গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশ: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির সতর্ক হিসাব
- আপডেট সময় : ০৭:৩৮:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

কবি ও শিক্ষক রফিক আজাদ ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের প্রেক্ষাপটে লিখেছিলেন ‘ভাত দে হারামজাদা নইলে মানচিত্র খাব’—যা মূলত ছিল এক দ্রোহের কবিতা। ব্যক্তি নয়, বরং প্রত্যাশার বিপরীতে হতাশা থেকে উৎসারিত সেই ক্ষোভ ছিল তৎকালীন বাংলাদেশের এক বাস্তব চিত্র। ছড়াকার আবু সালেহও লিখেছিলেন ‘ধরা যাবে না ছোঁয়া যাবে না বলা যাবে না কথা’, যা একাত্তর-পরবর্তী সময়ের বাক্স্বাধীনতাহীন এক অপরিচিত স্বদেশকেই ফুটিয়ে তুলেছিল।
১৯৭১, ১৯৭৫, ১৯৯০ এবং ২০২৪—প্রতিটি সময়ই ছিল প্রত্যাশার। তবে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান অতীতের সব ধারণাকে পাল্টে দিয়েছে। এই প্রথম বাংলাদেশে কোনো দোর্দণ্ড প্রতাপশালী ফ্যাসিস্ট জনতার রোষের ভয়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। ফ্যাসিবাদের পতনের পর নতুন সরকার ও সংসদের ছয় মাস পূর্ণ হয়েছে। এই সময়কাল খুব বড় নয়, আবার একেবারে নগণ্যও নয়। সরকারের সাফল্য হিসেবে খাল খনন, বৃক্ষরোপণ, বন্ধ কারখানা চালুর উদ্যোগ, ফ্যামিলিকার্ড এবং বেসরকারি শিক্ষকদের অবসর ভাতা প্রদানের কর্মসূচিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর ভারসাম্যমূলক অর্থনীতির ঘোষণাও একটি শুভ লক্ষণ।
তবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি খাত ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে। জ্বালানি খাতের সমস্যাগুলো পুরনো, কিন্তু সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর আগামী দুই বছরের জন্য ‘কিছু করার নেই’ এমন বক্তব্য অগ্রহণযোগ্য ও ফ্যাসিবাদী আচরণের প্রতিচ্ছবি বলে মনে করা হচ্ছে। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার ডিজেল প্ল্যান্টের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য করেছে, দেশের কয়লা বাদ দিয়ে ভারতীয় কয়লা আমদানি করেছে এবং মোদির পরামর্শে নেপাল ও ভুটানের চেয়ে চড়া মূল্যে আদানির বিদ্যুৎ কিনেছে। জ্বালানি সংকটের সমাধান না হলে সব উন্নয়ন প্রকল্প খেই হারাবে। সবাই মিলে বসে আন্তরিকতার সঙ্গে এগোনোর পথ নির্ধারণ করা গেলে মৌলিকভাবে এর সমাধান হতে পারে।
বর্তমানে মাদক, চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও সন্ত্রাস জনজীবনকে বিষিয়ে তুলেছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়া যেমন ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালের দুর্বৃত্তায়ন রুখে দিয়েছিলেন এবং বেগম খালেদা জিয়া কঠোর হাতে এসিড সন্ত্রাস ও অন্যান্য অপরাধ দমন করেছিলেন, বর্তমান সরকারকেও তেমনি জননিরাপত্তায় নজির স্থাপন করতে হবে। ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, রাজনৈতিক অসন্তোষ বাড়লে জননিরাপত্তা বাধাগ্রস্ত হয়। জুলাইকে ব্যর্থ করতে যারা তৎপর, তারাই জনজীবনকে অশান্ত করছে। এই প্রবণতা রুখতে দক্ষ ও যোগ্য নিয়ন্ত্রক প্রয়োজন। যা চলছে তা চলতে থাকলে সরকার ও সংসদের সাফল্য ম্লান হবে এবং জনগণের আস্থার প্রাচীরে ফাটল ধরবে।
বাংলাদেশের গত ৫৫ বছরের মধ্যে প্রায় ৩০ বছরই অগণতান্ত্রিক শাসন ছিল। ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানটি অন্যগুলোর চেয়ে আলাদা, কারণ এতে সাধারণ মানুষ জীবন তুচ্ছ করে ফ্যাসিবাদ ঠেকিয়েছে। জনগণ চায় সরকার ও সংসদ ফ্যাসিবাদের আমলের কর্মকাণ্ডের বিপরীতে তাদের প্রত্যাশা পূরণ করবে। প্রধানমন্ত্রীর কর্মপদ্ধতিতে পরিবর্তন এসেছে, তবে গণতন্ত্র রক্ষায় পেছানোর পথ সবার জন্য রুদ্ধ এবং এগোনোর পথই অবারিত। এই মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নিতে ভুল হলে তার মাশুল হবে মারাত্মক বিপর্যয়।
‘ভাত দে হারামজাদা নইলে মানচিত্র খাব’ কবিতাটি লিখেছিলেন কবি ও শিক্ষক রফিক আজাদ। এটি ’৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ নিয়ে লেখা। মূলত এটি দ্রোহের কবিতা। ব্যক্তি নয় বরং প্রত্যাশার বিপরীতে হতাশা থেকে উৎসারিত। একটু ভালোভাবেই বেঁচে থাকার নিমিত্তে গোটা জাতি আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়েছিল, মুক্তিযুদ্ধও করেছিল; কিন্তু তার বিপরীতে দুর্ভিক্ষ, মহামা
১৯৭১, ’৭৫, ’৯০ ও ২০২৪—প্রতিটি সময়ই ছিল প্রত্যাশার। ’২৪-এর গণঅভ্যুত্থান অতীতের যেকোনো পরিবর্তনের ধারণাকে পাল্টে দিয়েছে। সেই পরিবর্তনের সূত্র ধরে যে বাংলাদেশে আমরা দাঁড়িয়ে আছি, সেখানে প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির হিসাবটা অবশ্যই একটু সতর্কতার সঙ্গে মেলাতে হবে। এই প্রথম বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থানে জনতার রোষের ভয়ে এক দোর্দণ্ড প্রতাপশা





























