ করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে বিরোধী দলের বক্তব্যকে উপেক্ষা করার চেষ্টা করছেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, শাহবাগই বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে এই পদে বসিয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাতে সংসদ ভবন থেকে বের হয়ে আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে মন্তব্য করেছেন যে এগুলো পল্টন বা শাহবাগ নয়। কিন্তু ওনার মনে রাখা উচিত ছিল, আজকে তিনি যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হয়েছেন, তা শাহবাগেরই ফসল। শাহবাগ আন্দোলনই ওনাকে এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে। তিনি আরও বলেন, বিরোধী দল একটি সভ্য ও মার্জিত সংসদ গড়ে তোলার চেষ্টা করছে বলেই তারা গঠনমূলক সমালোচনা করে। জামায়াতের আমিরসহ তাদের জ্যেষ্ঠ নেতারা বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রতিটি শব্দ ও বাক্যের প্রতি সতর্ক থাকেন, যাতে সংসদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন না হয়।

বিএনপির তীব্র সমালোচনা করে জামায়াতের এই নেতা অভিযোগ করেন, অতীতে আওয়ামী লীগও বিরোধী দলের সঙ্গে এমন আচরণ করেনি, যা এখন বিএনপি করছে। সরকারের উন্নয়ন বরাদ্দ কেবল বিএনপির নিজস্ব লোকজনকে দেওয়া হচ্ছে এবং লাখ লাখ ভোটে নির্বাচিত বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ফসল এই পরিস্থিতিতে বিএনপি বৈষম্যে চ্যাম্পিয়ন হয়ে উঠছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ ছাড়া সংরক্ষিত নারী আসনের বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদেরও বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে না বলে তিনি অভিযোগ তোলেন।

দেশের চলমান সংকট তুলে ধরে তাহের বলেন, দেশে গ্যাস, বিদ্যুৎ, তেল, সার, বীজ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আকাশচুম্বী। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতিতে সাধারণ মানুষ ভুক্তভোগী। এই পরিস্থিতিতে বিরোধীদলীয় নেতার পক্ষ থেকে জরুরি অধিবেশন ডাকার অনুরোধ করা হলেও সরকার তা উপেক্ষা করে হঠাৎ ২৭ আগস্ট অধিবেশন ডাকে। বিরোধী দল ভেবেছিল চিঠির বিষয়ে আলোচনা হবে, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সেটি এজেন্ডায় রাখা হয়নি।

গণভোটের বিষয়ে বিএনপির অবস্থানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, গণভোট ও নির্বাচন একই আদেশের অধীনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিএনপি যদি দাবি করে গণভোট সংবিধানসম্মত নয়, তবে তাদের নির্বাচন এবং দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার সরকারও বৈধ থাকে না। গণভোটের রায় বাস্তবায়নে বিরোধী দল সংসদের ভেতরে-বাইরে চেষ্টা চালাচ্ছে এবং বিএনপির এই দ্বিমুখী নীতির বিরুদ্ধে জনগণকে সচেতন করতে লংমার্চ করা হচ্ছে।

সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানের সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় উপনেতা বলেন, প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ বললেও এখন জিরোর বাঁয়ে আরও ১০০ যোগ হয়ে এক হাজার গুণ দুর্নীতি বাড়ছে। চাঁদাবাজির মতো বিষয়গুলো প্রধানমন্ত্রীর অজানা থাকার কথা নয়। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সরকার নিজেদের মতো বিল পাস করছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, জনগণের সঙ্গে এই প্রতারণার অংশীদার না হতেই তারা বিলের আলোচনা বয়কট করেছেন। এ ছাড়া মক্কা প্যাক্টকে আপাতদৃষ্টিতে ইতিবাচক বলে মনে করেন তিনি।

এদিকে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, সংসদে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কটূক্তি করেছেন এবং স্পিকার এ ক্ষেত্রে পক্ষপাতমূলক আচরণ করেছেন। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিরোধ বিলসহ তিনটি বিল একসঙ্গে না এনে বিচ্ছিন্নভাবে পাস করিয়ে সরকারি দল সংসদীয় স্বৈরতন্ত্র চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo