পাঁচ বছর পর ১৫ সেপ্টেম্বর মোংলা বন্দরে সিবিএ নির্বাচন
- আপডেট সময় : ০৪:২১:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

দীর্ঘ প্রায় পাঁচ বছরের বিরতি কাটিয়ে অবশেষে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্মচারী সংঘের (সিবিএ) দ্বিবার্ষিক নির্বাচন। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর গোপন ব্যালটের মাধ্যমে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হওয়ায় সাধারণ কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনের পরিচিত মুখগুলোর অন্তর্ভুক্তি নিয়ে এলাকায় নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের আলোচনা শুরু হয়েছে।
গত রোববার (২৩ আগস্ট) বিকেলে মোংলা বন্দর সিবিএ কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। তফসিল ঘোষণা করেন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান, মোংলা পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র মো. জুলফিকার আলী। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা কর্মচারী সংঘের নির্বাচন প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠে গড়াল।
তফসিল ঘোষণার এই অনুষ্ঠানে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সিবিএর সাবেক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব মো. সোহাগ, মোংলা পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নাসির তালুকদার, বিএনপি নেতা আ. রাজ্জাক, সিবিএর সাবেক নেতা জামাল উদ্দিন চৌধুরী জাহিদ, মোংলা পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব নুরউদ্দীন টুটুল এবং বাগেরহাট জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহসিন পাটোয়ারী।
ঘোষিত নির্বাচনী সময়সূচি অনুযায়ী, ২৩ আগস্ট খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। এই তালিকার ওপর যেকোনো আপত্তি ২৫ আগস্টের মধ্যে দাখিল করতে হবে। এরপর ২৭ আগস্ট আপত্তির শুনানি ও নিষ্পত্তি শেষে আগামী ৩০ আগস্ট চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।
পরবর্তী ধাপে ৩১ আগস্ট মনোনয়নপত্র বিক্রি শুরু হবে। প্রার্থীরা আগামী ২ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারবেন এবং ৩ সেপ্টেম্বর যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হবে। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ সেপ্টেম্বর। এরপর ৭ সেপ্টেম্বর প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে এবং ৮ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে। সব প্রক্রিয়া শেষে ১৫ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে গোপন ব্যালটে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান মো. জুলফিকার আলী জানান, ঘোষিত তফসিল মেনে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও সবার অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন উপহার দেওয়া হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচিত নতুন কমিটি সাধারণ কর্মচারীদের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি মোংলা বন্দরের কর্মপরিবেশ ও সাংগঠনিক গতিশীলতা রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।
নির্বাচনকে ঘিরে ইতোমধ্যে মোংলা বন্দরের কর্মচারীদের মাঝে নির্বাচনী আমেজ তৈরি হয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থী, প্যানেল গঠন এবং নেতৃত্ব নিয়ে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। দীর্ঘ সময় পর ভোটের মাধ্যমে নেতা নির্বাচনের সুযোগ পেয়ে সাধারণ ভোটারদের আগ্রহ এখন তুঙ্গে। প্রতীক বরাদ্দের পর আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হলে নির্বাচনী মাঠ আরও জমে উঠবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



























