ঢাকা ০৭:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

শাহজালালে পড়ে থাকা ১২ উড়োজাহাজ ওজনে বিক্রির উদ্যোগ, বকেয়া ৪ হাজার কোটি

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৩:৫৪:৫০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬ ১৭ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজের উত্তর পাশে দীর্ঘ ১১ বছর ধরে পড়ে থাকা ৪টি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের ১২টি উড়োজাহাজ এখন বিমানবন্দরের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব উড়োজাহাজের কারণে বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বকেয়া প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা আদায়ে ব্যর্থ হয়ে এবং একাধিকবার নিলামেও ক্রেতা না পেয়ে শেষ পর্যন্ত এগুলো ওজনে (লোহা বা স্ক্র্যাপ হিসেবে) বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।

এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে গত ১৬ই জুলাই বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে বেবিচক। চিঠিতে বলা হয়েছে, উপযুক্ত ক্রেতা পাওয়া না গেলে উড়োজাহাজগুলো ওজন মেপে কোনো বড় প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। বর্তমানে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে সংস্থাটি। এই কাজে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সহযোগিতা চেয়েছে বেবিচক।

উড়োজাহাজগুলো বিমানবন্দরের ১ লাখ ৯২ হাজার ১০০ বর্গফুট এলাকা দখল করে রেখেছে। তৃতীয় টার্মিনাল চালুর পর কার্গো হ্যান্ডলিং ও লজিস্টিক সুবিধা বাড়াতে এই গুরুত্বপূর্ণ জায়গাটি দ্রুত খালি করা জরুরি হয়ে পড়েছে। উড়োজাহাজগুলো যেখানে রাখা হয়েছে সেটি বিমানবন্দরের অন্যতম প্রধান অপারেশনাল এলাকা, যেখান থেকে কার্গো কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ফলে নিয়মিত ও অনিয়মিত উড়োজাহাজ পার্কিংয়ে সমস্যা হচ্ছে, রপ্তানি পণ্য ওঠানামা ব্যাহত হচ্ছে এবং কার্গো পরিচালনায় চাপ বাড়ছে। মূল্যবান এই জায়গাটি দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় সরকার সম্ভাব্য রাজস্ব থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে।

পড়ে থাকা উড়োজাহাজগুলোর মধ্যে রয়েছে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের ৮টি, রিজেন্ট এয়ারওয়েজের ২টি, জিএমজি এয়ারলাইন্সের ১টি এবং অ্যাভিয়েন চার্টারের ১টি। আর্থিক লোকসান ও ঋণে জর্জরিত হয়ে এই কোম্পানিগুলো বন্ধ হয়ে যায়। এর মধ্যে ২০১২ সালে জিএমজি এয়ারলাইন্স, ২০১৬ সালে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ এবং ২০২০ সালের মার্চে করোনার শুরুতে রিজেন্ট এয়ারওয়েজ তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে। পার্কিং ফি ও সারচার্জ মিলিয়ে এই ৪ কোম্পানির কাছে বেবিচকের পাওনা প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে এককভাবে জিএমজি এয়ারলাইন্সের কাছেই বকেয়া রয়েছে ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি। এছাড়া ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের কাছে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা এবং বাকি টাকা রিজেন্ট ও অ্যাভিয়েন চার্টারের কাছে পাওনা।

বেবিচক কর্মকর্তারা জানান, উড়োজাহাজগুলো সরিয়ে নিতে কোম্পানিগুলোকে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হলেও তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। ২০২০ সালের ৪ঠা ফেব্রুয়ারি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে ৩০ দিনের চূড়ান্ত নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। এরপর বিষয়টি সরকারের প্রধান আইন কর্মকর্তার কার্যালয়ে পাঠানো হয় এবং অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেলের মতামত নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংককে অবহিত করা হয়। ২০২১ সালের শেষের দিকে এবং ২০২২ সালে আন্তর্জাতিক ও দেশীয় দরপত্র আহ্বান করা হলেও কোনো উপযুক্ত ক্রেতা পাওয়া যায়নি।

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা ক্রেতা না পাওয়ার পেছনে তিনটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছেন। প্রথমত, ১০-১১ বছর ধরে খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকায় উড়োজাহাজগুলোর ইঞ্জিন, ককপিটের যন্ত্রপাতি ও ল্যান্ডিং গিয়ার নষ্ট ও মরিচা ধরে অকেজো হয়ে গেছে। দ্বিতীয়ত, এগুলো ড্যাশ-৮, এমডি-৮৩, বোয়িং ৭৩৭-৩০০ এর মতো পুরনো মডেলের, যার ব্যবহার এখন বিশ্বব্যাপী সীমিত এবং যন্ত্রাংশ খুলে অন্য কোথাও বিক্রির বাজারও নেই। তৃতীয়ত, মালিকানাধীন কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে ব্যাংক ঋণ ও অন্যান্য পাওনাদারের মামলা থাকায় আইনি জটিলতার ভয়ে কোনো ক্রেতা আগ্রহ দেখাচ্ছে না।

আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী উড়োজাহাজগুলোর ভিত্তিমূল্য নির্ধারণে দেশে কোনো বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান নেই। বিদেশি প্রতিষ্ঠান দিয়ে মূল্যায়ন করতে যে খরচ হবে, তা সম্ভাব্য বিক্রয়মূল্যের চেয়েও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ অবস্থায় ভিত্তিমূল্য নির্ধারণ ছাড়াই আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বানের প্রস্তাব দিয়েছে বেবিচক, যাতে প্রতিযোগিতামূলকভাবে বাজারভিত্তিক সর্বোচ্চ দর নিশ্চিত করা যায়।

বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক বলেন, পরিত্যক্ত এসব উড়োজাহাজের জন্য বিমানবন্দরের অপারেশনাল কাজে ব্যাঘাত ঘটছে। বিক্রির জন্য অনেক দিন ধরে চেষ্টা করা হচ্ছে, কারণ উড়োজাহাজ কোম্পানিগুলোর কাছে বড় অঙ্কের পাওনা রয়েছে। সব বিষয় উল্লেখ করে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে তিনি জানান।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

শাহজালালে পড়ে থাকা ১২ উড়োজাহাজ ওজনে বিক্রির উদ্যোগ, বকেয়া ৪ হাজার কোটি

আপডেট সময় : ০৩:৫৪:৫০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজের উত্তর পাশে দীর্ঘ ১১ বছর ধরে পড়ে থাকা ৪টি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের ১২টি উড়োজাহাজ এখন বিমানবন্দরের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব উড়োজাহাজের কারণে বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বকেয়া প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা আদায়ে ব্যর্থ হয়ে এবং একাধিকবার নিলামেও ক্রেতা না পেয়ে শেষ পর্যন্ত এগুলো ওজনে (লোহা বা স্ক্র্যাপ হিসেবে) বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।

এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে গত ১৬ই জুলাই বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে বেবিচক। চিঠিতে বলা হয়েছে, উপযুক্ত ক্রেতা পাওয়া না গেলে উড়োজাহাজগুলো ওজন মেপে কোনো বড় প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। বর্তমানে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে সংস্থাটি। এই কাজে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সহযোগিতা চেয়েছে বেবিচক।

উড়োজাহাজগুলো বিমানবন্দরের ১ লাখ ৯২ হাজার ১০০ বর্গফুট এলাকা দখল করে রেখেছে। তৃতীয় টার্মিনাল চালুর পর কার্গো হ্যান্ডলিং ও লজিস্টিক সুবিধা বাড়াতে এই গুরুত্বপূর্ণ জায়গাটি দ্রুত খালি করা জরুরি হয়ে পড়েছে। উড়োজাহাজগুলো যেখানে রাখা হয়েছে সেটি বিমানবন্দরের অন্যতম প্রধান অপারেশনাল এলাকা, যেখান থেকে কার্গো কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ফলে নিয়মিত ও অনিয়মিত উড়োজাহাজ পার্কিংয়ে সমস্যা হচ্ছে, রপ্তানি পণ্য ওঠানামা ব্যাহত হচ্ছে এবং কার্গো পরিচালনায় চাপ বাড়ছে। মূল্যবান এই জায়গাটি দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় সরকার সম্ভাব্য রাজস্ব থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে।

পড়ে থাকা উড়োজাহাজগুলোর মধ্যে রয়েছে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের ৮টি, রিজেন্ট এয়ারওয়েজের ২টি, জিএমজি এয়ারলাইন্সের ১টি এবং অ্যাভিয়েন চার্টারের ১টি। আর্থিক লোকসান ও ঋণে জর্জরিত হয়ে এই কোম্পানিগুলো বন্ধ হয়ে যায়। এর মধ্যে ২০১২ সালে জিএমজি এয়ারলাইন্স, ২০১৬ সালে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ এবং ২০২০ সালের মার্চে করোনার শুরুতে রিজেন্ট এয়ারওয়েজ তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে। পার্কিং ফি ও সারচার্জ মিলিয়ে এই ৪ কোম্পানির কাছে বেবিচকের পাওনা প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে এককভাবে জিএমজি এয়ারলাইন্সের কাছেই বকেয়া রয়েছে ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি। এছাড়া ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের কাছে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা এবং বাকি টাকা রিজেন্ট ও অ্যাভিয়েন চার্টারের কাছে পাওনা।

বেবিচক কর্মকর্তারা জানান, উড়োজাহাজগুলো সরিয়ে নিতে কোম্পানিগুলোকে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হলেও তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। ২০২০ সালের ৪ঠা ফেব্রুয়ারি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে ৩০ দিনের চূড়ান্ত নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। এরপর বিষয়টি সরকারের প্রধান আইন কর্মকর্তার কার্যালয়ে পাঠানো হয় এবং অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেলের মতামত নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংককে অবহিত করা হয়। ২০২১ সালের শেষের দিকে এবং ২০২২ সালে আন্তর্জাতিক ও দেশীয় দরপত্র আহ্বান করা হলেও কোনো উপযুক্ত ক্রেতা পাওয়া যায়নি।

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা ক্রেতা না পাওয়ার পেছনে তিনটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছেন। প্রথমত, ১০-১১ বছর ধরে খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকায় উড়োজাহাজগুলোর ইঞ্জিন, ককপিটের যন্ত্রপাতি ও ল্যান্ডিং গিয়ার নষ্ট ও মরিচা ধরে অকেজো হয়ে গেছে। দ্বিতীয়ত, এগুলো ড্যাশ-৮, এমডি-৮৩, বোয়িং ৭৩৭-৩০০ এর মতো পুরনো মডেলের, যার ব্যবহার এখন বিশ্বব্যাপী সীমিত এবং যন্ত্রাংশ খুলে অন্য কোথাও বিক্রির বাজারও নেই। তৃতীয়ত, মালিকানাধীন কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে ব্যাংক ঋণ ও অন্যান্য পাওনাদারের মামলা থাকায় আইনি জটিলতার ভয়ে কোনো ক্রেতা আগ্রহ দেখাচ্ছে না।

আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী উড়োজাহাজগুলোর ভিত্তিমূল্য নির্ধারণে দেশে কোনো বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান নেই। বিদেশি প্রতিষ্ঠান দিয়ে মূল্যায়ন করতে যে খরচ হবে, তা সম্ভাব্য বিক্রয়মূল্যের চেয়েও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ অবস্থায় ভিত্তিমূল্য নির্ধারণ ছাড়াই আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বানের প্রস্তাব দিয়েছে বেবিচক, যাতে প্রতিযোগিতামূলকভাবে বাজারভিত্তিক সর্বোচ্চ দর নিশ্চিত করা যায়।

বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক বলেন, পরিত্যক্ত এসব উড়োজাহাজের জন্য বিমানবন্দরের অপারেশনাল কাজে ব্যাঘাত ঘটছে। বিক্রির জন্য অনেক দিন ধরে চেষ্টা করা হচ্ছে, কারণ উড়োজাহাজ কোম্পানিগুলোর কাছে বড় অঙ্কের পাওনা রয়েছে। সব বিষয় উল্লেখ করে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে তিনি জানান।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin