ঢাকা ০৪:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কিংবদন্তি হলিউড অভিনেতা টিম কারি আর নেই, ৮০ বছর বয়সে প্রয়াণ ২০১৪-২০২৫: বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ওপর সাত ধরনের নিপীড়নের তথ্য প্রকাশ টানা দ্বিতীয় জয়ে লা লিগার শীর্ষে বার্সেলোনা স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ রানের সিংহাসন ফিরে পেলেন পোলার্ড নভেম্বরে তুরস্ক সফরে যাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চৌগাছায় সার বাজারে প্রশাসনের মনিটরিং, ১০ হাজার টাকা জরিমানা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্যে উত্তপ্ত সংসদ, বিরোধী দলের তীব্র প্রতিবাদ ও ওয়াকআউট কক্সবাজারে হোটেল বারে সংঘর্ষে ভাঙা গ্লাসের আঘাতে যুবক নিহত পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৫৩ হাজারের বেশি গ্রেপ্তার দেশের ৬৪ জেলায় আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন তদারকিতে ৩০ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-হুইপ

ফটিকছড়িতে ফলস ছাদে লুকিয়ে গুলি, গ্রেপ্তার দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:১৫:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে পুলিশের ওপর গুলি চালিয়ে পালানোর সময় ‘গলা কাটা মোবারক’ হিসেবে পরিচিত দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার লেলাং ইউনিয়নের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাঁকে ও তাঁর তিন সহযোগীকে আটক করে। মোবারক কারাগারে থাকা ডেভিড ইমনের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ হিসেবে পরিচিত।

পুলিশ জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার ভোরে লেলাং ইউনিয়নের শাহনগর এলাকায় ওই বাড়িটি ঘিরে ফেলে পুলিশ। বাড়ির লোহার দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশের সময় ওয়াশরুমের ফলস ছাদের ওপর লুকিয়ে থাকা মোবারক পুলিশের ওপর গুলি শুরু করেন। তিনি ব্রাজিলের তৈরি তরাস পিস্তল থেকে পরপর ছয়টি গুলি চালান। পুলিশের পাল্টা গুলিতেও সাতটি রাউন্ড ফায়ার হয়। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. তারেক আজিজসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হন। আহতদের মধ্যে ফটিকছড়ির ওসি রবিউল আলম খান, কনস্টেবল মামুনুর রশিদ, শাহ নেওয়াজ ও সাদ্দাম হোসেন রয়েছেন।

সপ্তম গুলিটি করার সময় মোবারকের অস্ত্রটি আটকে গেলে পুলিশ তাঁকে ছাদ থেকে নামিয়ে এনে গ্রেপ্তার করে। উদ্ধারকৃত পিস্তলটি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি থানা থেকে লুট হওয়া পুলিশের অস্ত্র বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। অভিযানে মোবারকের সহযোগী মো. রায়হান, মো. ফরিদ ও মো. নাছিরকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে ৩টি পিস্তল, ২৩টি পিস্তলের গুলি ও ৪টি শটগানের গুলি উদ্ধার করা হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. তারেক আজিজ জানান, মোবারককে গ্রেপ্তারের পর ফটিকছড়ি ও রাউজানে অস্ত্র উদ্ধারে বুধবার রাত ১০টা পর্যন্ত অভিযান চালানো হয়। উল্লেখ্য, আবছার উদ্দিন চৌধুরীর বাড়িতে গত ১৪ মে মোবারক তাঁর সহযোগীদের নিয়ে গুলি করেন। গত ২৯ জুলাই ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তারের পর পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফটিকছড়ির দুর্গম পাহাড়ে কয়েক দফা অভিযান চালানো হয়। সর্বশেষ সোমবার কাঞ্চননগরে অভিযান চালিয়ে মোবারকের আরও চার সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়। নিজেকে নিরাপদ মনে না করে মোবারক লেলাং ইউনিয়নের ওই বাসায় আশ্রয় নিয়েছিলেন।

গ্রেপ্তারের পর পুলিশ অস্ত্র লুট ও হামলার ঘটনায় দুটি মামলায় আদালতে মোবারকের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত চার দিন করে মোট আট দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রাউজান ও ফটিকছড়ির বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা মোবারক স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। এই গ্রেপ্তারে এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

ফটিকছড়িতে ফলস ছাদে লুকিয়ে গুলি, গ্রেপ্তার দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক

আপডেট সময় : ০৭:১৫:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে পুলিশের ওপর গুলি চালিয়ে পালানোর সময় ‘গলা কাটা মোবারক’ হিসেবে পরিচিত দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার লেলাং ইউনিয়নের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাঁকে ও তাঁর তিন সহযোগীকে আটক করে। মোবারক কারাগারে থাকা ডেভিড ইমনের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ হিসেবে পরিচিত।

পুলিশ জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার ভোরে লেলাং ইউনিয়নের শাহনগর এলাকায় ওই বাড়িটি ঘিরে ফেলে পুলিশ। বাড়ির লোহার দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশের সময় ওয়াশরুমের ফলস ছাদের ওপর লুকিয়ে থাকা মোবারক পুলিশের ওপর গুলি শুরু করেন। তিনি ব্রাজিলের তৈরি তরাস পিস্তল থেকে পরপর ছয়টি গুলি চালান। পুলিশের পাল্টা গুলিতেও সাতটি রাউন্ড ফায়ার হয়। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. তারেক আজিজসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হন। আহতদের মধ্যে ফটিকছড়ির ওসি রবিউল আলম খান, কনস্টেবল মামুনুর রশিদ, শাহ নেওয়াজ ও সাদ্দাম হোসেন রয়েছেন।

সপ্তম গুলিটি করার সময় মোবারকের অস্ত্রটি আটকে গেলে পুলিশ তাঁকে ছাদ থেকে নামিয়ে এনে গ্রেপ্তার করে। উদ্ধারকৃত পিস্তলটি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি থানা থেকে লুট হওয়া পুলিশের অস্ত্র বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। অভিযানে মোবারকের সহযোগী মো. রায়হান, মো. ফরিদ ও মো. নাছিরকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে ৩টি পিস্তল, ২৩টি পিস্তলের গুলি ও ৪টি শটগানের গুলি উদ্ধার করা হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. তারেক আজিজ জানান, মোবারককে গ্রেপ্তারের পর ফটিকছড়ি ও রাউজানে অস্ত্র উদ্ধারে বুধবার রাত ১০টা পর্যন্ত অভিযান চালানো হয়। উল্লেখ্য, আবছার উদ্দিন চৌধুরীর বাড়িতে গত ১৪ মে মোবারক তাঁর সহযোগীদের নিয়ে গুলি করেন। গত ২৯ জুলাই ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তারের পর পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফটিকছড়ির দুর্গম পাহাড়ে কয়েক দফা অভিযান চালানো হয়। সর্বশেষ সোমবার কাঞ্চননগরে অভিযান চালিয়ে মোবারকের আরও চার সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়। নিজেকে নিরাপদ মনে না করে মোবারক লেলাং ইউনিয়নের ওই বাসায় আশ্রয় নিয়েছিলেন।

গ্রেপ্তারের পর পুলিশ অস্ত্র লুট ও হামলার ঘটনায় দুটি মামলায় আদালতে মোবারকের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত চার দিন করে মোট আট দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রাউজান ও ফটিকছড়ির বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা মোবারক স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। এই গ্রেপ্তারে এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo