ঢাকা ০৩:৫৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১৬ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করলেন বাবর আজম ইশরাকের পদত্যাগের খবর ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত: প্রেস কর্মকর্তা আবাসন ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিতে ইউরোপজুড়ে তীব্র ক্ষোভ, ছড়াচ্ছে বিক্ষোভ দুর্গাপূজা নিয়ে জামায়াত-শিবির-এনসিপি চক্রান্ত করছে: ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক ট্রাম্পের আহ্বানের মধ্যেও রাশিয়ায় ইউক্রেনের বড় ড্রোন হামলা, নিহত ১ লালমোহনে মা ইলিশ রক্ষা অভিযানে জাল জব্দ, বিতরণে এতিমখানা মুম্বাইয়ে ফুটবল খেলে ফেরার পথে টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে গুলি সংসদ ভবনের সামনে শিক্ষিকার মৃত্যুর মামলায় আসামি রাকিবের জামিন লোরকা থেকে এভারেট: পাঠজীবন ও লেখার গল্প শোনালেন রেবেকা পেরি সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: আগে না জানানোয় ঢাকার উদ্বেগ

ফেসবুক ও বিবাহ বিচ্ছেদ: গবেষণায় উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১২:২৫:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬ ২৫ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে ফেসবুকের যাত্রা শুরু হয়েছিল মানুষকে একে অপরের কাছাকাছি আনার জন্য, কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে এটি অনেক সময় সম্পর্কের দূরত্ব তৈরির মাধ্যম হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ফেসবুকের কারণে দম্পতিদের মধ্যে সন্দেহ ও অবিশ্বাসের জন্ম নিচ্ছে, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে এটি বিচ্ছেদের কারণ হিসেবেও উঠে আসছে। ব্রিটিশ আইনি সংস্থা ‘ডিভোর্স অনলাইন’ পাঁচ হাজার বিচ্ছেদের আবেদন পর্যালোচনা করে জানিয়েছে, বিশ্বে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বিবাহ বিচ্ছেদের পেছনে ফেসবুকের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। সংস্থাটির মতে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে দম্পতিদের পরস্পরবিদ্বেষী বিবৃতি, বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে সন্দেহজনক ফেসবুক ব্যবহার এবং ইন্টারনেটে আপত্তিকর ছবি প্রকাশ বিয়ে-বিচ্ছেদের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

‘ফেসবুক অ্যান্ড ইউর ম্যারেজ’ গ্রন্থের লেখক কে জেসন ক্রাফস্কির মতে, সামাজিক যোগাযোগ সাইটগুলো প্রচলিত প্রেম-নিবেদনের মাধ্যমের চেয়ে ভিন্ন। এখানে খুব সহজেই পুরোনো বন্ধুর পাশাপাশি মাত্র এক বা দুদিনের পরিচিতদের সাথেও যোগাযোগ স্থাপন করা যায় এবং দীর্ঘ সময় ধরে পরকীয়া বা গোপনে প্রেম চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকে, যেখানে ধরা পড়ার ঝুঁকি কম। তার মতে, কর্মস্থল কিংবা বাড়ির বাইরের রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতাগুলো ফেসবুকে মাউসের একটি ক্লিকেই বাস্তব রূপ নেয়। বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক জেমস ই. কাটজ এবং তার দল আমেরিকার ৪৩টি রাজ্যে সমীক্ষা চালিয়ে দেখেছেন, ফেসবুক ব্যবহারকারীদের মধ্যে ৩২ শতাংশের ক্ষেত্রে বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটছে। গবেষণায় দেখা গেছে, কোনো এলাকায় ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২০ শতাংশ বাড়লে পরের বছর সে এলাকায় ৪ শতাংশ পর্যন্ত বিচ্ছেদের সম্ভাবনা থাকে।

তবে গবেষকরা ফেসবুক ব্যবহার এবং বিচ্ছেদের মধ্যে যোগসূত্র খুঁজে পেলেও, এটিই বিচ্ছেদের একমাত্র কারণ বা এর মধ্যে সরাসরি কার্যকারণ সম্পর্ক আছে বলে দাবি করেননি। নর্থ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক ড. ট্র্যাসি অ্যালওয়ের নেতৃত্বে পরিচালিত আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, ফেসবুক ব্যবহারকারীদের মধ্যে কিছু ফিচার স্বার্থপরতা বাড়ালেও, চ্যাটের মতো কিছু ফিচার সহানুভূতি জাগিয়ে তোলে। ১৮-৫০ বছর বয়সী ফেসবুক ব্যবহারকারীদের ওপর পরিচালিত এই গবেষণায় দেখা গেছে, যারা দিনে প্রায় দুই ঘণ্টা ফেসবুক ব্যবহার করেন এবং যাদের পাঁচ শতাধিক বন্ধু রয়েছে, তাদের ৮৯.৫ শতাংশেরই প্রোফাইল ছবি রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ইন্টারনেটের সঠিক ব্যবহার মেধার বিকাশে সহায়তা করলেও অতিরিক্ত ব্যবহারের নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে। অতিরিক্ত ফেসবুক ব্যবহারের ফলে বিষণ্নতা, মেজাজ খিটখিটে হওয়া এবং ক্ষুধামন্দার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এছাড়া দাম্পত্য জীবনে সঙ্গীকে একা ফেসবুক ব্যবহার করতে দেখলে সন্দেহের অবকাশ তৈরি হয়। কম্পিউটার্স ইন হিউম্যান বিহেভিয়ার সাময়িকীর এক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগ সাইটে বেশি সময় দেওয়া ব্যক্তিরা দাম্পত্য জীবনে অসুখী হতে পারেন, এমনকি বিচ্ছেদের কথাও ভাবতে পারেন। বর্তমানে বাংলাদেশেও একই ধরনের প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যেখানে ফেসবুকের মাধ্যমে উষ্ণ আবেদনময় তথ্য আদান-প্রদান করে মনের অজান্তেই অনেকে গোপন প্রেম বা পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ছেন, যা তাদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে। তাই ফেসবুক ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

৪০০ জনের বেশি ফেসবুক ব্যবহারকারীর ওপর পরিচালিত গবেষণায় এ প্রমাণ মিলেছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরার্ষ্টের গবেষকরা।

ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা যায়, যারা দিনে প্রায় দুই ঘণ্টা ফেসবুক ব্যবহার করেন, তাদের কমপক্ষে ৫০০ জন বন্ধু রয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

ফেসবুক ও বিবাহ বিচ্ছেদ: গবেষণায় উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

আপডেট সময় : ১২:২৫:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে ফেসবুকের যাত্রা শুরু হয়েছিল মানুষকে একে অপরের কাছাকাছি আনার জন্য, কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে এটি অনেক সময় সম্পর্কের দূরত্ব তৈরির মাধ্যম হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ফেসবুকের কারণে দম্পতিদের মধ্যে সন্দেহ ও অবিশ্বাসের জন্ম নিচ্ছে, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে এটি বিচ্ছেদের কারণ হিসেবেও উঠে আসছে। ব্রিটিশ আইনি সংস্থা ‘ডিভোর্স অনলাইন’ পাঁচ হাজার বিচ্ছেদের আবেদন পর্যালোচনা করে জানিয়েছে, বিশ্বে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বিবাহ বিচ্ছেদের পেছনে ফেসবুকের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। সংস্থাটির মতে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে দম্পতিদের পরস্পরবিদ্বেষী বিবৃতি, বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে সন্দেহজনক ফেসবুক ব্যবহার এবং ইন্টারনেটে আপত্তিকর ছবি প্রকাশ বিয়ে-বিচ্ছেদের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

‘ফেসবুক অ্যান্ড ইউর ম্যারেজ’ গ্রন্থের লেখক কে জেসন ক্রাফস্কির মতে, সামাজিক যোগাযোগ সাইটগুলো প্রচলিত প্রেম-নিবেদনের মাধ্যমের চেয়ে ভিন্ন। এখানে খুব সহজেই পুরোনো বন্ধুর পাশাপাশি মাত্র এক বা দুদিনের পরিচিতদের সাথেও যোগাযোগ স্থাপন করা যায় এবং দীর্ঘ সময় ধরে পরকীয়া বা গোপনে প্রেম চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকে, যেখানে ধরা পড়ার ঝুঁকি কম। তার মতে, কর্মস্থল কিংবা বাড়ির বাইরের রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতাগুলো ফেসবুকে মাউসের একটি ক্লিকেই বাস্তব রূপ নেয়। বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক জেমস ই. কাটজ এবং তার দল আমেরিকার ৪৩টি রাজ্যে সমীক্ষা চালিয়ে দেখেছেন, ফেসবুক ব্যবহারকারীদের মধ্যে ৩২ শতাংশের ক্ষেত্রে বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটছে। গবেষণায় দেখা গেছে, কোনো এলাকায় ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২০ শতাংশ বাড়লে পরের বছর সে এলাকায় ৪ শতাংশ পর্যন্ত বিচ্ছেদের সম্ভাবনা থাকে।

তবে গবেষকরা ফেসবুক ব্যবহার এবং বিচ্ছেদের মধ্যে যোগসূত্র খুঁজে পেলেও, এটিই বিচ্ছেদের একমাত্র কারণ বা এর মধ্যে সরাসরি কার্যকারণ সম্পর্ক আছে বলে দাবি করেননি। নর্থ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক ড. ট্র্যাসি অ্যালওয়ের নেতৃত্বে পরিচালিত আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, ফেসবুক ব্যবহারকারীদের মধ্যে কিছু ফিচার স্বার্থপরতা বাড়ালেও, চ্যাটের মতো কিছু ফিচার সহানুভূতি জাগিয়ে তোলে। ১৮-৫০ বছর বয়সী ফেসবুক ব্যবহারকারীদের ওপর পরিচালিত এই গবেষণায় দেখা গেছে, যারা দিনে প্রায় দুই ঘণ্টা ফেসবুক ব্যবহার করেন এবং যাদের পাঁচ শতাধিক বন্ধু রয়েছে, তাদের ৮৯.৫ শতাংশেরই প্রোফাইল ছবি রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ইন্টারনেটের সঠিক ব্যবহার মেধার বিকাশে সহায়তা করলেও অতিরিক্ত ব্যবহারের নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে। অতিরিক্ত ফেসবুক ব্যবহারের ফলে বিষণ্নতা, মেজাজ খিটখিটে হওয়া এবং ক্ষুধামন্দার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এছাড়া দাম্পত্য জীবনে সঙ্গীকে একা ফেসবুক ব্যবহার করতে দেখলে সন্দেহের অবকাশ তৈরি হয়। কম্পিউটার্স ইন হিউম্যান বিহেভিয়ার সাময়িকীর এক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগ সাইটে বেশি সময় দেওয়া ব্যক্তিরা দাম্পত্য জীবনে অসুখী হতে পারেন, এমনকি বিচ্ছেদের কথাও ভাবতে পারেন। বর্তমানে বাংলাদেশেও একই ধরনের প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যেখানে ফেসবুকের মাধ্যমে উষ্ণ আবেদনময় তথ্য আদান-প্রদান করে মনের অজান্তেই অনেকে গোপন প্রেম বা পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ছেন, যা তাদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে। তাই ফেসবুক ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

৪০০ জনের বেশি ফেসবুক ব্যবহারকারীর ওপর পরিচালিত গবেষণায় এ প্রমাণ মিলেছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরার্ষ্টের গবেষকরা।

ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা যায়, যারা দিনে প্রায় দুই ঘণ্টা ফেসবুক ব্যবহার করেন, তাদের কমপক্ষে ৫০০ জন বন্ধু রয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh