ঢাকা ১২:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মামলা করে দেন, নিজেই জেলে যাবো: নাহিদকে চ্যালেঞ্জ ইশরাকের এআই প্রযুক্তিতে স্বয়ংক্রিয় ওয়েবসাইট হ্যাকিং, বিশ্বজুড়ে নতুন নিরাপত্তাসংকট মিলানে সহিংস বিক্ষোভ, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ৫০০ সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত ঝিনাইদহে ঘুমন্ত জামাইকে কুপিয়ে হত্যা, শ্বশুর আটক আজ বিশ্ব পরিসংখ্যান দিবস, দেশেও পালিত হচ্ছে জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস নাটোরে বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১৪ পূজার ছুটিতে রাজধানী ছাড়ছেন মানুষ, বাড়তি ভাড়ায় ক্ষোভ বিক্ষোভে রণক্ষেত্র ফ্রান্স, আড়াই হাজারের বেশি গ্রেপ্তার চালকের ঘুম কেড়ে নিল ১৪ প্রাণ, নাটোরের মহাসড়কে শোকের মাতম আবাসন খাতে সফল ক্যারিয়ার গড়তে দক্ষতা ও প্রশিক্ষণের গুরুত্ব

যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে পাল্টা শুল্কের হুঁশিয়ারি কানাডার

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৪:১২:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬ ১৯ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বাণিজ্য আলোচনা শেষ মুহূর্তে ভেস্তে যাওয়ার পর দেশটির পণ্যের ওপর সমপরিমাণ পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। শনিবার মধ্যরাত থেকে ওয়াশিংটন কানাডীয় পণ্যের ওপর নতুন শুল্ক কার্যকর করার পরপরই অটোয়া এই 'ডলারের বদলে ডলার' নীতির সিদ্ধান্ত নেয়।

শুক্রবার রাতের সময়সীমা শেষ হওয়ার ঠিক আগে আলোচনা স্থগিতের ঘোষণা দিয়ে কার্নি বলেন, শেষ মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শর্তে পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা অন্যায্য ও অর্থনৈতিকভাবে অযৌক্তিক। তিনি জানান, এর ফলে যেকোনো চুক্তির নির্ভরযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। গত জুলাই থেকে দুই দেশের আলোচকরা নিবিড়ভাবে আলোচনা চালিয়ে আসছিলেন। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ১৯ অগাস্ট নাগাদ প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার (২৮ বিলিয়ন কানাডীয় ডলার) মূল্যের কানাডীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন। যদিও সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্প সাময়িকভাবে ওই শুল্ক স্থগিত করেছিলেন এবং উভয় দেশ একটি ভালো চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে জানিয়েছিলেন।

তবে চুক্তির সময়সীমা শেষ হওয়ার কয়েক মিনিট আগে কার্নি জানান, আলোচনায় অগ্রগতি হলেও তা কানাডীয়দের লক্ষ্য পূরণের জন্য যথেষ্ট ছিল না। তিনি বলেন, এর ফলে আজ সন্ধ্যায় আমি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং আলোচকদের অটোয়ায় ফিরে আসার নির্দেশ দিয়েছি। এদিকে কানাডার প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এক বিবৃতিতে বলেছেন, কানাডা এ সপ্তাহের শুরুতে সম্মত হওয়া শর্ত অনুযায়ী বাণিজ্য চুক্তিটি চূড়ান্ত করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তিনি দাবি করেন, কানাডার নতুন কিছু দাবি এবং আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসার কারণে আলোচনার ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে।

এর আগে আলোচকরা কানাডার ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ এবং কানাডীয় গাড়ির ওপর শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করার বিষয়ে আলোচনা করছিলেন। বিনিময়ে কার্নি কানাডার প্রদেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের মদ বিক্রির অনুমতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। এখন আলোচনা ভেস্তে যাওয়ায় ট্রাম্প ১৯৩০ সালের ট্যারিফ অ্যাক্ট অনুযায়ী কানাডার ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করতে চলেছেন, যা ওয়াইন, দুগ্ধজাত পণ্য, সিমেন্ট, পোশাক ও হকি সরঞ্জামসহ বিভিন্ন পণ্যের ওপর কার্যকর হবে।

কানাডার সবচেয়ে বড় প্রদেশ অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড প্রধানমন্ত্রীর এই কঠোর অবস্থানের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন। অ্যাবাকাস ডেটার সাম্প্রতিক জনমত জরিপ অনুযায়ী, ৩৬ শতাংশ কানাডীয় এই পাল্টা শুল্কের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা শুল্ক সহ্য করবে না, যা দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি করেছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে পাল্টা শুল্কের হুঁশিয়ারি কানাডার

আপডেট সময় : ০৪:১২:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বাণিজ্য আলোচনা শেষ মুহূর্তে ভেস্তে যাওয়ার পর দেশটির পণ্যের ওপর সমপরিমাণ পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। শনিবার মধ্যরাত থেকে ওয়াশিংটন কানাডীয় পণ্যের ওপর নতুন শুল্ক কার্যকর করার পরপরই অটোয়া এই 'ডলারের বদলে ডলার' নীতির সিদ্ধান্ত নেয়।

শুক্রবার রাতের সময়সীমা শেষ হওয়ার ঠিক আগে আলোচনা স্থগিতের ঘোষণা দিয়ে কার্নি বলেন, শেষ মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শর্তে পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা অন্যায্য ও অর্থনৈতিকভাবে অযৌক্তিক। তিনি জানান, এর ফলে যেকোনো চুক্তির নির্ভরযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। গত জুলাই থেকে দুই দেশের আলোচকরা নিবিড়ভাবে আলোচনা চালিয়ে আসছিলেন। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ১৯ অগাস্ট নাগাদ প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার (২৮ বিলিয়ন কানাডীয় ডলার) মূল্যের কানাডীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন। যদিও সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্প সাময়িকভাবে ওই শুল্ক স্থগিত করেছিলেন এবং উভয় দেশ একটি ভালো চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে জানিয়েছিলেন।

তবে চুক্তির সময়সীমা শেষ হওয়ার কয়েক মিনিট আগে কার্নি জানান, আলোচনায় অগ্রগতি হলেও তা কানাডীয়দের লক্ষ্য পূরণের জন্য যথেষ্ট ছিল না। তিনি বলেন, এর ফলে আজ সন্ধ্যায় আমি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং আলোচকদের অটোয়ায় ফিরে আসার নির্দেশ দিয়েছি। এদিকে কানাডার প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এক বিবৃতিতে বলেছেন, কানাডা এ সপ্তাহের শুরুতে সম্মত হওয়া শর্ত অনুযায়ী বাণিজ্য চুক্তিটি চূড়ান্ত করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তিনি দাবি করেন, কানাডার নতুন কিছু দাবি এবং আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসার কারণে আলোচনার ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে।

এর আগে আলোচকরা কানাডার ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ এবং কানাডীয় গাড়ির ওপর শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করার বিষয়ে আলোচনা করছিলেন। বিনিময়ে কার্নি কানাডার প্রদেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের মদ বিক্রির অনুমতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। এখন আলোচনা ভেস্তে যাওয়ায় ট্রাম্প ১৯৩০ সালের ট্যারিফ অ্যাক্ট অনুযায়ী কানাডার ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করতে চলেছেন, যা ওয়াইন, দুগ্ধজাত পণ্য, সিমেন্ট, পোশাক ও হকি সরঞ্জামসহ বিভিন্ন পণ্যের ওপর কার্যকর হবে।

কানাডার সবচেয়ে বড় প্রদেশ অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড প্রধানমন্ত্রীর এই কঠোর অবস্থানের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন। অ্যাবাকাস ডেটার সাম্প্রতিক জনমত জরিপ অনুযায়ী, ৩৬ শতাংশ কানাডীয় এই পাল্টা শুল্কের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা শুল্ক সহ্য করবে না, যা দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি করেছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh